অনুসরণ করুন:
মঙ্গলবার, ৪ আগস্ট ২০২৬

দক্ষিণ লেবাননে ইসরাইলের ফসফরাস বোমা হামলার অভিযোগ, ব্যাপক অগ্নিকাণ্ড

অভিযান শেষে ১,২০০-এর বেশি স্থাপনা ধ্বংসের দাবি ইসরায়েলের

দক্ষিণ লেবাননের একাধিক এলাকায় ইসরায়েলি বাহিনী ফসফরাসসমৃদ্ধ গোলাবারুদ ব্যবহার করেছে বলে অভিযোগ করেছে দেশটির সরকারি বার্তা সংস্থা ন্যাশনাল নিউজ এজেন্সি (এনএনএ)। সোমবার প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, এ হামলার ফলে বিভিন্ন এলাকায় জলপাই ও পাইন বাগানে বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে।

এনএনএর তথ্যমতে, নাবাতিয়েহ গভর্নরেটের ইয়ারুন, আরনুন এবং বিন্ত জুবাইল এলাকার বিস্তীর্ণ বন ও বাগানে ফসফরাস বোমা নিক্ষেপ করা হয়। এতে দ্রুত আগুন ছড়িয়ে পড়ে এবং কৃষিজমি ও গাছপালার ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে বলে জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, নাবাতিয়েহর নিকটবর্তী আলি আল-তাহের পাহাড় এলাকায় ইসরায়েলি বাহিনী দুটি ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। পাশাপাশি দক্ষিণাঞ্চলের উপকূলীয় শহর টায়ার-এর বাইত আল-সাইয়াদ এলাকায় একটি ইসরায়েলি ড্রোন থেকে স্টান গ্রেনেড নিক্ষেপের অভিযোগও করা হয়েছে। তবে এসব ঘটনার বিষয়ে ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

এরই মধ্যে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) জানিয়েছে, দক্ষিণ লেবাননে তাদের ৪০১তম ব্রিগেডের দীর্ঘমেয়াদি অভিযান শেষ হয়েছে। রোববার প্রকাশিত এক বিবৃতিতে আইডিএফ জানায়, ৯১তম ডিভিশনের অধীনে থাকা ব্রিগেডটি গত আট মাস ধরে সীমান্ত এলাকায় অভিযান পরিচালনা করেছে।

ইসরায়েলের দাবি, অভিযানের সময় সীমান্তজুড়ে প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা জোরদারের পাশাপাশি দক্ষিণ লেবাননের তথাকথিত নিরাপত্তা অঞ্চলে একাধিক সামরিক অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। এসব অভিযানে হিজবুল্লাহর ব্যবহৃত বলে দাবি করা ১ হাজার ২০০টিরও বেশি সামরিক স্থাপনা ধ্বংস করা হয়েছে। এছাড়া শত শত মিটার দীর্ঘ ভূগর্ভস্থ সুড়ঙ্গ শনাক্ত ও ধ্বংস, ৬০০টির বেশি অস্ত্র উদ্ধার এবং ৬০ জনের বেশি হিজবুল্লাহ সদস্য নিহত হওয়ার দাবিও করেছে আইডিএফ।

তবে ইসরায়েলের এসব দাবির স্বাধীন বা নিরপেক্ষ কোনো যাচাই এখন পর্যন্ত সম্ভব হয়নি। অন্যদিকে, ফসফরাস বোমা ব্যবহারের অভিযোগ সম্পর্কেও ইসরায়েল আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি।

উল্লেখ্য, দক্ষিণ লেবানন সীমান্তে ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে সংঘাত চলমান। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে সীমান্তজুড়ে হামলা-পাল্টা হামলা, ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র আক্রমণের ঘটনা বেড়েছে। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় দাহ্য অস্ত্র ব্যবহারের অভিযোগ নিয়ে অতীতেও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তবে প্রতিটি ঘটনার ক্ষেত্রে নিরপেক্ষ আন্তর্জাতিক তদন্তের দাবি জানিয়ে আসছে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো।

তথ্যসূত্র: National News Agency (Lebanon), Israel Defense Forces (IDF) statement।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন