সোমবার, ৩ আগস্ট ২০২৬

গাজার ধ্বংসস্তূপে উদ্ধার আরও ১১২ মরদেহ, নিখোঁজদের খোঁজে অব্যাহত উদ্ধার অভিযান

দীর্ঘদিনের যুদ্ধ ও ধারাবাহিক বিমান হামলায় বিধ্বস্ত গাজায় ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে নিখোঁজদের খোঁজে উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে। সর্বশেষ উদ্ধার তৎপরতায় গাজা সিটির সাবরা এলাকা থেকে আরও ১১২ জনের মরদেহ ও দেহাবশেষ উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ।

গাজার বেসামরিক প্রতিরক্ষা সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, দক্ষিণ গাজা সিটির সাবরা এলাকায় প্রায় ১৩৬ ঘণ্টাব্যাপী টানা অনুসন্ধান চালিয়ে এসব মরদেহ উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে ৪০ জন শিশু, ৩৮ জন নারী এবং সাতজন শারীরিক প্রতিবন্ধী ব্যক্তি রয়েছেন। সংস্থাটি জানিয়েছে, ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে থাকা আরও অনেকের সন্ধানে অভিযান এখনও চলছে।

উদ্ধার কার্যক্রমে সহায়তা করেছে আন্তর্জাতিক রেডক্রস কমিটি (আইসিআরসি)। সংস্থাটির গাজাভিত্তিক মুখপাত্র আমানি আল-নাউক বলেন, দীর্ঘ সময় ধরে হাজারো পরিবার তাদের স্বজনদের খোঁজে অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। অনেকেই শুধু প্রিয়জনের মরদেহ ফিরে পাওয়ার অপেক্ষায় আছেন, যাতে ধর্মীয় ও সামাজিক মর্যাদার সঙ্গে শেষকৃত্য সম্পন্ন করতে পারেন।

তার ভাষায়, নিখোঁজ ব্যক্তিদের শনাক্ত করা এবং মানবদেহের দেহাবশেষ উদ্ধার করা কেবল একটি প্রশাসনিক কাজ নয়, এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ মানবিক দায়িত্ব।

গাজার বেসামরিক প্রতিরক্ষা সংস্থার দায়িত্বশীল কর্মকর্তা কর্নেল মোহাম্মদ আবু দান জানিয়েছেন, সাবরা এলাকায় এখনও অন্তত ১৫৭টি মরদেহ ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে আছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে ভারী কংক্রিট, ধসে পড়া ভবনের কাঠামো এবং বিকৃত ধাতব অংশের কারণে উদ্ধারকাজ অত্যন্ত জটিল ও সময়সাপেক্ষ হয়ে উঠেছে।

স্থানীয় কর্তৃপক্ষের মতে, গাজার বিভিন্ন এলাকায় এখনও হাজারো মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। ধারণা করা হচ্ছে, তাদের অনেকেই ইসরাইলি হামলায় বিধ্বস্ত ভবনের নিচে চাপা পড়ে আছেন। প্রয়োজনীয় ভারী যন্ত্রপাতি, জ্বালানি ও উদ্ধার সরঞ্জামের ঘাটতির কারণে অনেক স্থানে অভিযান ধীরগতিতে এগোচ্ছে।

এদিকে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, গাজায় সাংবাদিকদের চলাচলে নানা বিধিনিষেধ এবং সংঘাতপূর্ণ এলাকায় সীমিত প্রবেশাধিকারের কারণে হতাহতের প্রকৃত সংখ্যা স্বাধীনভাবে যাচাই করা কঠিন হয়ে পড়েছে।

হামাস-নিয়ন্ত্রিত গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ তথ্যমতে, চলমান যুদ্ধে ৭৩ হাজার ৩০০ জনের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। জাতিসংঘ এই পরিসংখ্যানকে পরিকল্পনা ও মানবিক কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষেত্রে গ্রহণযোগ্য হিসেবে বিবেচনা করে, যদিও স্বাধীনভাবে প্রতিটি সংখ্যা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

বর্তমান যুদ্ধের সূত্রপাত হয় ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর, যখন হামাসের যোদ্ধারা দক্ষিণ ইসরাইলে আকস্মিক হামলা চালায়। ইসরাইলের সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ওই হামলায় ১ হাজার ২২১ জন নিহত হন এবং ২৫১ জনকে জিম্মি করে গাজায় নিয়ে যাওয়া হয়। ১৯৪৮ সালে ইসরাইল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পর এটিকে দেশটির ইতিহাসের সবচেয়ে প্রাণঘাতী হামলাগুলোর একটি হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

এরপর থেকে ইসরাইলের ব্যাপক সামরিক অভিযানে গাজার বিস্তীর্ণ এলাকা ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। আবাসিক ভবন, হাসপাতাল, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর বড় অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। একই সঙ্গে মানবিক সংকট, খাদ্য ও ওষুধের ঘাটতি এবং বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা ক্রমাগত বাড়ছে।

মানবাধিকার সংস্থা ও আন্তর্জাতিক ত্রাণ সংস্থাগুলো যুদ্ধবিরতি, বেসামরিক মানুষের সুরক্ষা এবং ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে থাকা নিখোঁজদের দ্রুত উদ্ধারে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদারের আহ্বান জানিয়ে আসছে।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন