অনুসরণ করুন:
রবিবার, ২ আগস্ট ২০২৬

গাজীপুরে গৃহবধূ হত্যা: ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে প্রধান আসামি গ্রেপ্তার, তদন্তে পিবিআই

গাজীপুর: গাজীপুর মহানগরীর বাসন থানা এলাকায় এক গৃহবধূ হত্যার ঘটনায় প্রধান আসামিকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেপ্তারের দাবি করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। একই সঙ্গে ঘটনার সঙ্গে অন্য কারও সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

পিবিআই সূত্রে জানা গেছে, গত ২৯ জুলাই বাসন থানার পালেরপাড়া এলাকায় স্বামীর বাড়ি থেকে মিম আক্তারের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তার মাথা, কপালসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন ছিল। খবর পেয়ে থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রাথমিক কার্যক্রম শুরু করলে পিবিআই সদস্যরাও সেখানে উপস্থিত হয়ে ছায়া তদন্তে অংশ নেন।

এ ঘটনায় নিহতের ভাই মো. শহীদুল ইসলাম বাদী হয়ে নিহতের স্বামী আলম হোসেন ও তার মা জাহানারা বেগমের বিরুদ্ধে বাসন থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। পরদিন ৩০ জুলাই পিবিআই আনুষ্ঠানিকভাবে মামলার তদন্তভার গ্রহণ করে।

তদন্তের অংশ হিসেবে পুলিশ পরিদর্শক মো. রফিকুল ইসলাম জামানের নেতৃত্বে অভিযান চালানো হয়। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা এবং সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী ইউনিটগুলোর সহযোগিতায় একই দিন ভোরে বরিশাল কোতোয়ালি থানার লঞ্চঘাট এলাকা থেকে প্রধান আসামি আলম হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পিবিআইর প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে, নিহত মিম একটি পোশাক কারখানায় কর্মরত ছিলেন এবং তার স্বামী অটোরিকশা চালাতেন। তদন্তকারীদের ভাষ্য অনুযায়ী, পারিবারিক অর্থনৈতিক বিষয় ও স্বামীর জুয়া ও মাদকাসক্তিকে কেন্দ্র করে দাম্পত্য কলহ চলছিল। ঘটনার কয়েকদিন আগে বেতনের কিছু অর্থ নিয়ে বিরোধের জেরে পারিবারিক উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে মিম সাময়িকভাবে বোনের বাসায় চলে গেলেও পরে পরিবারের সদস্যদের অনুরোধে আবার স্বামীর বাড়িতে ফিরে আসেন।

তদন্তে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পিবিআইর দাবি, ২৮ জুলাই গভীর রাতে বা ভোরের দিকে ঘুমন্ত অবস্থায় মিমের ওপর ধারালো অস্ত্র দিয়ে হামলা চালানো হয়, এতে তার মৃত্যু হয়। ঘটনার পর অভিযুক্ত ব্যক্তি ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন বলে তদন্তে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।

গ্রেপ্তার হওয়া আলম হোসেনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ড আবেদনসহ আদালতে পাঠানো হয়েছে। এছাড়া হত্যাকাণ্ডে অন্য কোনো ব্যক্তি সহায়তা করেছে কি না, সে বিষয়েও তদন্ত অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে পিবিআই।

পিবিআই জানিয়েছে, মামলার তদন্ত এখনো চলমান এবং তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন