শুক্রবার, ২৮ আগস্ট ২০২৬

রাষ্ট্র ও জনগণের স্বার্থই হবে একমাত্র লক্ষ্য: রাষ্ট্রপতি

রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালন এবং রাষ্ট্রের সার্বিক কল্যাণে সম্পূর্ণ দলনিরপেক্ষভাবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন, রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণের আগে দল, সংসদ ও মন্ত্রিপরিষদ থেকে পদত্যাগ করেছেন তিনি। ফলে এখন কোনো দলীয় পরিচয়ের বাইরে থেকে রাষ্ট্র ও জনগণের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দায়িত্ব পালন করবেন।

বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টায় বঙ্গভবনের দরবার হলে কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের নিয়ে অনুষ্ঠিত রাষ্ট্রপতির প্রথম দরবারে তিনি এসব কথা বলেন।

রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণের আগে আমি দল, সংসদ ও মন্ত্রিপরিষদ থেকে পদত্যাগ করে এসেছি। আমি এখন সম্পূর্ণভাবে একজন দলনিরপেক্ষ মানুষ। দলনিরপেক্ষভাবেই আমি আমার দায়িত্ব পালন করে যাব।’

তিনি বলেন, রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে কারও প্রতি তাঁর কোনো রাগ বা অনুরাগ থাকবে না। দেশ, রাষ্ট্র ও জনগণের স্বার্থই হবে তাঁর একমাত্র লক্ষ্য।

রাষ্ট্রপতি আরও বলেন, যেকোনো পরিস্থিতিতে জনগণের আস্থা অর্জনের জন্য সততা, নিষ্ঠা, আন্তরিকতা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করতে হবে। বঙ্গভবনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদেরও দেশের প্রতি, দেশের মানুষের প্রতি ভালোবাসা, সম্মান ও আনুগত্য বজায় রেখে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান তিনি।

বঙ্গভবনের মর্যাদা ও গোপনীয়তা রক্ষার আহ্বান

বঙ্গভবনের ইতিহাস ও ঐতিহ্যের কথা তুলে ধরে রাষ্ট্রপতি বলেন, বঙ্গভবন রাষ্ট্রীয় মর্যাদা ও সার্বভৌমত্বের প্রতীক। তাই এর মর্যাদা ও ভাবমূর্তি অক্ষুণ্ন রাখতে সবাইকে দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করতে হবে।

রাষ্ট্রপতি বলেন, বঙ্গভবনের দৈনন্দিন কার্যক্রম এবং গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্ত-সংক্রান্ত বিষয়গুলো অত্যন্ত কঠোরভাবে গোপনীয়তা বজায় রেখে পরিচালনা করতে হবে। রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা যাতে কোনোভাবেই বিঘ্নিত না হয়, সে বিষয়েও সবাইকে সতর্ক থাকার নির্দেশনা দেন তিনি।

রাষ্ট্রীয় ব্যয়ে সাশ্রয় ও জবাবদিহিতার ওপর গুরুত্ব

রাষ্ট্রীয় সম্পদের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে সাশ্রয়ী ও দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানান রাষ্ট্রপতি। তিনি বলেন, জনগণের অর্থেই সরকারি সম্পদ ও বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা পরিচালিত হয়। তাই এসব সম্পদের ব্যবহার হতে হবে দায়িত্বশীল, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক।

একই সঙ্গে অপচয় রোধে সবাইকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উদ্দেশে রাষ্ট্রপতি বলেন, পেশাগত দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি ব্যক্তিজীবনেও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে হবে। নিয়মিত নৈতিক মনোবল বৃদ্ধি এবং সুন্দর চরিত্র গঠনের প্রতিও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা

বক্তব্যে রাষ্ট্রপতি ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে আত্মদানকারী শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান। পাশাপাশি যুদ্ধপরবর্তী দেশ ও রাষ্ট্রগঠনে স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ত্যাগ ও অবদানের কথাও শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন।

এ সময় তিনি দেশের পূর্ববর্তী সব রাষ্ট্রপতিকেও শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেন।

বঙ্গভবনের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের একটি পরিবারের সদস্য হিসেবে উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘আমরা এখানে একটা পরিবার। সবাই একই জায়গায় কাজ করি। আমরা যখন সুযোগ পাব, সেই সময় পরস্পরের সঙ্গে কথা বলে সমস্যাগুলো সমাধানের চেষ্টা করব।’

ভবিষ্যতেও বঙ্গভবনের সব কর্মকর্তা-কর্মচারীকে সঙ্গে নিয়ে সমন্বয় ও পারস্পরিক সহযোগিতার ভিত্তিতে কাজ করার আশাবাদ ব্যক্ত করেন রাষ্ট্রপতি।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন