শুক্রবার, ২৮ আগস্ট ২০২৬

সালমান শাহ হত্যা মামলা: অভিনেতা ডন পাঁচ দিনের রিমান্ডে

চিত্রনায়ক সালমান শাহের মৃত্যুর ঘটনায় দায়ের করা হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার অভিনেতা আশরাফুল হক ওরফে ডনের পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।

বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানা শুনানি শেষে এ আদেশ দেন। এর আগে সকালে কারাগার থেকে ডনকে আদালতের হাজতখানায় নেওয়া হয়।

মামলার তদন্তকারী সংস্থা সিআইডির তদন্ত কর্মকর্তা পরিদর্শক মো. মজিবুর রহমান ডনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

সিআইডির আবেদনে বলা হয়, পুলিশ হেফাজতে ডনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে সালমান শাহের মৃত্যুর ঘটনায় দায়ের করা হত্যা মামলার প্রকৃত রহস্য উদ্‌ঘাটনে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যেতে পারে। একই সঙ্গে মামলায় জড়িত অন্য সহযোগীদের অবস্থান শনাক্ত এবং তাদের গ্রেপ্তারের বিষয়ে তথ্য মিলতে পারে বলে মনে করছে তদন্ত সংস্থা।

এ ছাড়া, বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও ডন কীভাবে, কেন এবং কার সহায়তা বা ইন্ধনে বিদেশে পালানোর চেষ্টা করেছিলেন, সে বিষয়েও তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন বলে জানিয়েছে সিআইডি।

রিমান্ড শুনানির আগে ভক্তদের মানববন্ধন

ডনের রিমান্ড শুনানিকে কেন্দ্র করে বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই আদালত চত্বরে সালমান শাহ হত্যার বিচার দাবিতে মানববন্ধন করেন তাঁর ভক্তদের বিভিন্ন পক্ষ।

দুটি ব্যানার নিয়ে কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া ভক্তদের এক ব্যানারে লেখা ছিল, ‘প্রিয় নায়ক ৩০ বছর ধরে কবরে, তার খুনিরা কেন বাইরে?’

কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া মাসুদ রানা বলেন, মামলার প্রধান আসামিসহ অন্য অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেপ্তার করতে হবে। একই সঙ্গে গ্রেপ্তার ডনকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত রহস্য উদ্‌ঘাটনের দাবি জানান তিনি।

আরেক অংশগ্রহণকারী মৌসুমী হক বলেন, ডনকে নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে সুষ্ঠু তদন্ত নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি মামলার অন্য আসামিদেরও দ্রুত গ্রেপ্তার করে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানান তিনি।

বিমানবন্দর এলাকা থেকে আটক

এর আগে গত ৯ আগস্ট ভোরে ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এলাকা থেকে ইমিগ্রেশন পুলিশ ডনকে আটক করে। পরে ওই দিন তাকে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হলে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। পরবর্তীতে তার জামিন আবেদনও নামঞ্জুর করা হয়।

১৯৯৬ সালের ঘটনার দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া

১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর চিত্রনায়ক সালমান শাহের মৃত্যুর ঘটনায় প্রথমে রমনা থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা করা হয়েছিল।

দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ার পর ২০২৫ সালের ২০ অক্টোবর ঢাকার ষষ্ঠ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মো. জান্নাতুল ফেরদৌস ইবনে হক বাদীপক্ষের রিভিশন আবেদন মঞ্জুর করে ঘটনাটি হত্যা মামলা হিসেবে গ্রহণের নির্দেশ দেন।

এর পরদিন, ২১ অক্টোবর সালমান শাহের মামা মোহাম্মদ আলমগীর রমনা থানায় হত্যা মামলা করেন।

মামলায় সালমান শাহের সাবেক স্ত্রী সামিরা হক, তার মা লতিফা হক লুসি, ব্যবসায়ী ও সাবেক চলচ্চিত্র প্রযোজক আজিজ মোহাম্মদ ভাই, আশরাফুল হক ডনসহ ১১ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে।

এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে, আসামিরা পরস্পরের যোগসাজশে পূর্বপরিকল্পিতভাবে চিত্রনায়ক সালমান শাহকে হত্যা করেছেন।

মামলাটির তদন্ত বর্তমানে চলমান রয়েছে। তদন্তের অংশ হিসেবে ডনকে পাঁচ দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন