বৃহস্পতিবার, ২৭ আগস্ট ২০২৬

অনলাইনে নিয়ন্ত্রিত রাসায়নিক বিক্রির অভিযোগে অভিযান, ই-কেমের কর্মী গ্রেপ্তার

অনলাইনে মাদক তৈরিতে ব্যবহৃত হতে পারে এমন নিয়ন্ত্রিত রাসায়নিক পদার্থ বিক্রির অভিযোগে অভিযান চালিয়েছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি)। অভিযানে এসিটিক এ্যানহাইড্রাইডসহ বিভিন্ন রাসায়নিক জব্দ করা হয়েছে এবং একটি প্রতিষ্ঠানের আইটি ম্যানেজারকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

ডিএনসির গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী, মাদক তৈরির কাজে ব্যবহৃত হতে পারে এমন নিয়ন্ত্রিত রাসায়নিক পদার্থের অবৈধ ব্যবহার ও অননুমোদিত সরবরাহ ঠেকাতে নজরদারি চালানো হচ্ছিল। এর অংশ হিসেবে ঢাকা বিভাগীয় গোয়েন্দা দল সাইবার পেট্রোলিংয়ের মাধ্যমে অনলাইনে রাসায়নিক পদার্থের খুচরা বিক্রয় সংক্রান্ত তথ্য পায়।

তথ্য যাচাই করে দেখা যায়, ‘ই-কেম’ নামের একটি প্রতিষ্ঠান অনলাইন প্ল্যাটফর্মে বিভিন্ন ধরনের রাসায়নিক পদার্থ বিক্রির বিজ্ঞাপন দিচ্ছে এবং অর্ডার গ্রহণ করছে। গোয়েন্দা তথ্য যাচাইয়ের অংশ হিসেবে ডিএনসির পক্ষ থেকে প্রতিষ্ঠানটির অনলাইন প্ল্যাটফর্মে ৫০০ মিলিলিটার এসিটিক এ্যানহাইড্রাইড অর্ডার করা হয়।

ডিএনসির দাবি, অর্ডার গ্রহণের সময় ক্রেতার কাছ থেকে নিয়ন্ত্রিত রাসায়নিক ক্রয়ের প্রয়োজনীয় অনুমোদন, লাইসেন্স বা ব্যবহারের উদ্দেশ্যসংক্রান্ত কোনো নথি চাওয়া হয়নি। পরে পণ্যটি ঢাকার নিকেতন এলাকায় পৌঁছালে সেখানে অভিযান চালানো হয়।

গত ২৪ আগস্ট গুলশান থানাধীন নিকেতন এলাকায় অভিযান চালিয়ে একটি পার্সেল থেকে ৫০০ মিলিলিটার এসিটিক এ্যানহাইড্রাইড ও ১ লিটার এসিটোন জব্দ করা হয়।

পরে ডেলিভারিম্যানের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে কুড়িল প্রগতি সরণী এলাকায় প্রতিষ্ঠানটির কার্যালয়ে অভিযান চালানো হয়। সেখানে প্রতিষ্ঠানের আইটি ম্যানেজার মো. আব্দুল মোমিন পাটোয়ারীকে গ্রেপ্তার করা হয়।

অভিযানে প্রতিষ্ঠানটি থেকে বিভিন্ন রাসায়নিক পদার্থ এবং নিয়ন্ত্রিত প্রিকারসর কেমিক্যাল বিক্রিসংক্রান্ত নথিপত্র জব্দ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ডিএনসি। এ ঘটনায় প্রতিষ্ঠানের মালিকসহ আরও কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে। তাদের মধ্যে কয়েকজন পলাতক রয়েছেন বলে জানানো হয়।

প্রিকারসর কেমিক্যাল কেন গুরুত্বপূর্ণ

প্রিকারসর কেমিক্যাল হলো এমন রাসায়নিক পদার্থ, যার বৈধ শিল্প ও বাণিজ্যিক ব্যবহার রয়েছে। তবে এসব রাসায়নিকের কিছু অবৈধ মাদক উৎপাদন বা প্রক্রিয়াজাতকরণেও ব্যবহার করা হতে পারে। এ কারণে এগুলোর উৎপাদন, সরবরাহ ও ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ এবং নজরদারির আওতায় রাখা হয়।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ অনুযায়ী, মাদক উৎপাদন বা প্রক্রিয়াজাতকরণে প্রয়োজনীয় উপাদান হিসেবে ব্যবহৃত রাসায়নিক পদার্থ প্রিকারসর কেমিক্যালের আওতায় পড়ে।

ডিএনসি জানিয়েছে, জব্দ করা রাসায়নিক, উদ্ধার করা নথিপত্র এবং অন্যান্য আলামত পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হচ্ছে। তদন্তে অনলাইন প্ল্যাটফর্মে এসব রাসায়নিকের উৎস, সরবরাহ ব্যবস্থা, ক্রেতা এবং সম্ভাব্য ব্যবহার শনাক্ত করার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের মতে, মাদক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম শুধু তৈরি মাদক উদ্ধার বা মাদক ব্যবসায়ীদের গ্রেপ্তারের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। মাদক তৈরির কাঁচামালের উৎস, সংগ্রহ ও সরবরাহব্যবস্থা শনাক্ত করাও এ কার্যক্রমের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

প্রযুক্তিনির্ভর অপরাধের ধরন পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে অনলাইনে মাদক ও মাদক তৈরির উপকরণের সম্ভাব্য সরবরাহব্যবস্থা শনাক্তে সাইবার পেট্রোলিং এবং ডিজিটাল সাপ্লাই চেইন পর্যবেক্ষণ আরও জোরদার করা হচ্ছে বলেও জানিয়েছে ডিএনসি।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন