জামালপুরে এক নারীকে শ্বাসরোধে হত্যার ঘটনায় মামলা স্ব-উদ্যোগে গ্রহণের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে এজাহারভুক্ত এক আসামিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। গ্রেফতারের পর আসামি আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
নিহত নারীর নাম ইশরাত জাহান মিমি। গত শনিবার (২৩ আগস্ট) জামালপুর সদর থানার পশ্চিম নয়াপাড়া রেলগেট সংলগ্ন বাবুল মিয়া বিল্ডিংয়ের পঞ্চম তলার পূর্ব পাশের একটি কক্ষ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
ঘটনার খবর পেয়ে পিবিআই জামালপুর জেলার ক্রাইমসিন টিম ঘটনাস্থলে গিয়ে আলামত সংগ্রহ এবং ছায়াতদন্ত শুরু করে।
পরে নিহতের মা মোছা. মুক্তা বেগম বাদী হয়ে মো. কাউসার আহমেদ খানসহ অজ্ঞাতনামা আরও দুজনের বিরুদ্ধে জামালপুর সদর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলাটি গত ২৪ আগস্ট পিবিআই জামালপুর জেলা স্ব-উদ্যোগে তদন্তের জন্য গ্রহণ করে। বর্তমানে পিবিআইয়ের পুলিশ পরিদর্শক (নিরস্ত্র) রুপন কুমার সরকার, পিপিএম-বার মামলাটির তদন্ত করছেন।
পিবিআই জানায়, তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের সহায়তায় গত ২৪ আগস্ট বিকেল ৫টা ৪৫ মিনিটের দিকে জামালপুর সদর থানার বাগেরহাটা এলাকা থেকে মামলার এজাহারভুক্ত আসামি মো. কাউসার আহমেদ খানকে গ্রেফতার করা হয়।
সংস্থাটির দাবি, গ্রেফতারের পর আদালতে হাজির করা হলে কাউসার ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।
পিবিআইয়ের প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে, প্রায় তিন বছর আগে নিহত ইশরাত জাহান মিমির সঙ্গে কাউসারের পরিচয় হয়। একপর্যায়ে তাদের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে ওঠে বলে তদন্তে জানা গেছে।
তদন্ত সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই সম্পর্ককে কেন্দ্র করে দুজনের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ ও আর্থিক লেনদেনসংক্রান্ত জটিলতা চলছিল। পিবিআইয়ের দাবি, আসামির অভিযোগ অনুযায়ী, গোপনে ধারণ করা ব্যক্তিগত ভিডিওকে কেন্দ্র করে তাকে বিভিন্ন সময় অর্থ দিতে চাপ দেওয়া হচ্ছিল। এ ঘটনায় তিনি আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বলেও তদন্তে তথ্য পাওয়া গেছে।
পিবিআই জানায়, ঘটনার দিন ইশরাত জাহান মিমি কাউসারকে তার ভাড়া বাসায় ডেকে মোটা অঙ্কের অর্থ দাবি করেন বলে তদন্তে উঠে এসেছে। এ নিয়ে তাদের মধ্যে বাকবিতণ্ডা ও ধস্তাধস্তি হয়। একপর্যায়ে নিহত নারী কাউসারের স্ত্রীর সঙ্গে যোগাযোগ করে তাদের সম্পর্কের বিষয়ে জানান বলে পিবিআইয়ের তদন্তে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।
এরপর উত্তেজিত হয়ে কাউসার ইশরাত জাহান মিমির গলা চেপে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন এবং ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান বলে পিবিআই জানিয়েছে।
তবে ঘটনার সঙ্গে আরও কেউ জড়িত রয়েছে কি না, তা যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। মামলাটির তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে পিবিআই।

