বুধবার, ২৬ আগস্ট ২০২৬

মস্কোতে নামল মার্কিন সামরিক বিমান, ক্রেমলিন বলছে ‘কিছু জানা নেই’

রাশিয়ার রাজধানী মস্কোর ভনুকোভো বিমানবন্দরে মার্কিন বিমান বাহিনীর একটি সামরিক পরিবহন বিমান অবতরণ করেছে। তবে বিমানটির আগমন সম্পর্কে কোনো তথ্য নেই বলে জানিয়েছে রুশ প্রেসিডেন্টের কার্যালয় ক্রেমলিন।মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) ফ্লাইট ট্র্যাকিং ওয়েবসাইট ফ্লাইটরাডার২৪ মার্কিন সামরিক বাহিনীর বিমানটির রাশিয়ায় অবতরণের তথ্য নিশ্চিত করে। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বোয়িং সি-১৭ গ্লোবমাস্টার মডেলের বিমানটিতে যুক্তরাষ্ট্রের নিবন্ধিত টেইল নম্বর ছিল।

বিমানটি লাটভিয়ার রাজধানী রিগা থেকে গ্রিনিচ মান সময় সকাল ৭টার দিকে যাত্রা শুরু করে মস্কোর ভনুকোভো বিমানবন্দরে গিয়ে অবতরণ করে। তবে বিমানটি কী উদ্দেশ্যে মস্কোয় গেছে, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

মঙ্গলবার এই বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ক্রেমলিনের প্রেস সচিব দিমিত্রি পেসকভ বলেছেন, চলতি সপ্তাহে মার্কিন প্রশাসনের কোনো প্রতিনিধির সঙ্গে বৈঠক করার পরিকল্পনা তাদের নেই।ফ্লাইটরাডার২৪-এর ডেটায় দেখা যায়, বিমানটি ২৩ আগস্ট যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডিসির কাছের ক্যাম্প স্প্রিংস বিমানঘাঁটি থেকে রিগায় গিয়ে পৌঁছায়।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিমানটি রোববার স্থানীয় সময় বিকেল ৫টার কিছু আগে মেরিল্যান্ডে অবস্থিত মার্কিন বিমান বাহিনীর যৌথ ঘাঁটি অ্যান্ড্রুস থেকে যাত্রা শুরু করেছিল। এই ঘাঁটিটি মার্কিন প্রেসিডেন্ট এবং উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সরকারি আকাশপথ ভ্রমণের জন্য ব্যবহার করেন।

এর আগে, গত জানুয়ারিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভেন উইটকফ এবং জ্যারেড কুশনার যখন ইউক্রেন ইস্যুতে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে শান্তি আলোচনার জন্য অবতরণ করেছিলেন, তখন সর্বশেষ মার্কিন নিবন্ধিত কোনো ফ্লাইট সরাসরি ইউরোপ থেকে রাশিয়ায় গিয়েছিল।

মার্কিন সামরিক বিমানের অবতরণ নিয়ে নানা জল্পনা

যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর বহরে থাকা সি-১৭ গ্লোবমাস্টার বিমানটি সেনা সদস্য এবং ভারী সামরিক সরঞ্জাম দীর্ঘ দূরত্বে পরিবহনের জন্য প্রস্তুত করা। ফলে এর এই আকস্মিক আগমন নানা ধরনের গুঞ্জনের জন্ম দিয়েছে।

দ্য আই পেপার-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিমানটি সম্ভাব্য কোনও কূটনৈতিক সফর বা বন্দি বিনিময়ের অংশ হিসেবে মস্কো গিয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। চলতি মাসের শুরুর দিকে সাবেক মার্কিন মেরিন কর্মকর্তা রবার্ট গিলম্যানের হাই-প্রোফাইল মুক্তি এবং বছরের শুরুতে হওয়া অন্যান্য বন্দি বিনিময়ের পর এই গুঞ্জন আরও জোরালো হলো।

রাশিয়া-ইউক্রেন শান্তি আলোচনা এখন পুরো থমকে থাকলেও দুই দেশের মধ্যে কোনো গোপন কূটনৈতিক যোগাযোগ চ্যানেল বা আলোচনা চলমান থাকার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

সূত্র: রয়টার্স 


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন