অনুসরণ করুন:
শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬

শুধু ওষুধ নয়, রোগ প্রতিরোধেই জোর দিতে হবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

শুধু ওষুধের ওপর নির্ভর করে জাতিকে সুস্থ রাখা সম্ভব নয়; বরং রোগ প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা শক্তিশালী করাই সময়ের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ বলে মন্তব্য করেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।

বৃহস্পতিবার রাজধানীর মহাখালীর জাতীয় প্রতিষেধক ও সামাজিক চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান (নিপসম)-এ ২০২৫-২৬ অর্থবছরের রাজস্ব খাতে পরিচালিত গবেষণার ফলাফল প্রকাশ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, স্বাস্থ্যসেবার মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত মানুষ অসুস্থ হওয়ার আগেই প্রয়োজনীয় প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা। এজন্য জন্মের পর থেকেই স্বাস্থ্যসচেতনতা, পুষ্টি, টিকাদান এবং প্রতিরোধমূলক কার্যক্রমকে গুরুত্ব দিতে হবে।

চিকিৎসকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, একজন চিকিৎসকের আন্তরিক আচরণ, সহমর্মিতা ও ইতিবাচক পরামর্শ রোগীর মানসিক শক্তি বাড়ায় এবং চিকিৎসা কার্যক্রমকে আরও কার্যকর করে। তাই প্রেসক্রিপশনের পাশাপাশি মানবিক আচরণকেও চিকিৎসাসেবার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচনা করা প্রয়োজন।

দেশে ক্যান্সার ও কিডনি রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে মন্ত্রী বলেন, এসব দীর্ঘমেয়াদি রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের শারীরিক, মানসিক ও আর্থিক ভোগান্তি অত্যন্ত বেশি। তাই প্রতিরোধ, দ্রুত শনাক্তকরণ এবং সময়মতো চিকিৎসা নিশ্চিত করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে।

তিনি জানান, সবার জন্য স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে সরকার বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। এর অংশ হিসেবে শিগগিরই দেশব্যাপী প্রায় এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ে প্রাথমিক স্বাস্থ্য ইউনিট সম্প্রসারণ, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোকে ১০০ শয্যায় উন্নীত করা এবং মা ও নবজাতকের জন্য সমন্বিত স্বাস্থ্যসেবা আরও শক্তিশালী করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

শিশুস্বাস্থ্যের প্রসঙ্গ তুলে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, অপুষ্টি শিশুদের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল করে দেয়। তিনি মায়েদের নবজাতককে জন্মের পরপরই শালদুধ খাওয়ানো, পর্যাপ্ত মাতৃদুগ্ধ নিশ্চিত করা এবং শিশুদের সুষম খাদ্য প্রদানের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

নিপসমের পরিচালক অধ্যাপক ডা. নাসরিন সুলতানার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. এম. এম. জিয়াউদ্দিন হায়দার, ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) মহাসচিব ডা. মো. জহিরুল ইসলাম শাকিল, বাংলাদেশ মেডিকেল রিসার্চ কাউন্সিলের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. সায়েবা আক্তার এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাসসহ স্বাস্থ্য খাতের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. এম. এম. জিয়াউদ্দিন হায়দার বলেন, জনস্বাস্থ্য গবেষণায় দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তুলতে নিপসম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। তিনি রোগ প্রতিরোধভিত্তিক স্বাস্থ্যব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করার পাশাপাশি হেলথ কার্ডের সঙ্গে কার্যকর রোগী রেফারেল ব্যবস্থা সমন্বয়ের ওপরও গুরুত্বারোপ করেন।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন