রবিবার, ৯ আগস্ট ২০২৬

বিশ্ব হেপাটাইটিস দিবস আজ: সচেতনতা, পরীক্ষা ও চিকিৎসা সহজলভ্য করার আহ্বান

ঢাকা, ২৮ জুলাই ২০২৬: আজ বিশ্ব হেপাটাইটিস দিবস। হেপাটাইটিস সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধি, রোগ প্রতিরোধ, দ্রুত শনাক্তকরণ এবং চিকিৎসা সহজলভ্য করার লক্ষ্যে বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও দিবসটি বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে পালিত হচ্ছে।

এ বছরের প্রতিপাদ্য ‘চলুন সহজভাবে বুঝি’। প্রতিপাদ্যের মূল লক্ষ্য হলো হেপাটাইটিস সম্পর্কে প্রচলিত ভুল ধারণা দূর করা, সামাজিক ভয় ও কুসংস্কার কমানো এবং মানুষকে পরীক্ষা ও চিকিৎসার আওতায় আসতে উৎসাহিত করা।

বিশ্ব হেপাটাইটিস দিবস উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এক বাণীতে হেপাটাইটিসমুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে জনসচেতনতা বৃদ্ধি, রোগ প্রতিরোধ, প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ শনাক্তকরণ এবং সবার জন্য সহজলভ্য চিকিৎসা নিশ্চিত করতে সম্মিলিত উদ্যোগের আহ্বান জানান। তিনি বলেন, সরকার বিশেষায়িত স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণ, প্রযুক্তিনির্ভর চিকিৎসা সুবিধার উন্নয়ন এবং সুবিধাবঞ্চিত মানুষের চিকিৎসা নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করে যাচ্ছে।

বিশ্ব হেপাটাইটিস দিবস পালনের উদ্যোগ প্রথম নেয় ওয়ার্ল্ড হেপাটাইটিস অ্যালায়েন্স। ২০০৮ সালে দিবসটি প্রথম উদযাপিত হয় এবং ২০১১ সালে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) আনুষ্ঠানিকভাবে এটিকে স্বীকৃতি দেয়। এরপর থেকে প্রতিবছর ২৮ জুলাই দিবসটি বিশ্বব্যাপী পালিত হয়ে আসছে।

২৮ জুলাই দিনটি বেছে নেওয়া হয়েছে নোবেলজয়ী বিজ্ঞানী বারুচ স্যামুয়েল ব্লুমবার্গ-এর জন্মদিনকে স্মরণ করে। তিনি হেপাটাইটিস-বি ভাইরাস আবিষ্কার, রোগ নির্ণয়ের পরীক্ষাপদ্ধতি উন্নয়ন এবং টিকা উদ্ভাবনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে হেপাটাইটিস বি ও সি ভাইরাসে প্রায় এক কোটি মানুষ আক্রান্ত। এছাড়া বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থার হিসাব অনুযায়ী, দেশে প্রতিবছর হেপাটাইটিসজনিত জটিলতায় ২০ হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো—হেপাটাইটিস বি ও সি-তে আক্রান্ত অধিকাংশ মানুষই জানেন না যে তারা এই ভাইরাস বহন করছেন। ফলে সময়মতো পরীক্ষা, রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসার গুরুত্ব আরও বেড়েছে।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নিরাপদ রক্ত সঞ্চালন, জীবাণুমুক্ত চিকিৎসা সরঞ্জাম ব্যবহার, নিরাপদ ইনজেকশন পদ্ধতি অনুসরণ, ঝুঁকিপূর্ণ আচরণ পরিহার এবং হেপাটাইটিস-বি টিকা গ্রহণের মাধ্যমে এই রোগের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব। একই সঙ্গে সচেতনতা বৃদ্ধি ও সহজলভ্য স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা গেলে হেপাটাইটিসজনিত মৃত্যু ও জটিলতা কমিয়ে আনা সম্ভব।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন