সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের নতুন শুল্কের প্রতিবাদে নরওয়ে, ইইউর সমান বাণিজ্য সুবিধা চাইল অসলো

যুক্তরাষ্ট্রের নতুন আমদানি শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্তের আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদ জানিয়েছে নরওয়ে। দেশটির সরকার বলছে, ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সদস্য দেশগুলোর তুলনায় নরওয়ের রপ্তানি পণ্যের ওপর বেশি শুল্ক আরোপ করা হয়েছে, যা বৈষম্যমূলক এবং ন্যায্য বাণিজ্যনীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

নরওয়ের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এসপেন বার্থ এইডে শুক্রবার এক বিবৃতিতে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের একতরফাভাবে শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্তে তাদের সরকার একমত নয়। একই সঙ্গে ওয়াশিংটনের দেওয়া যুক্তিও গ্রহণযোগ্য নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি।

সম্প্রতি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন পূর্বঘোষিত বৈশ্বিক শুল্ক নীতির পরবর্তী ধাপে প্রায় ৬০টি বাণিজ্যিক অংশীদার দেশের ওপর নতুন শুল্ক কার্যকর করেছে। এর আওতায় নরওয়ের বিভিন্ন পণ্যের ওপর ১২ দশমিক ৫ শতাংশ শুল্ক নির্ধারণ করা হয়েছে। অন্যদিকে ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলোর বেশিরভাগ পণ্যের ক্ষেত্রে ১০ শতাংশ শুল্ক ধার্য করা হয়েছে।

এই পার্থক্যকে অযৌক্তিক উল্লেখ করে নরওয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে, ইউরোপীয় অন্যান্য দেশের মতো নরওয়ের রপ্তানি পণ্যকেও সমান শুল্ক সুবিধার আওতায় আনা হোক। নরওয়ের মতে, ঘনিষ্ঠ মিত্র ও দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক অংশীদার হিসেবে তাদের সঙ্গে বৈষম্যমূলক আচরণ কাম্য নয়।

যদিও সরকারি তথ্য অনুযায়ী নরওয়ের মোট পণ্য রপ্তানির পাঁচ শতাংশেরও কম যুক্তরাষ্ট্রে যায়, তবু দেশটির সামুদ্রিক খাদ্যশিল্পের জন্য মার্কিন বাজার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে নরওয়েজিয়ান স্যামন মাছ যুক্তরাষ্ট্রে ব্যাপক চাহিদাসম্পন্ন একটি পণ্য। নতুন শুল্ক কার্যকর হলে এ খাতের রপ্তানিকারকদের ব্যয় বৃদ্ধি এবং প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান দুর্বল হওয়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বাণিজ্য বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের নতুন শুল্কনীতি শুধু নরওয়ে নয়, অন্যান্য অংশীদার দেশের সঙ্গেও বাণিজ্যিক সম্পর্কের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। ফলে বিষয়টি নিয়ে কূটনৈতিক আলোচনা এবং সম্ভাব্য সমঝোতার চেষ্টা আগামী দিনগুলোতে আরও জোরদার হতে পারে।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন