সিলেট, ২৫ জুলাই: জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, গণভোটে পাওয়া জনরায় এবং জুলাই সনদের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন না হলে সরকারকে আর রাজনৈতিক সহযোগিতা দেওয়া হবে না। তাঁর দাবি, জনগণের দেওয়া অঙ্গীকার উপেক্ষা করলে সরকারের জন্য পূর্ণ মেয়াদে দায়িত্ব পালন কঠিন হয়ে উঠতে পারে।
শনিবার বিকেলে সিলেট নগরের আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে ১১-দলীয় ঐক্যের উদ্যোগে আয়োজিত বিভাগীয় সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন। ‘গণভোটের রায় বাস্তবায়ন এবং জুলাই গণহত্যার সঙ্গে জড়িতদের বিচারের’ দাবিতে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। সভাপতিত্ব করেন এলডিপির চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীর বিক্রম।
বক্তব্যে নাহিদ ইসলাম বলেন, সরকারকে জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী জুলাই সনদ ও গণভোটের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে উদ্যোগী হতে হবে। অন্যথায় রাজনৈতিক পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠতে পারে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
বিএনপির উদ্দেশে তিনি বলেন, দলটি ক্ষমতায় আসার আগে সংবিধান সংস্কার এবং বিভিন্ন প্রাতিষ্ঠানিক পরিবর্তনের কথা বললেও এখন সে অবস্থান থেকে সরে এসেছে। তাঁর অভিযোগ, নির্বাচন কমিশনসহ বিভিন্ন সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানে দলীয় প্রভাব বাড়ানোর চেষ্টা চলছে। স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের আগে নির্বাচন কমিশনের সংস্কার বা পুনর্গঠনের দাবিও জানান তিনি।
সংবিধান নিয়ে চলমান ‘সংস্কার বনাম সংশোধন’ বিতর্ক প্রসঙ্গে এনসিপি আহ্বায়ক বলেন, শুধু সংশোধনের মাধ্যমে রাষ্ট্রের মৌলিক কাঠামোগত পরিবর্তন সম্ভব নয়। প্রয়োজন হলে সংবিধান সংস্কারের জন্য পৃথক পরিষদ বা গণপরিষদের মতো ব্যবস্থা বিবেচনা করা উচিত বলেও মত দেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, জুলাই আন্দোলনের চেতনা, ছাত্র-তরুণদের ভূমিকা এবং আন্দোলনে নিহত ব্যক্তিদের আত্মত্যাগকে উপেক্ষা করলে তার রাজনৈতিক পরিণতি সংশ্লিষ্টদের বহন করতে হতে পারে।
আঞ্চলিক প্রসঙ্গ টেনে নাহিদ ইসলাম ভারতের সাম্প্রতিক ছাত্র আন্দোলনের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থী ও তরুণদের প্রতি তাঁর শুভেচ্ছা রয়েছে।
অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও সমালোচনা করেন এনসিপি আহ্বায়ক। তিনি বলেন, গ্যাস সংকট, জ্বালানি ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি এবং করের চাপ সাধারণ মানুষের জীবনকে কঠিন করে তুলেছে। তাঁর দাবি, কাঙ্ক্ষিত সংস্কার কার্যক্রমে অগ্রগতি না থাকায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতাও প্রত্যাশিত মাত্রায় পাওয়া যাচ্ছে না।
সমাবেশে ১১-দলীয় ঐক্যের বিভিন্ন শীর্ষ নেতারাও বক্তব্য দেন এবং গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, বিচার প্রক্রিয়া এবং রাষ্ট্রীয় সংস্কার বিষয়ে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরেন।

