অনুসরণ করুন:
রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬

স্টারলিংকের নতুন প্রজন্মের স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণে সাফল্য, তবে আবারও ব্যর্থ স্পেসএক্সের সুপার হেভি বুস্টার

মার্কিন মহাকাশ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্স তাদের স্টারশিপ রকেটের ১৩তম পরীক্ষামূলক উড্ডয়নে প্রথমবারের মতো তৃতীয় প্রজন্মের (V3) স্টারলিংক স্যাটেলাইট সফলভাবে মহাকাশে পাঠিয়েছে। তবে উৎক্ষেপণ-পরবর্তী পরিকল্পিত অবতরণের সময় আবারও সমস্যায় পড়ে রকেটটির সুপার হেভি বুস্টার।

শুক্রবারের এই পরীক্ষামূলক মিশনে স্টারশিপের উন্নত সংস্করণ ব্যবহার করা হয়। উৎক্ষেপণের পর রকেটের উপরের ধাপ নির্ধারিত পরিকল্পনা অনুযায়ী স্টারলিংক স্যাটেলাইটগুলো মোতায়েন করতে সক্ষম হলেও, বুস্টারের অবতরণ প্রক্রিয়ায় প্রয়োজনীয় সব ইঞ্জিন ঠিকভাবে চালু হয়নি। ফলে মেক্সিকো উপসাগরে পানিতে আঘাত করার পর বুস্টারটি বিস্ফোরিত হয়।

এটি স্টারশিপের V3 সংস্করণের সুপার হেভি বুস্টারে টানা দ্বিতীয় বড় ধরনের জটিলতা। এর আগে মে মাসে প্রথম V3 পরীক্ষামূলক উড্ডয়নের সময়ও বুস্টারটি উপরের ধাপ থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার পর সমস্যার মুখে পড়ে।

এই উৎক্ষেপণের চেষ্টা প্রথমে গত সপ্তাহে করা হলেও ইঞ্জিনের একাধিক ত্রুটির কারণে উৎক্ষেপণ শুরুর মুহূর্তেই তা বাতিল করতে হয়। পরবর্তী পরীক্ষার আগে ছয়টি ইঞ্জিন পরিবর্তন করে স্পেসএক্স।

অন্যদিকে, স্টারশিপের উপরের ধাপ এবার আগের তুলনায় অনেক ভালো পারফরম্যান্স দেখিয়েছে। মে মাসের পরীক্ষায় একটি রকেট ইঞ্জিন হারানোর ঘটনা ঘটলেও এবার সেই ধরনের কোনো সমস্যা হয়নি। স্যাটেলাইট মোতায়েনের পর এটি সফলভাবে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে পুনঃপ্রবেশ করে এবং ভারত মহাসাগরে পরিকল্পিত পরীক্ষামূলক অবতরণ সম্পন্ন করে।

এবারের পরীক্ষায় আরেকটি উল্লেখযোগ্য বিষয় ছিল, পানিতে অবতরণের পর স্টারশিপের উপরের অংশটি বিস্ফোরিত হয়নি। বরং কিছু সময় ভেসে থাকায় স্পেসএক্স ড্রোনের মাধ্যমে এর তাপ-প্রতিরোধী হিট শিল্ড টাইলের অবস্থা কাছ থেকে পর্যবেক্ষণের সুযোগ পায়।

মহাকাশে পাঠানো নতুন স্টারলিংক স্যাটেলাইটগুলো প্রায় ২০ মিনিট পর নিয়ন্ত্রিতভাবে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে প্রবেশ করে পুড়ে যায়। কারণ, বর্তমান পরীক্ষামূলক স্টারশিপ এখনও পূর্ণ কক্ষপথে পৌঁছানোর সক্ষমতা অর্জন করেনি। তবে স্পেসএক্স জানিয়েছে, স্যাটেলাইটগুলো মহাকাশে অবস্থানকালে সফলভাবে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করা সম্ভব হয়েছে, যা ভবিষ্যৎ কার্যক্রমের জন্য ইতিবাচক অগ্রগতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

প্রতিষ্ঠানটির মতে, স্টারশিপের মাধ্যমে একসঙ্গে ৬০টি নতুন প্রজন্মের স্টারলিংক স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ করা গেলে একটি ফ্যালকন-৯ রকেটের তুলনায় প্রায় ২০ গুণ বেশি ডাউনলিংক সক্ষমতা যুক্ত করা সম্ভব হবে। তবে এই লক্ষ্য অর্জনের ক্ষেত্রে সুপার হেভি বুস্টার পুনর্ব্যবহারযোগ্য না হলে ব্যয় বাড়বে এবং স্টারলিংক নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণের গতি ধীর হতে পারে।

এদিকে, জুন মাসে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় প্রাথমিক শেয়ার বিক্রির (IPO) মাধ্যমে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়ার পর থেকে স্পেসএক্সের শেয়ারের মূল্যও নিম্নমুখী রয়েছে। সর্বশেষ পরীক্ষামূলক উড্ডয়নের পর বুস্টারের ব্যর্থতার খবর প্রকাশের পর লেনদেন-পরবর্তী সময়ে কোম্পানিটির শেয়ারের দামে আরও সাময়িক পতন দেখা যায়।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন