অনুসরণ করুন:
শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬

মিনাবে নিহত শিক্ষার্থীদের শনাক্ত হওয়া মরদেহাবশেষ দাফন, যুক্তরাষ্ট্রের জবাবদিহি নিয়ে নতুন প্রশ্ন

ইরানের হরমোজগান প্রদেশের মিনাব শহরে কয়েক মাস আগে সংঘটিত প্রাণঘাতী হামলায় নিহতদের মধ্যে সম্প্রতি ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে শনাক্ত হওয়া কয়েকজন শিক্ষার্থীর মরদেহাবশেষ দাফন করা হয়েছে। একই সঙ্গে ওই হামলার ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রের জবাবদিহি ও তদন্তের স্বচ্ছতা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

স্থানীয় কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক ডিএনএ পরীক্ষায় ৩৪ জন শিক্ষার্থীর ৬৮টি দেহাবশেষ শনাক্ত করা হয়েছে। পরে মিনাবের শহীদ কবরস্থানে ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতার মধ্য দিয়ে সেগুলো দাফন করা হয়। অনুষ্ঠানে নিহত শিক্ষার্থীদের পরিবার, স্থানীয় বাসিন্দা ও সরকারি কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

কর্তৃপক্ষ জানায়, হামলায় নিহত প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থী মাকান নাসিরির মরদেহ এখনো উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। অনুসন্ধান কার্যক্রম চালিয়েও তার কোনো সন্ধান মেলেনি বলে সংশ্লিষ্ট বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। শিশুটির স্মরণে কবরস্থানে একটি প্রতীকী কবর প্রস্তুত করা হয়েছে এবং তার ব্যবহৃত কিছু ব্যক্তিগত সামগ্রী স্থানীয় একটি মসজিদে সংরক্ষণ করা হয়েছে।

ইরানের শহীদ ও ভেটেরান্স ফাউন্ডেশনের কর্মকর্তারা জানান, নিহতদের পরিবারের সম্মতি এবং ধর্মীয় বিশেষজ্ঞদের পরামর্শক্রমে নতুন করে শনাক্ত হওয়া দেহাবশেষগুলোর দাফনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। ইসলামি শরিয়তের বিধান অনুসরণ করে মরদেহের মর্যাদা অক্ষুণ্ন রাখার বিষয়টি পুরো প্রক্রিয়ায় গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

এদিকে হামলার ঘটনায় আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। জাতিসংঘের মানবাধিকার দপ্তরের মুখপাত্র রাভিনা শামদাসানি নিহতদের পরিবারের সত্য জানার অধিকার রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক কয়েকটি সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে হামলার পরিস্থিতি ও এর মানবিক প্রভাব নিয়ে বিভিন্ন প্রশ্ন তুলে ধরা হয়েছে।

ইরানি কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, ২০২৬ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারির সামরিক অভিযানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় মিনাবের শাজারেহ তাইয়্যেবেহ প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ বেসামরিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং বহু মানুষ নিহত হন। তবে এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ইরানের সব দাবি স্বীকার করা হয়নি, এবং বিভিন্ন অভিযোগের স্বাধীন যাচাইও এখনো সম্পন্ন হয়নি।

স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, হামলায় নিহতদের স্মরণে শাজারেহ তাইয়্যেবেহ প্রাথমিক বিদ্যালয়কে জাতীয় স্মৃতিচিহ্ন হিসেবে নিবন্ধনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তাদের ভাষ্য, এটি নিহতদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে ঘটনাটির স্মারক হিসেবে সংরক্ষণ করা হবে।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন