৯ জুন ২০২৫
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সভাপতির বক্তব্যকে ‘মিথ্যা ও ধৃষ্টতাপূর্ণ’ আখ্যা দিয়ে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির। সংগঠনটি অভিযোগ করেছে, ছাত্রদল সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব রাজনৈতিক শিষ্টাচার লঙ্ঘন করে ছাত্রশিবির সম্পর্কে ভিত্তিহীন মন্তব্য করেছেন।
সোমবার (৯ জুন) গণমাধ্যমে পাঠানো এক যৌথ বিবৃতিতে ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি জাহিদুল ইসলাম এবং সেক্রেটারি জেনারেল নূরুল ইসলাম সাদ্দাম বলেন, “গতকাল ছাত্রদল সভাপতির একটি ভিডিও বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। তাতে তিনি অযাচিত ও উসকানিমূলক ভাষায় ছাত্রশিবিরের বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ এনেছেন, তা সম্পূর্ণ মিথ্যাচারে পরিপূর্ণ এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।”
নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, “এই বক্তব্যে বিগত ফ্যাসিস্ট দমননীতির প্রতিধ্বনি স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়েছে। ছাত্রদল নিজের রাজনৈতিক ব্যর্থতা আড়াল করতেই এমন বিভ্রান্তিকর ভাষণ দিচ্ছে। বিশেষ করে, ২০০২ সালের ৮ জুন বুয়েটের ছাত্রী সাবিকুন নাহার সনি হত্যাকাণ্ডের মতো ঘটনার আলোচনার মধ্যেই তারা বিতর্ক ঘোলাটে করার চেষ্টা করছে।”
ছাত্রশিবির নেতারা অভিযোগ করেন, “জুলাই অভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে ছাত্রদল শিক্ষার্থীদের নির্যাতন, দখল ও সহিংসতার মাধ্যমে পরিবেশ বিনষ্ট করছে। একদিকে তারা শিক্ষার নামে চাঁদাবাজি ও ধর্ষণের মতো নৈতিক স্খলনের মধ্যে জড়াচ্ছে, অন্যদিকে অন্য সংগঠনের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালিয়ে যাচ্ছে।”
বিবৃতিতে আরও দাবি করা হয়, ছাত্রশিবির তার প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই শিক্ষার অধিকার, গণতান্ত্রিক পরিবেশ, এবং জাতীয় সংকটে গঠনমূলক ভূমিকা রাখার মধ্য দিয়ে ছাত্রসমাজের আস্থার প্রতীক হয়ে উঠেছে। ঈদুল আজহার সময় দেশব্যাপী গরীব ও শহীদ পরিবারসহ বিভিন্ন স্তরের মানুষের সঙ্গে ঈদ উদযাপন করেই এর প্রমাণ দিয়েছে শিবির।
তবে ছাত্রদল অতীতের মতোই ‘কালচারাল ফ্যাসিজমের’ ফাঁদে পা দিয়ে ফের ছাত্রশিবিরকে ষড়যন্ত্রের শিকার করছে বলে অভিযোগ করেছে সংগঠনটি। তারা বলছে, “পতিত ফ্যাসিস্টদের মতো ছাত্রদলও আজ নিজেদের অপকর্ম ঢাকতে শিবিরবিরোধী রাজনীতিতে নামছে।”
ছাত্রশিবির নেতারা ছাত্রদল সভাপতির বক্তব্য প্রত্যাহার এবং প্রতিহিংসাপরায়ণ রাজনীতি থেকে সরে এসে সুস্থ ধারার গঠনমূলক রাজনীতিতে ফিরে আসার আহ্বান জানান। অন্যথায়, ছাত্রদলকেও নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের মতো একই রাজনৈতিক পরিণতির মুখোমুখি হতে হবে বলে হুঁশিয়ারি দেন তারা।

