অনুসরণ করুন:
মঙ্গলবার, ৫ মে ২০২৬

পর্যায়ক্রমে সব ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ভাতা কর্মসূচির আওতায় আনা হবে: ধর্মসচিব

ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মুন্সী আলাউদ্দিন আল আজাদ জানিয়েছেন, পর্যায়ক্রমে দেশের সব মসজিদ ও মন্দিরকে ভাতা কর্মসূচির আওতায় আনা হবে। এর মাধ্যমে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে নিয়োজিত ইমাম, মুয়াজ্জিন, পুরোহিতসহ সংশ্লিষ্টদের সামাজিক মর্যাদা ও আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

সোমবার (৪ মে) জেলা প্রশাসক সম্মেলনের দ্বিতীয় দিনের অধিবেশন শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে তিনি এ তথ্য জানান।

ধর্মসচিব বলেন, নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির অংশ হিসেবে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ব্যক্তিদের জন্য ভাতা চালু করা হয়েছে। দেশে তিন লাখের বেশি মসজিদ রয়েছে উল্লেখ করে তিনি জানান, আগামী অর্থবছরের জুলাই থেকে প্রথম ধাপে প্রায় ২০ শতাংশ মসজিদকে এই ভাতার আওতায় আনা হবে। এ উদ্দেশ্যে ইতোমধ্যে অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে ১১০০ কোটি টাকা অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। পর্যায়ক্রমে অন্যান্য ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানকেও এই সুবিধার আওতায় আনা হবে।

তবে ভাতা কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে যেন অপ্রয়োজনীয়ভাবে নতুন মসজিদ বা মন্দির গড়ে না ওঠে, সে বিষয়ে সতর্ক থাকার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন তিনি। আইনগতভাবে এ ধরনের নির্মাণ বন্ধ করা সম্ভব না হলেও সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব দেন ধর্মসচিব।

তিনি আরও জানান, দেশে বর্তমানে ৭৭ হাজারের বেশি মসজিদভিত্তিক শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে, যা ইসলামী ফাউন্ডেশন পরিচালনা করে। এ কার্যক্রমের সময়সূচি ও কার্যকারিতা নিয়ে জেলা প্রশাসকদের পক্ষ থেকে কিছু পর্যবেক্ষণ এসেছে, বিশেষ করে নৈতিক শিক্ষার ওপর গুরুত্ব বাড়ানোর বিষয়ে।

ওয়াক্‌ফ সম্পত্তির ব্যবস্থাপনা নিয়েও সভায় আলোচনা হয়েছে জানিয়ে ধর্মসচিব বলেন, দেশে বিপুল পরিমাণ ওয়াক্‌ফ সম্পত্তি অব্যবস্থাপনায় রয়েছে। এসব সম্পত্তি উদ্ধার ও সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনায় জেলা প্রশাসনকে আরও সক্রিয় ভূমিকা নিতে হবে।

তিনি জানান, ওয়াক্‌ফসহ বিভিন্ন ধর্মীয় সম্পত্তির একটি সমন্বিত ডাটাবেজ তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এটি সম্পন্ন হলে সম্পত্তিগুলো চিহ্নিত করে উদ্ধার কার্যক্রম আরও জোরদার করা সম্ভব হবে।

এ ছাড়া এসব সম্পত্তি সংক্রান্ত অনেক বিষয় দেওয়ানি আদালতে জটিলতায় পড়ায় প্রয়োজন অনুযায়ী আইন হালনাগাদের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন