আগুনের বিস্তার কিছুটা স্থিতিশীল হলেও নিয়ন্ত্রণে আসেনি; তাপমাত্রা ও দমকা হাওয়ায় নতুন শঙ্কা
ফ্রান্সের দক্ষিণাঞ্চলীয় ভার (Var) অঞ্চলে কয়েক দিন ধরে চলা ভয়াবহ দাবানলের বিস্তার কিছুটা স্থিতিশীল হয়েছে। তবে আগুন এখনো পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনতে পারেনি কর্তৃপক্ষ। স্থানীয় প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, এ পর্যন্ত প্রায় ১৮ দশমিক ৫ বর্গকিলোমিটার বন ও আশপাশের এলাকা আগুনে পুড়ে গেছে।
গত শুক্রবার ভার অঞ্চলের কোরাঁ (Correns) কমিউনে আগুনের সূত্রপাত হয়। শুষ্ক আবহাওয়া, ঘন বনাঞ্চল এবং দুর্গম পাহাড়ি ভূখণ্ডের কারণে দ্রুত আগুন ছড়িয়ে পড়ে। সপ্তাহজুড়ে শতাধিক সক্রিয় আগুনের কেন্দ্র নিয়ন্ত্রণে আনতে দমকল বাহিনীকে কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়েছে।
বিশাল উদ্ধার অভিযান
দাবানল মোকাবিলায় বর্তমানে প্রায় ১,৫০০ দমকলকর্মী কাজ করছেন। তাদের সহায়তায় ফ্রান্সের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে অতিরিক্ত জনবল পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি ইউরোপের কয়েকটি দেশ থেকেও সহযোগিতা এসেছে।
আগুন নিয়ন্ত্রণে আকাশপথে ওয়াটার-বোম্বিং বিমান বা পানি নিক্ষেপকারী বিশেষ উড়োজাহাজ ব্যবহার করা হচ্ছে। দুর্গম এলাকায় আগুনের বিস্তার ঠেকাতে স্থল ও আকাশ—উভয় দিক থেকেই অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।
রাতের আবহাওয়া কিছুটা সহায়ক
রবিবার রাত থেকে সোমবার ভোর পর্যন্ত আর্দ্রতা বৃদ্ধি এবং তুলনামূলক শান্ত আবহাওয়ার কারণে দমকলকর্মীরা কিছুটা সুবিধা পান। এতে আগুনের বিস্তার সাময়িকভাবে ধীর হয় এবং কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় নিয়ন্ত্রণমূলক ব্যবস্থা জোরদার করা সম্ভব হয়।
তবে কর্মকর্তারা সতর্ক করে বলেছেন, এই পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী নাও হতে পারে।
নতুন করে বাড়ছে শঙ্কা
আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, সোমবার দিনের দ্বিতীয় ভাগে দমকা ও পরিবর্তনশীল বাতাস এবং উচ্চ তাপমাত্রা আবারও আগুন ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
দমকল বিভাগের এক মুখপাত্র জানান, আগের দিনের তুলনায় বাতাসের বেগ বাড়তে পারে এবং তাপমাত্রাও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এসব কারণে আগুন নিয়ন্ত্রণের কাজ আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে।
আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, শ্যাতোভের (Chateauvert) এলাকায় তাপমাত্রা প্রায় ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং ভার অঞ্চলের অন্যান্য স্থানে ৩৬ থেকে ৩৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত উঠতে পারে।
ঘরবাড়ি রক্ষায় সর্বোচ্চ গুরুত্ব
অভিযানে নেতৃত্ব দেওয়া দমকল কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট রোমাঁ সোরেল বলেন, বর্তমানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য হলো বসতবাড়ি এবং জনবসতি রক্ষা করা।
তার ভাষায়, বাতাসের দিক প্রতিদিনই পরিবর্তিত হচ্ছে। ফলে আগুনের গতিপথও দ্রুত বদলে যেতে পারে। পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করেই পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ধারণ করা হবে।
দাবানলের কারণ তদন্তে
আগুন লাগার সুনির্দিষ্ট কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ঘটনাটির তদন্ত শুরু করেছে। প্রাকৃতিক কারণের পাশাপাশি মানবসৃষ্ট কোনো ত্রুটি বা অবহেলার বিষয়ও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
ইউরোপে বাড়ছে দাবানলের ঝুঁকি
জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব, দীর্ঘস্থায়ী খরা এবং তীব্র তাপপ্রবাহের কারণে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে দাবানলের ঘটনা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। বিশেষ করে ফ্রান্স, স্পেন, পর্তুগাল, গ্রিস ও ইতালির বনাঞ্চলগুলো গ্রীষ্মকালে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির মধ্যে থাকে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, উচ্চ তাপমাত্রা, কম আর্দ্রতা এবং প্রবল বাতাস একসঙ্গে থাকলে দাবানল দ্রুত বিস্তার লাভ করে এবং তা নিয়ন্ত্রণে আনতে অনেক সময় ও বিপুল জনবল প্রয়োজন হয়।
এক নজরে
- স্থান: কোরাঁ (Correns), ভার (Var), দক্ষিণ ফ্রান্স
- আগুনের সূত্রপাত: শুক্রবার
- ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা: প্রায় ১৮.৫ বর্গকিলোমিটার
- মোতায়েন: প্রায় ১,৫০০ দমকলকর্মী
- সহায়তা: ইউরোপীয় দেশগুলোর অতিরিক্ত জনবল ও পানি নিক্ষেপকারী বিমান
- বর্তমান অবস্থা: আগুনের বিস্তার স্থিতিশীল, তবে এখনো নিয়ন্ত্রণে নয়
- প্রধান চ্যালেঞ্জ: তীব্র গরম, পরিবর্তনশীল বাতাস ও দুর্গম পাহাড়ি এলাকা

