মানিকগঞ্জে মাটি খুঁড়ে গ্যারেজে প্রবেশ করে একটি টয়োটা প্রাইভেটকার চুরির ঘটনায় মামলা গ্রহণের ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই এক আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। এ সময় চুরি যাওয়া গাড়িটিও উদ্ধার করা হয়েছে। গ্রেপ্তার আসামি মো. রাসেল মিয়া (৩৫) আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন বলে জানিয়েছে পিবিআই।
গত ২৩ আগস্ট মানিকগঞ্জ সদর থানার পালড়া বাজার এলাকায় জনৈক মো. কাউসার আলী রাজিবের গ্যারেজে ভুক্তভোগী মো. মহসিন মিয়া (২৬) তাঁর টয়োটা প্রাইভেটকারটি রেখে বাড়িতে যান। পরদিন সকালে গ্যারেজে গিয়ে তিনি দেখতে পান, গ্যারেজের তালা ভাঙা এবং ভেতরে রাখা প্রাইভেটকারটি নেই।
বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও গাড়িটির সন্ধান না পেয়ে মহসিন মিয়া অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে মানিকগঞ্জ সদর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলাটি পেনাল কোডের ৩৮০ ও ৪৬১ ধারায় দায়ের করা হয়।
মামলা দায়েরের দিনই পিবিআই, মানিকগঞ্জ জেলা স্ব-উদ্যোগে মামলাটির তদন্তভার গ্রহণ করে। বর্তমানে পিবিআইয়ের পিএসআই (নিঃ) রতন মিয়া মামলাটি তদন্ত করছেন।
তদন্তের অংশ হিসেবে সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ, তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার এবং গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে গত ২৩ আগস্ট ঢাকার ধামরাই থানার জয়পুরা এলাকা থেকে চুরি যাওয়া প্রাইভেটকারসহ মো. রাসেল মিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পরে একই দিন গ্রেপ্তার রাসেল মিয়া বিজ্ঞ আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।
পিবিআইয়ের তদন্তে জানা গেছে, ভুক্তভোগী মহসিন মিয়া নিয়মিত রাতে রাসেল মিয়ার বাড়ির পার্শ্ববর্তী একটি গ্যারেজে তাঁর গাড়িটি রাখতেন। রাসেল দীর্ঘদিন ধরে মহসিন ও তাঁর গাড়িটির ওপর নজর রাখছিলেন এবং গাড়িটি চুরির পরিকল্পনা করেন বলে তদন্তে উঠে এসেছে।
তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, পরিকল্পনা অনুযায়ী গত ২০ আগস্ট রাসেল মিয়া মাটি খুঁড়ে গ্যারেজের ভেতরে প্রবেশ করেন। পরে গাড়ির স্টিয়ারিংয়ের ডান পাশের কাচ ভেঙে ভেতরে রাখা গাড়ির ডুপ্লিকেট চাবি সংগ্রহ করেন। একই সঙ্গে গ্যারেজের চাবিও নিয়ে তিনি তৈরি করা গর্ত দিয়ে বাইরে বেরিয়ে আসেন।
এরপর গ্যারেজের চাবি দিয়ে তালা খুলে প্রাইভেটকারটি নিয়ে পালিয়ে ধামরাই এলাকায় চলে যান বলে পিবিআইয়ের তদন্তে জানা গেছে।
পিবিআই জানিয়েছে, গ্রেপ্তার রাসেলের বিরুদ্ধে একাধিক মাদক মামলার তথ্য পাওয়া গেছে। এছাড়া ঘটনার প্রায় দুই মাস আগে তিনি জামিনে কারাগার থেকে বের হন।
চুরির ঘটনায় আরও কেউ জড়িত রয়েছে কি না এবং চুরি যাওয়া গাড়িটি অন্য কোনো অপরাধে ব্যবহৃত হয়েছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। মামলাটির তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

