সোমবার, ২৪ আগস্ট ২০২৬

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘কালো দিবস’ পালিত

২০০৭ সালের ২০ থেকে ২৩ আগস্ট ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সংঘটিত ঘটনাবলি স্মরণে ‘কালো দিবস’ পালন করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি)। দিবসটি উপলক্ষে রোববার (২৩ আগস্ট) বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা কালো ব্যাজ ধারণ করেন। এছাড়া ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র (টিএসসি) মিলনায়তনে আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।

সকাল ১১টায় অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম।

সভায় প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. আবদুস সালাম, প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলমোজাদ্দেদী আলফেছানী, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. এম. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, কলা অনুষদের সাবেক ডিন ও ইমেরিটাস অধ্যাপক ড. সদরুল আমিন, প্রভোস্ট স্ট্যান্ডিং কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. মো. আমিনুল ইসলাম ভূঁইয়া এবং কলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. আবুল কালাম সরকার বক্তব্য দেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশন, কর্মচারী সমিতি, কারিগরি কর্মচারী সমিতি ও চতুর্থ শ্রেণি কর্মচারী ইউনিয়নের নেতারাও আলোচনায় অংশ নেন।

‘২০০৭ সালের ঘটনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসের বিভীষিকাময় অধ্যায়’

সভাপতির বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম ২০০৭ সালের আগস্টে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ঘটে যাওয়া ঘটনাকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসের একটি ‘বিভীষিকাময় অধ্যায়’ হিসেবে উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, সে সময় শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের সদস্যদের ওপর যে নির্যাতন ও নিপীড়ন চালানো হয়েছিল, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় তা কখনো ভুলবে না।

২০০৭ সালের ২০ আগস্টের পরবর্তী দিনগুলোর স্মৃতিচারণ করে উপাচার্য বলেন, ওই সময় আন্দোলনে অংশ নেওয়া শিক্ষক ও কর্মকর্তাদের নানাভাবে হয়রানি ও চাপের মুখে পড়তে হয়েছিল। বিশেষ করে তৎকালীন শিক্ষক সমিতির নেতৃত্বে থাকা এবং প্রতিবাদে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের ভূমিকার কথা স্মরণ করেন তিনি।

অন্যায়ের বিরুদ্ধে ঢাবির ঐতিহাসিক ভূমিকা

দেশের বিভিন্ন গণতান্ত্রিক ও অধিকার আদায়ের আন্দোলনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূমিকার কথাও তুলে ধরেন উপাচার্য।

ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ ও ১৯৯০ সালের গণ-অভ্যুত্থানসহ বিভিন্ন ঐতিহাসিক আন্দোলনে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের ভূমিকার কথা উল্লেখ করেন তিনি। একই সঙ্গে ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের প্রসঙ্গ তুলে ধরে অন্যায় ও অগণতান্ত্রিক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিবাদী ঐতিহ্য বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দেন।

উপাচার্য বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের ওপর অন্যায় কোনো সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়া কিংবা ক্ষমতার প্রভাব ব্যবহার করে এর স্বাভাবিক ও গণতান্ত্রিক পরিবেশ বাধাগ্রস্ত করা গ্রহণযোগ্য নয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহ্য ও মর্যাদা রক্ষায় সবাইকে দায়িত্বশীল ও ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।

কেন ২৩ আগস্ট ‘কালো দিবস’

২০০৭ সালের আগস্টে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের খেলার মাঠে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সেনাসদস্যদের বিরোধকে কেন্দ্র করে উত্তেজনার সূত্রপাত হয়। পরে তা বিক্ষোভে রূপ নেয় এবং দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেও ছড়িয়ে পড়ে। তৎকালীন জরুরি অবস্থার মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ অনেককে আটক এবং নির্যাতনের অভিযোগ ওঠে।

ওই ঘটনার স্মরণে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০০৯ সালের সিনেট অধিবেশনে প্রতিবছর ২৩ আগস্ট ‘কালো দিবস’ পালনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

উপাচার্য বলেন, দিবসটি পালনের উদ্দেশ্য শুধু অতীতের একটি বেদনাদায়ক অধ্যায় স্মরণ করা নয়; বরং ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে অন্যায়, নিপীড়ন ও ক্ষমতার অপব্যবহারের বিরুদ্ধে সোচ্চার থাকার শিক্ষা দেওয়া।

২০০৭ সালের ঘটনায় কারাবরণ ও নির্যাতনের শিকার শিক্ষক ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান তিনি। বিশেষ করে ইমেরিটাস অধ্যাপক ড. সদরুল আমিনসহ সে সময় প্রতিবাদে সক্রিয় শিক্ষক ও কর্মকর্তাদের ভূমিকা স্মরণ করেন।

তাদের দৃঢ়তা ও নীতির প্রতি অবিচল অবস্থান বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করবে বলে মন্তব্য করেন উপাচার্য।

তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ে গণতান্ত্রিক চর্চা, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের ঐতিহ্য ভবিষ্যতেও অক্ষুণ্ন রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার মুনসী শামস উদ্দিন আহম্মদ আলোচনা সভা সঞ্চালনা করেন। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন অনুষদের ডিন, প্রক্টর, হলের প্রাধ্যক্ষ, শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

২০০৭ সালের ২০ থেকে ২৩ আগস্ট ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের ঘিরে সংঘটিত ঘটনাবলি স্মরণে প্রতিবছর ২৩ আগস্ট বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ‘কালো দিবস’ পালিত হয়ে আসছে।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন