সোমবার, ২৪ আগস্ট ২০২৬

সংকটে দ্রুত সহায়তা পৌঁছাতে সামাজিক সুরক্ষায় তিন বছর মেয়াদি নতুন উদ্যোগ

দুর্যোগ ও আকস্মিক সংকটের সময় ঝুঁকিতে থাকা মানুষের কাছে সামাজিক সুরক্ষা সহায়তা আরও দ্রুত ও কার্যকরভাবে পৌঁছে দিতে তিন বছর মেয়াদি নতুন কর্মসূচি চালু করেছে বাংলাদেশ। একই সঙ্গে বিদ্যমান সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থাকে পুষ্টি-সংবেদনশীল এবং জলবায়ুজনিত অভিঘাত মোকাবিলায় আরও সক্ষম করে তোলার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের নেতৃত্বে এবং জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির (ডব্লিউএফপি) কারিগরি সহায়তায় ‘Strengthening Shock-Responsive and Nutrition-Sensitive Social Protection Programmes (SSRNSSPP)’ শীর্ষক কর্মসূচিটির আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়েছে।

বাংলাদেশ সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে কর্মসূচির উদ্বোধন উপলক্ষে সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, বিভাগ, দপ্তর ও অধিদপ্তরের প্রতিনিধিদের পাশাপাশি উন্নয়ন সহযোগীরা অংশ নেন।

সংকট মোকাবিলায় সামাজিক সুরক্ষার সক্ষমতা বাড়ানোই লক্ষ্য

তিন বছর মেয়াদি উদ্যোগটির অন্যতম উদ্দেশ্য হচ্ছে এমন একটি সামাজিক সুরক্ষা কাঠামো গড়ে তোলা, যা বন্যা, ঘূর্ণিঝড়সহ জলবায়ুজনিত দুর্যোগ কিংবা অন্য কোনো আকস্মিক সংকটে দ্রুত সাড়া দিতে পারবে।

বর্তমান ব্যবস্থায় সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির মাধ্যমে বিভিন্ন শ্রেণির ঝুঁকিপূর্ণ মানুষকে সহায়তা দেওয়া হয়। নতুন উদ্যোগে সংকটের ধরন ও মানুষের প্রয়োজন অনুযায়ী এসব কর্মসূচির প্রতিক্রিয়া সক্ষমতা আরও শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে।

এর আওতায় সামাজিক সুরক্ষাসংক্রান্ত নীতি ও প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা উন্নয়নের পাশাপাশি সরকারের বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।

গুরুত্ব পাচ্ছে পুষ্টি

কর্মসূচিতে সামাজিক সুরক্ষার সঙ্গে পুষ্টির বিষয়টিকেও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ শুধু আর্থিক বা খাদ্য সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার মধ্যে সামাজিক সুরক্ষাকে সীমাবদ্ধ না রেখে সহায়তা গ্রহণকারী মানুষের পুষ্টিগত প্রয়োজনও বিবেচনায় নেওয়ার সক্ষমতা তৈরির লক্ষ্য রয়েছে।

বিশেষ করে সংকটের সময় ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর খাদ্য ও পুষ্টিনিরাপত্তা যেন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সে জন্য বিদ্যমান কর্মসূচিগুলোকে আরও পুষ্টি-সংবেদনশীল করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

জলবায়ুজনিত অভিঘাত মোকাবিলায় প্রস্তুতি

জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বাংলাদেশে বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, অতিবৃষ্টি, খরা ও অন্যান্য প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকি রয়েছে। এসব পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়েন দরিদ্র ও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর মানুষ।

SSRNSSPP-এর মাধ্যমে সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থাকে এমনভাবে শক্তিশালী করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে, যাতে জলবায়ুজনিত কোনো বড় অভিঘাতের পর ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের প্রয়োজন দ্রুত চিহ্নিত করে উপযুক্ত সহায়তা পৌঁছানোর সক্ষমতা বাড়ানো যায়।

বাড়ানো হবে আন্তঃমন্ত্রণালয় সমন্বয়

কর্মসূচির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হচ্ছে সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও বাস্তবায়নকারী সংস্থার মধ্যে কার্যকর সমন্বয় তৈরি করা।

সামাজিক সুরক্ষা কার্যক্রমের সঙ্গে সরকারের একাধিক প্রতিষ্ঠান যুক্ত থাকায় সংকটের সময় দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ, তথ্য বিনিময় এবং সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে সমন্বয় গুরুত্বপূর্ণ। নতুন উদ্যোগের আওতায় এ প্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয় আরও শক্তিশালী করার পরিকল্পনা রয়েছে।

একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও প্রতিষ্ঠানের সক্ষমতা উন্নয়নে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ ও কারিগরি সহায়তার ব্যবস্থা থাকবে।

তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত গ্রহণ

কর্মসূচির আওতায় সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থার কার্যকারিতা সম্পর্কে তথ্য ও প্রমাণ তৈরিতেও গুরুত্ব দেওয়া হবে। বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ, বিশ্লেষণ এবং অভিজ্ঞতা থেকে পাওয়া ফলাফল ব্যবহার করে সংকটের সময় কোন ধরনের ব্যবস্থা বেশি কার্যকর হচ্ছে, তা নির্ধারণে সহায়তা করা হবে।

এর মাধ্যমে ভবিষ্যতের সামাজিক সুরক্ষা নীতি ও কর্মসূচি আরও তথ্যনির্ভরভাবে প্রণয়ন এবং বাস্তবায়নের সক্ষমতা তৈরির লক্ষ্য রয়েছে।

ডব্লিউএফপি জানিয়েছে, উদ্যোগটির চূড়ান্ত লক্ষ্য হচ্ছে বাংলাদেশের সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করা, যাতে সংকটের সময় ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীকে কার্যকরভাবে সুরক্ষা দেওয়া যায় এবং তাদের জীবন ও জীবিকার ওপর অভিঘাত কমানো সম্ভব হয়।

একই সঙ্গে পুষ্টি, জলবায়ু সহনশীলতা এবং সংকটে দ্রুত সাড়া দেওয়ার সক্ষমতাকে সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থার সঙ্গে আরও কার্যকরভাবে যুক্ত করার মাধ্যমে ভবিষ্যতের বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বাংলাদেশের সামগ্রিক সক্ষমতা বাড়ানোই তিন বছর মেয়াদি এ উদ্যোগের লক্ষ্য।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন