শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বাংলাদেশসহ ৭৫ দেশের অভিবাসী ভিসা স্থগিতের নীতি বাতিল করলেন মার্কিন আদালত

বাংলাদেশসহ ৭৫ দেশের নাগরিকদের জন্য অভিবাসী ভিসা প্রক্রিয়া স্থগিত রাখার ট্রাম্প প্রশাসনের নীতি বাতিল করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের একটি ফেডারেল আদালত। আদালত বলেছেন, মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও তাঁর আইনগত ক্ষমতার সীমা অতিক্রম করে এ নীতি গ্রহণ করেছিলেন এবং এটি দেশটির কেন্দ্রীয় অভিবাসন আইনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

শুক্রবার (২১ আগস্ট) নিউইয়র্কের ম্যানহাটানে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের ডিস্ট্রিক্ট কোর্টের বিচারক জ্যানেট এ. ভার্গাস এ রায় দেন। রায়ে চলতি বছরের জানুয়ারিতে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের জারি করা নীতিটিকে ‘স্পষ্টতই বেআইনি’ বলে উল্লেখ করেন তিনি।

বিচারক ভার্গাস বলেন, প্রচলিত আইনে অভিবাসী ভিসার আবেদন যাচাই ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে কনস্যুলার কর্মকর্তাদের নির্দিষ্ট ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী জাতীয়তার ভিত্তিতে একযোগে কোনো দেশের সব আবেদনকারীর অভিবাসী ভিসা দেওয়া বন্ধ করে দিতে পারেন না।

রায়ে বিচারক বলেন, আবেদনকারীর জাতীয়তার ভিত্তিতে ঢালাওভাবে অভিবাসী ভিসা দেওয়া বন্ধ করার নীতি যুক্তরাষ্ট্রের বিদ্যমান আইনি কাঠামোর সরাসরি লঙ্ঘন। আদালতের মতে, পররাষ্ট্র দপ্তরের ওই পদক্ষেপ ফেডারেল অভিবাসন আইনে নির্ধারিত ব্যক্তিভিত্তিক ভিসা যাচাই ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়াকে পাশ কাটিয়েছিল।

জানুয়ারিতে স্থগিত হয়েছিল ভিসা প্রক্রিয়া

ট্রাম্প প্রশাসন গত জানুয়ারিতে বাংলাদেশসহ ৭৫ দেশের নাগরিকদের অভিবাসী ভিসা প্রক্রিয়া স্থগিতের সিদ্ধান্ত নেয়। ২১ জানুয়ারি থেকে এ সিদ্ধান্ত কার্যকর হয়। দক্ষিণ এশিয়ার বাংলাদেশ ও পাকিস্তান ছাড়াও তালিকায় ব্রাজিল, কলম্বিয়া, উরুগুয়ে, আলবেনিয়া, বসনিয়াসহ আফ্রিকা, মধ্যপ্রাচ্য, ক্যারিবীয় ও অন্যান্য অঞ্চলের বহু দেশ অন্তর্ভুক্ত ছিল।

তবে এ স্থগিতাদেশ মূলত অভিবাসী ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য ছিল। পর্যটন বা ব্যবসার মতো সাময়িক ভ্রমণের নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ওই সিদ্ধান্তের আওতায় ছিল না।

সে সময় মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছিল, তালিকাভুক্ত দেশগুলোর কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার পর সরকারি ভাতা ও অন্যান্য সহায়তার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়তে পারেন—এমন ‘পাবলিক চার্জ’ ঝুঁকি বিবেচনায় নিয়ে ভিসা প্রক্রিয়া স্থগিত করা হয়েছে। একই সঙ্গে বিদ্যমান অভিবাসন আইনের অধীনে যাচাই প্রক্রিয়া পুনর্মূল্যায়নের কথাও জানিয়েছিল প্রশাসন।

আদালতে যায় অভিবাসী অধিকার সংগঠন

ট্রাম্প প্রশাসনের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে গত ২ ফেব্রুয়ারি নিউইয়র্কের সাউদার্ন ডিস্ট্রিক্ট আদালতে মামলা করে অভিবাসীদের অধিকার নিয়ে কাজ করা ক্যাথলিক লিগ্যাল ইমিগ্রেশন নেটওয়ার্ক (CLINIC) এবং আফ্রিকান কমিউনিটিজ টুগেদার। মামলায় তাদের সঙ্গে ১১ জন ব্যক্তিও বাদী হন।

বাদীদের মধ্যে ছিলেন পরিবারভিত্তিক ও কর্মসংস্থানভিত্তিক অভিবাসী ভিসার আবেদনকারী এবং বিদেশে থাকা পরিবারের সদস্যদের যুক্তরাষ্ট্রে আনার চেষ্টা করা মার্কিন নাগরিকরা। মামলার বিবাদী করা হয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ও মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরকে।

বাদীপক্ষের অভিযোগ ছিল, জাতীয়তার ভিত্তিতে ৭৫ দেশের নাগরিকদের জন্য একযোগে অভিবাসী ভিসা দেওয়া বন্ধ করা আইনবহির্ভূত এবং এতে প্রত্যেক আবেদনকারীর আবেদন পৃথকভাবে বিবেচনার প্রচলিত প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হয়েছে।

আদালত শেষ পর্যন্ত বাদীপক্ষের গুরুত্বপূর্ণ যুক্তি গ্রহণ করে ভিসা স্থগিতের নীতি বাতিল করেন।

বাংলাদেশিদের জন্য কী অর্থ বহন করে রায়

আদালতের এ রায়ের ফলে ৭৫ দেশের নাগরিকদের বিরুদ্ধে কেবল জাতীয়তার ভিত্তিতে আরোপিত ওই সামগ্রিক অভিবাসী ভিসা স্থগিতাদেশের আইনি ভিত্তি বাতিল হয়েছে। বাংলাদেশও ওই ৭৫ দেশের তালিকায় ছিল।

তবে এর অর্থ এই নয় যে, সব বাংলাদেশি আবেদনকারী স্বয়ংক্রিয়ভাবে মার্কিন অভিবাসী ভিসা পাবেন। প্রতিটি আবেদন যুক্তরাষ্ট্রের প্রচলিত অভিবাসন আইন, যোগ্যতা, নিরাপত্তা যাচাই, প্রয়োজনীয় নথিপত্র এবং অন্যান্য প্রযোজ্য শর্ত অনুযায়ী পৃথকভাবে বিবেচিত হবে।

রায়ের বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে রয়টার্স। প্রশাসন পরবর্তী সময়ে এ রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করবে কি না, তাও তাৎক্ষণিকভাবে স্পষ্ট হয়নি।

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় ফেরার পর যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় বেশ কয়েকটি কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছেন। প্রশাসন এসব পদক্ষেপকে জাতীয় নিরাপত্তা ও সরকারি সম্পদের সুরক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় বলে দাবি করে আসছে। অন্যদিকে অভিবাসী ও নাগরিক অধিকার সংগঠনগুলো বিভিন্ন নীতির বৈধতা নিয়ে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছে।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন