শুক্রবার, ২১ আগস্ট ২০২৬

দিনাজপুরে প্রায় ৫.৭ কেজি সাপের বিষ উদ্ধার, আটক ৪

দিনাজপুরের চিরিরবন্দরে যৌথ অভিযান চালিয়ে প্রায় ৫ কেজি ৭০০ গ্রাম সাপের বিষ উদ্ধারের কথা জানিয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। এ ঘটনায় চারজনকে আটক করা হয়েছে। জব্দ করা বিষসহ অন্যান্য মালামালের মোট মূল্য প্রায় ৩৮ কোটি ৫৭ লাখ টাকা বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

শুক্রবার (২১ আগস্ট) বিজিবি সদর দপ্তরের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. শরীফুল ইসলাম এ তথ্য জানান।

আটক ব্যক্তিরা হলেন—দিনাজপুরের চিরিরবন্দর উপজেলার মো. জাহাঙ্গীর আলম (৪৩), দিনাজপুর সদর উপজেলার মো. সালাউদ্দিন সান্জু (৪১), ফুলবাড়ী উপজেলার মো. আনিছুর রহমান (৫৫) এবং বিরামপুর উপজেলার উজ্জল আলী (৫৪)।

দিনাজপুর ব্যাটালিয়নের (৪২ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আব্দুল্লাহ আল মঈন হাসানের বরাত দিয়ে বিজিবি জানায়, গত ১৩ আগস্ট দুপুরে গোপন তথ্যের ভিত্তিতে চিরিরবন্দর উপজেলার আমবাড়ী এলাকায় অভিযান চালানো হয়। বিজিবির দিনাজপুর ক্যাম্প, র‌্যাব-১৩ এবং একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের সমন্বয়ে গঠিত যৌথ দল অভিযানে অংশ নেয়।

অভিযানে চারজনকে আটকের পাশাপাশি তিনটি কাচের জারে রাখা আনুমানিক ৫ কেজি ৭০০ গ্রাম সন্দেহভাজন সাপের বিষ জব্দ করা হয়। একই সঙ্গে একটি প্রাইভেটকার, দুটি মোটরসাইকেল, চারটি মোবাইল ফোন ও ছয়টি সিমকার্ড জব্দ করা হয়।

বিজিবির দাবি, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটক ব্যক্তিদের আন্তর্জাতিক চোরাচালান চক্রের সঙ্গে সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে। এর আগেও তারা পার্শ্ববর্তী দেশে সাপের বিষ পাচারের সঙ্গে জড়িত ছিলেন বলে দাবি করেছে সংস্থাটি। জব্দ করা বিষ বিদেশে পাচারের উদ্দেশ্যে পরিবহন করা হচ্ছিল বলেও প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে বিজিবি।

তবে অভিযানের সময় উদ্ধার করা পদার্থটি তাৎক্ষণিকভাবে সাপের বিষ হিসেবে নিশ্চিত করা হয়নি। বিজিবি জানায়, আদালতের নির্দেশে গত ১৯ আগস্ট হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষাগারে নমুনার রাসায়নিক পরীক্ষা করা হয়। পরীক্ষায় নমুনাটি সাপের বিষ হিসেবে শনাক্ত হওয়ার পর বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।

বিজিবির হিসাবে, উদ্ধার করা সাপের বিষ, প্রাইভেটকার, মোটরসাইকেলসহ জব্দ করা সব মালামালের মোট সিজার মূল্য ৩৮ কোটি ৫৭ লাখ ৩ হাজার ৮০০ টাকা।

অভিযানের পর গত ১৩ আগস্ট আটক চারজনকে জব্দ করা মালামালসহ পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য চিরিরবন্দর থানায় হস্তান্তর করা হয়।

৪২ বিজিবির অধিনায়ক জানান, বন্যপ্রাণীজাত পণ্য ও মূল্যবান সম্পদসহ অবৈধ পণ্য পাচার ঠেকাতে সীমান্তরক্ষী বাহিনীর গোয়েন্দা নজরদারি ও অভিযান অব্যাহত থাকবে। একই সঙ্গে মাদক, অস্ত্র ও মানবপাচারসহ আন্তঃসীমান্ত অপরাধ প্রতিরোধেও অভিযান চলবে।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন