শনিবার, ১৫ আগস্ট ২০২৬

আন্তর্জাতিক যুব দিবসে ছায়া সংসদ বিতর্ক: দক্ষ যুবশক্তি গঠনে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বের ওপর গুরুত্ব

আন্তর্জাতিক যুব দিবস ২০২৬ উপলক্ষে তরুণদের দক্ষতা উন্নয়ন, কর্মসংস্থান ও উদ্যোক্তা তৈরিতে সরকারি-বেসরকারি খাতের সমন্বিত ভূমিকার ওপর গুরুত্ব দিয়ে রাজধানীতে অনুষ্ঠিত হয়েছে ছায়া সংসদ বিতর্ক প্রতিযোগিতা।

‘দক্ষ যুবশক্তি গড়ে তুলতে সরকারি খাতের তুলনায় বেসরকারি খাতের সম্পৃক্ততা বেশি গুরুত্বপূর্ণ’—এই বিষয়ে আয়োজিত বিতর্ক প্রতিযোগিতাটি আয়োজন করে কেয়ার বাংলাদেশ (CARE Bangladesh) ও এসওএস চিলড্রেনস ভিলেজেস বাংলাদেশ (SOS Children’s Villages Bangladesh), সহযোগিতায় ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি (Debate for Democracy)।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের মাননীয় প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে মো. আমিনুল হক বলেন, দ্রুত পরিবর্তনশীল কর্মবাজারের সঙ্গে তাল মিলিয়ে বাংলাদেশের তরুণদের প্রস্তুত করতে আধুনিক ও বাজারমুখী দক্ষতা প্রশিক্ষণ, উদ্যোক্তা উন্নয়ন, ডিজিটাল ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক (AI) দক্ষতা অর্জনের সুযোগ বাড়াতে হবে। এ ক্ষেত্রে সরকার, বেসরকারি খাত, উন্নয়ন সহযোগী এবং নাগরিক সমাজের মধ্যে আরও শক্তিশালী সমন্বয় প্রয়োজন।

তিনি বলেন, শুধু ডিগ্রি অর্জন করলেই হবে না; তরুণদের দক্ষ, কর্মযোগ্য এবং পরিবর্তিত কর্মবাজারের জন্য প্রস্তুত করে গড়ে তুলতে হবে। যুব দক্ষতা উন্নয়ন ও কর্মসংস্থানের সুযোগ সম্প্রসারণে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের পাশাপাশি বেসরকারি ও উন্নয়ন সংস্থাগুলোর ভূমিকার কথাও তিনি তুলে ধরেন।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন কেয়ার বাংলাদেশের সিনিয়র ডিরেক্টর ড. মোহাম্মদ মেহরুল ইসলাম এবং এসওএস চিলড্রেনস ভিলেজেস বাংলাদেশের ডেপুটি ডিরেক্টর এরফান হক। তারা বলেন, তরুণদের অর্থবহ ক্ষমতায়নের জন্য সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব আরও শক্তিশালী করা প্রয়োজন। পাশাপাশি উন্নয়ন সহযোগী, যুব সংগঠন ও অন্যান্য অংশীজনের সমন্বিত উদ্যোগ এবং যুব দক্ষতা ও উদ্যোক্তা উন্নয়নে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ জরুরি।

বিতর্ক প্রতিযোগিতায় বিচারক প্যানেলে ছিলেন যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব ড. শেখ মোহাম্মদ জোবায়েদ হোসেন, এসওএস চিলড্রেনস ভিলেজেস বাংলাদেশের ডেপুটি ন্যাশনাল ডিরেক্টর মো. মাসুদ রানা এবং কেয়ার বাংলাদেশের উইমেন অ্যান্ড ইয়ুথ প্রোগ্রামের পরিচালক রওনক জাহানসহ বিশিষ্ট ব্যক্তিরা।

ছায়া সংসদে সরকারি দলের প্রতিনিধিত্ব করে শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় এবং বিরোধী দলের প্রতিনিধিত্ব করে ইস্টার্ন ইউনিভার্সিটি। প্রতিযোগিতায় তরুণ বিতার্কিকরা তথ্য-উপাত্তনির্ভর যুক্তি, বিভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি ও আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে নিজেদের বক্তব্য তুলে ধরেন। প্রাণবন্ত এ বিতর্কে তরুণদের মেধা, বিশ্লেষণী সক্ষমতা ও বুদ্ধিবৃত্তিক উৎকর্ষের প্রতিফলন ঘটে।

আয়োজকরা জানান, তিন বছর মেয়াদি যুব ক্ষমতায়ন উদ্যোগ ‘জাগরণ’ (JAGORON) প্রকল্পের আওতায় এ আয়োজন করা হয়েছে। এসওএস চিলড্রেনস ভিলেজেস বাংলাদেশ ও কেয়ার বাংলাদেশ যৌথভাবে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে এবং এতে আর্থিক সহায়তা দিচ্ছে এসওএস চিলড্রেনস ভিলেজেস ইন্টারন্যাশনাল।

‘জাগরণ’ প্রকল্পের মাধ্যমে তরুণদের দক্ষতা উন্নয়ন, কর্মসংস্থান ও উদ্যোক্তা তৈরির সুযোগ সম্প্রসারণের পাশাপাশি সরকার, বেসরকারি খাত, যুব নেতৃত্বাধীন সংগঠন এবং অন্যান্য অংশীজনকে সম্পৃক্ত করে তরুণদের জন্য আরও অর্থবহ সুযোগ তৈরিতে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন আয়োজকরা।

আন্তর্জাতিক যুব দিবস ২০২৬-এর প্রতিপাদ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে আয়োজিত এ অনুষ্ঠান তরুণদের দক্ষতা উন্নয়ন ও ভবিষ্যৎ কর্মবাজারের উপযোগী করে গড়ে তুলতে সমন্বিত উদ্যোগ এবং অংশীদারত্বের প্রয়োজনীয়তাকে সামনে নিয়ে আসে।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন