শুক্রবার, ১৪ আগস্ট ২০২৬

রাতে ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় দীর্ঘ সময় লোডশেডিং

রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় বুধবার রাতে দীর্ঘ সময় ধরে লোডশেডিং হয়েছে। রাত ৯টা থেকে রাত দেড়টার মধ্যে কোথাও দেড় থেকে দুই ঘণ্টা, আবার কোথাও এক ঘণ্টার বেশি সময় বিদ্যুৎ ছিল না বলে জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। ভ্যাপসা গরমের মধ্যে মধ্যরাতে দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় ভোগান্তিতে পড়েন নগরবাসী।

স্থানীয় বাসিন্দাদের তথ্য অনুযায়ী, বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা, ইস্কাটন গার্ডেনের কিছু অংশ, কাজীপাড়া, মৌচাক, কারওয়ান বাজার, পান্থপথ, পশ্চিম রাজাবাজার, লালমাটিয়া ও মোহাম্মদপুরের কৃষি মার্কেট এলাকায় রাতে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ ছিল।

রাত ১১টার দিকে শেওড়াপাড়ার এক বাসিন্দা জানান, তার বাসায় বিদ্যুৎ ছিল না। প্রায় এক ঘণ্টা পর সেখানে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক হয়।

ইস্কাটনের এক বাসিন্দা জানান, ওই এলাকায় সাধারণত ট্রান্সফরমারে সমস্যা হলে ৫ থেকে ১০ মিনিটের মধ্যে বিদ্যুৎ ফিরে আসে। তবে বুধবার রাতে প্রায় ৫০ মিনিটেও বিদ্যুৎ আসেনি।

প্রচণ্ড গরমে ভোগান্তি

বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার বাসিন্দা শারমিন জানান, মাঝরাতে তার এলাকায় এক ঘণ্টার বেশি সময় বিদ্যুৎ ছিল না। ঢাকায় মাঝরাতে এত দীর্ঘ সময় ধরে লোডশেডিং আগে দেখেননি বলেও জানান তিনি।

আরেক বাসিন্দা শাকিলা বলেন, ‘অথচ আগের তুলনায় দ্বিগুণ বিদ্যুৎ বিল আসছে। মাঝরাতে লোডশেডিংয়ের কারণে ঘুমের খুব সমস্যা হচ্ছে।’

কাজীপাড়ার বাসিন্দা সাংবাদিক হাকিম বলেন, গত তিন বছরের মধ্যে বুধবার রাতেই তার এলাকায় সবচেয়ে বেশি সময় লোডশেডিং হয়েছে। প্রচণ্ড গরম ও মশার কারণে ঘুমানো কঠিন হয়ে পড়েছে বলেও জানান তিনি।

তিনি বিদ্যুৎ সরবরাহের অব্যবস্থাপনা কমিয়ে দ্রুত জনজীবনে স্বস্তি ফেরানোর দাবি জানান।

এদিকে কারওয়ান বাজার, পান্থপথ, পশ্চিম রাজাবাজার ও মোহাম্মদপুরের কৃষি মার্কেট এলাকার বাসিন্দারাও রাতে বিদ্যুৎ না থাকার কথা জানিয়েছেন।

তবে রাজধানীর সব এলাকায় একই পরিস্থিতি ছিল না। মিরপুর-১১ ও সাংবাদিক প্লট এলাকায় রাত সাড়ে ১২টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক ছিল বলে জানান স্থানীয় এক বাসিন্দা। তিনি বলেন, রাত সাড়ে ১০টার দিকে বাসায় ফেরার সময় বিহারি ক্যাম্প এলাকায় বিদ্যুৎ ছিল না।

দেশে লোডশেডিং বেড়েছে

গ্যাস সরবরাহের সংকটে বিদ্যুৎ উৎপাদন কমে যাওয়ায় সাম্প্রতিক সময়ে সারা দেশে লোডশেডিং বেড়েছে। কয়েক দিন ধরে দেশে সর্বোচ্চ লোডশেডিং তিন হাজার মেগাওয়াটের বেশি হচ্ছে।

বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) ও পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশ পিএলসির (পিজিসিবি) তথ্য অনুযায়ী, বুধবার দেশে সর্বোচ্চ লোডশেডিং ছিল ৩ হাজার ৩৮২ মেগাওয়াট। এর আগে রোববার সর্বোচ্চ লোডশেডিং ছিল ৩ হাজার ৬৭১ মেগাওয়াট, সোমবার ৩ হাজার ৭৫৭ মেগাওয়াট এবং মঙ্গলবার ৩ হাজার ৪৬৫ মেগাওয়াট।

পিডিবি ও বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড (আরইবি) সূত্র জানায়, ১১ আগস্ট রাত ১২টায় সারা দেশে মোট লোডশেডিং ছিল ৩ হাজার ৫৯২ মেগাওয়াট। একই সময়ে আরইবির আওতাধীন এলাকায় লোডশেডিং ছিল ৩ হাজার ৩৪ মেগাওয়াট।

গ্যাসের সরবরাহেও ঘাটতি

বিদ্যুৎ উৎপাদনের পাশাপাশি দেশে গ্যাস সরবরাহেও ঘাটতি রয়েছে। বুধবার দেশে গ্যাসের সরবরাহ ছিল প্রায় ২০৩ কোটি ঘনফুট। বিপরীতে চাহিদা ছিল প্রায় ৩৮০ কোটি ঘনফুট।

সমুদ্রে বৈরী আবহাওয়ার কারণে সামিটের ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল থেকে গ্যাস সরবরাহ কমে ১০ কোটি ঘনফুটের নিচে নেমে এসেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বুধবার বলেন, গ্যাস সরবরাহের ঘাটতির কারণে বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। বিদ্যুৎ ও গ্যাস পরিস্থিতির উন্নতিতে সরকার সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন