বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট ২০২৬

নবীনগরে সেলুনকর্মী আতিকুর রহমান হত্যা: মূল রহস্য উদঘাটন, গ্রেপ্তার ৩

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সেলুনকর্মী আতিকুর রহমান (১৯) হত্যা মামলার মূল রহস্য উদঘাটনের দাবি করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। পূর্বশত্রুতার জেরে তাকে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যার পর মরদেহ বস্তাবন্দি করে পুকুরে ফেলে রাখা হয় বলে জানিয়েছে সংস্থাটি। এ ঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে একজন আদালতে হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন।

পিবিআই ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, নবীনগর থানার মহেশপুর গ্রামের সেলুনকর্মী আতিকুর রহমান গত ২৯ মার্চ রাত সাড়ে ৮টার দিকে বাড়ি থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হন। পরে ১ এপ্রিল সকাল সাড়ে ৬টার দিকে উপজেলার বিটঘর ইউনিয়নের মহেশপুর গ্রামের রুস্তুম হাজী ও বাচ্চু হাজীর যৌথ পুকুর থেকে তার ভাসমান মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

এ ঘটনায় নিহতের মা তাছলিমা বেগম বাদী হয়ে ছয়জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৭ থেকে ৮ জনকে আসামি করে নবীনগর থানায় মামলা করেন। গত ২ এপ্রিল দায়ের করা মামলাটিতে দণ্ডবিধির ৩০২, ২০১ ও ৩৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়।

বাদীর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে মামলাটির তদন্তভার পিবিআই ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা গ্রহণ করে। বর্তমানে এসআই (নিঃ) মো. শাহাদাত হোসেন মামলাটি তদন্ত করছেন।

পিবিআই জানায়, তদন্তের ধারাবাহিকতায় গত ১২ আগস্ট আখাউড়ার খড়মপুর কেল্লা শাহ মাজার এলাকা থেকে মামলার এজাহারনামীয় ১ নম্বর আসামি মো. সাগরকে (২০) গ্রেপ্তার করা হয়। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একই দিন ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌরসভার ভাদুঘর এলাকায় পিবিআই কার্যালয়ের সামনে থেকে তদন্তে প্রাপ্ত আরও দুই আসামি মো. সাদ্দাম (৩৬) ও মো. বোরহানকে (২২) গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তার সাগর আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন বলে জানিয়েছে পিবিআই।

তদন্তে পাওয়া তথ্যের বরাত দিয়ে পিবিআই জানায়, নিহত আতিকুর রহমান ও সাগর পরস্পরের বন্ধু ছিলেন। এছাড়া সাদ্দাম, বোরহান, ইমন ও দুলালের সঙ্গে তাদের পূর্বপরিচয় ছিল। ঘটনার রাতে তারা বোরহানের ঘরে একত্রিত হয়ে মাদক সেবন ও লুডু খেলছিলেন।

লুডু খেলা শেষে পূর্ববিরোধের জেরে আতিকুরের সঙ্গে বোরহানের তর্কাতর্কি শুরু হয়। একপর্যায়ে বোরহান উত্তেজিত হয়ে আতিকুরের অণ্ডকোষে লাথি মারলে তিনি গুরুতর আহত হয়ে অচেতন হয়ে পড়েন বলে তদন্তে উঠে এসেছে।

পরে সাদ্দামসহ অন্য আসামিরা একটি কালো রঙের ওড়না আতিকুরের গলায় পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করেন বলে জানিয়েছে পিবিআই। এরপর হত্যাকাণ্ডের আলামত ও মরদেহ গোপন করার উদ্দেশ্যে লাশটি বস্তাবন্দি করে পুকুরের পানিতে গাছের শিকড়ের সঙ্গে বেঁধে রেখে তারা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান।

মামলার সঙ্গে জড়িত পলাতক অন্যান্য আসামিদের গ্রেপ্তারে পিবিআইয়ের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। পাশাপাশি মামলাটির তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে বলে প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন