বুধবার, ১২ আগস্ট ২০২৬

পল্লবীতে গুলি করে হত্যাচেষ্টার ঘটনায় ‘ল্যাংড়া রুবেল’সহ গ্রেপ্তার ৫

রাজধানীর পল্লবীতে মাদক বিক্রির লেনদেনকে কেন্দ্র করে গোলাগুলির ঘটনায় কুখ্যাত সন্ত্রাসী ও মাদক ব্যবসায়ী ‘ল্যাংড়া রুবেল’সহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) মিরপুর বিভাগ।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—হামিদ খান ওরফে মাখন, ল্যাংড়া রুবেল, তানজিদ আহাম্মেদ ওরফে বাপ্পা, পারভেজ ও রাব্বী।

ডিবি জানিয়েছে, অভিযানে তাদের কাছ থেকে গোলাগুলিতে ব্যবহৃত একটি বিদেশি পিস্তল, দুই রাউন্ড গুলি ও দুটি ম্যাগাজিন, এক হাজার পিস ইয়াবা এবং মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত একটি গাড়ি উদ্ধার করা হয়েছে।

ডিবি সূত্র জানায়, গত শুক্রবার (৭ আগস্ট) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে পল্লবী থানার ১১ নম্বর সেকশনে ইমনের চায়ের দোকানের সামনে গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। এ সময় আলমগীর নামে এক ব্যক্তি পেটে ও মাথায় গুলিবিদ্ধ হন। একই ঘটনায় জোসনা নামে এক পথচারী নারী পায়ে গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হন।

ঘটনার পর আলমগীরের স্ত্রী বাদী হয়ে পল্লবী থানায় হত্যাচেষ্টার অভিযোগে মামলা করেন। মামলার পর ঘটনাটি তদন্তে নামে ডিবির মিরপুর বিভাগ।

ডিবি জানায়, তদন্তের অংশ হিসেবে ঘটনাস্থলের ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণ এবং তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় গোলাগুলিতে ব্যবহৃত একটি টয়োটা প্রিমিও গাড়ি শনাক্ত করা হয়। পরে গাড়িটির মালিক হামিদ খান ওরফে মাখনকে পল্লবী এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।

জিজ্ঞাসাবাদে হামিদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তদন্তকারীরা জানতে পারেন, গাড়িটি তার নামে নিবন্ধিত হলেও এর প্রকৃত মালিক হিসেবে ল্যাংড়া রুবেলের নাম উঠে আসে। হামিদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মাদক সিন্ডিকেট ও গোলাগুলির ঘটনায় জড়িত অন্যদের বিষয়ে অনুসন্ধান চালায় ডিবি।

এরপর পল্লবীর কালশী এলাকা থেকে ল্যাংড়া রুবেলের সহযোগী হিসেবে পরিচিত পারভেজ ও রাব্বীকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের কাছ থেকে ল্যাংড়া রুবেলের ব্যবহৃত একটি সাদা রঙের টয়োটা ভক্সি গাড়ি উদ্ধার করা হয়। পরে গাড়িটির ভেতর তল্লাশি চালিয়ে এক হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয় বলে জানিয়েছে ডিবি।

পরবর্তীতে পারভেজ ও রাব্বীর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে রূপনগর থানার ইস্টার্ন হাউজিং সংলগ্ন বেড়িবাঁধ এলাকায় অভিযান চালায় ডিবি। সেখান থেকে ল্যাংড়া রুবেল ও তানজিদ আহাম্মেদ ওরফে বাপ্পাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে একটি বিদেশি পিস্তল, দুই রাউন্ড গুলি ও দুটি ম্যাগাজিন উদ্ধার করা হয়।

ডিবির প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা জানিয়েছে, মাদকদ্রব্য বিক্রির লেনদেনকে কেন্দ্র করে ল্যাংড়া রুবেল ও তার সহযোগীরা ওই গোলাগুলিতে জড়িত ছিল। তবে ঘটনার বিস্তারিত কারণ ও এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্যদের ভূমিকা যাচাই করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

ডিবি আরও জানায়, গ্রেপ্তার ল্যাংড়া রুবেল ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা রয়েছে।

এ ঘটনায় দায়ের করা হত্যাচেষ্টা মামলার পাশাপাশি অস্ত্র আইনে এবং মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে পৃথক দুটি মামলা করার প্রক্রিয়া চলছে। গোলাগুলির ঘটনায় জড়িত অন্য ব্যক্তিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে ডিবির অভিযান অব্যাহত রয়েছে।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন