বুধবার, ১২ আগস্ট ২০২৬

পশ্চিম তীর ‘বিস্ফোরণের দ্বারপ্রান্তে’: জাতিসংঘে উদ্বেগ

অধিকৃত পশ্চিম তীরের পরিস্থিতি ‘বিস্ফোরণের দ্বারপ্রান্তে’ পৌঁছেছে বলে সতর্ক করেছে জাতিসংঘ। অঞ্চলটিতে অবৈধ ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতা নজিরবিহীন মাত্রায় বেড়েছে এবং এর পাশাপাশি ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রব্যবস্থার ভিত্তি ধারাবাহিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়ছে বলে উদ্বেগ জানিয়েছেন জাতিসংঘের কর্মকর্তারা।

মঙ্গলবার জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠকে এসব উদ্বেগ তুলে ধরেন জাতিসংঘের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

ইউনিসেফের উপনির্বাহী পরিচালক হান্নান সুলেইমান বলেন, শিশুদের নিরাপদে বেড়ে ওঠার জন্য যে রাজনৈতিক পরিবেশ প্রয়োজন, মানবিক সহায়তা সংস্থাগুলোর একার পক্ষে তা তৈরি করা সম্ভব নয়। এ ধরনের পরিস্থিতি পরিবর্তনের ক্ষমতা যেসব রাষ্ট্রের রয়েছে, তাদেরই প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে।

নিরাপত্তা পরিষদে তিনি ফিলিস্তিনি শিশুদের সুরক্ষায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সামনে চারটি জরুরি পদক্ষেপের কথা তুলে ধরেন। এর মধ্যে রয়েছে প্রশাসনিক আটক বন্ধ করা, কূটনৈতিক চাপ প্রয়োগের মাধ্যমে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুতি ঠেকানো, স্কুল ও হাসপাতালে নিরাপদ প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করা এবং জরুরি মানবিক সহায়তা দ্রুত ও বাধাহীনভাবে পৌঁছানোর সুযোগ তৈরি করা।

পশ্চিম তীরে শতাধিক শিশুর মৃত্যু

ইউনিসেফের কর্মকর্তা জানান, ২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে অধিকৃত পশ্চিম তীরে ১৭৪ জন ফিলিস্তিনি শিশুর মৃত্যুর ঘটনা যাচাই করা হয়েছে। অর্থাৎ গড়ে প্রতি সপ্তাহে একজনের বেশি শিশু প্রাণ হারিয়েছে।

এ ছাড়া বর্তমানে অন্তত ৩৫৫ জন ফিলিস্তিনি শিশু ইসরায়েলি সামরিক হেফাজতে রয়েছে বলে জানান তিনি। গত আট বছরের মধ্যে শিশু আটকের এই সংখ্যা সর্বোচ্চ। আটক শিশুদের প্রায় অর্ধেকের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ বা বিচার নেই বলেও নিরাপত্তা পরিষদকে জানানো হয়।

বাস্তুচ্যুতি নিয়ে জাতিসংঘের সতর্কতা

জাতিসংঘের উপবিশেষ সমন্বয়কারী রামিজ আলাকবারভও পশ্চিম তীরের পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি এটিকে এমন একটি জরুরি পরিস্থিতি হিসেবে উল্লেখ করেন, যেখানে দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে অঞ্চলটিতে কার্যত একতরফা সংযুক্তিকরণের পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।

তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালে এখন পর্যন্ত পশ্চিম তীরে সহিংসতা, বাড়িঘর ধ্বংস এবং উচ্ছেদের ঘটনায় কয়েক ডজন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। একই সময়ে প্রায় ৩ হাজার ৮০০ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।

আলাকবারভ বলেন, অবৈধ বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতা নজিরবিহীন পর্যায়ে পৌঁছেছে। চলতি বছর এ পর্যন্ত ১ হাজার ৪০০টির বেশি এমন ঘটনা নথিভুক্ত করা হয়েছে, যা পশ্চিম তীরের প্রায় ২৬০টি সম্প্রদায়ের ওপর প্রভাব ফেলেছে।

তিনি বলেন, ফিলিস্তিনিদের নিজ এলাকা থেকে সরিয়ে দেওয়ার পর সেই খালি হয়ে যাওয়া ভূমি অবৈধ বসতি স্থাপনকারীদের দখলে নেওয়ার একটি সুস্পষ্ট প্রবণতা দেখা যাচ্ছে।

জাতিসংঘের এই কর্মকর্তা আরও জানান, প্রথমবারের মতো পশ্চিম তীরের ‘এরিয়া এ’ হিসেবে পরিচিত এলাকায় অবৈধ বসতি স্থাপনকারীদের অবকাঠামো নির্মাণের জন্য ভূমি সরাসরি দখলের ঘটনাও নথিভুক্ত হয়েছে।

জাতিসংঘের কর্মকর্তারা মনে করছেন, পশ্চিম তীরে চলমান সহিংসতা, বাস্তুচ্যুতি ও ভূমি দখলের প্রবণতা অব্যাহত থাকলে ফিলিস্তিনি জনগোষ্ঠীর নিরাপত্তা ও ভবিষ্যৎ রাষ্ট্রীয় কাঠামো আরও বড় ধরনের সংকটের মুখে পড়বে। পরিস্থিতির অবনতি ঠেকাতে দ্রুত রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক পদক্ষেপের প্রয়োজন বলেও তারা নিরাপত্তা পরিষদকে সতর্ক করেছেন।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন