অনুসরণ করুন:
বৃহস্পতিবার, ৬ আগস্ট ২০২৬

যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হচ্ছে ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবস ২০২৬’

দেশব্যাপী নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে আজ (৫ আগস্ট) পালিত হচ্ছে ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবস ২০২৬’। দিবসটি উপলক্ষে জাতীয় পর্যায়ে স্মরণ, শ্রদ্ধা, আলোচনা, সাংস্কৃতিক আয়োজন এবং জনসচেতনতামূলক বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করেছে সরকার।

দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী পৃথক বাণী দিয়েছেন। দেশের ৬৪ জেলায় জুলাই শহীদদের স্মরণে নির্মিত স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে শ্রদ্ধা জানানো হচ্ছে। একই সঙ্গে জাতীয় দৈনিক ও সাময়িকীগুলোতে বিশেষ নিবন্ধ, স্মৃতিচারণ, সাহিত্য এবং বিশেষ ক্রোড়পত্র প্রকাশ করা হয়েছে।

সকালে রাজধানীতে ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর’ উদ্বোধনের কর্মসূচি রয়েছে। পরে বাংলাদেশ–চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে জুলাই শহীদ পরিবারের সদস্য ও আন্দোলনে অংশ নেওয়া যোদ্ধাদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে। সেখানে দিবসটির ঐতিহাসিক গুরুত্ব ও গণতান্ত্রিক চেতনা নিয়ে আলোচনা হবে।

সরকারের উদ্যোগে শুধু রাজধানীতেই নয়, দেশের প্রতিটি জেলাতেও শহীদ পরিবার ও আন্দোলনের অংশগ্রহণকারীদের সম্মাননা এবং আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়েছে। পাশাপাশি সিটি করপোরেশন এলাকার গুরুত্বপূর্ণ স্থানে জুলাই আন্দোলনের দুর্লভ আলোকচিত্র ও প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শনের ব্যবস্থা করা হয়েছে, যাতে নতুন প্রজন্ম ইতিহাস সম্পর্কে জানতে পারে।

দিবসটি উপলক্ষে বাংলাদেশ টেলিভিশন, বাংলাদেশ বেতারসহ বিভিন্ন বেসরকারি টেলিভিশন, এফএম ও কমিউনিটি রেডিওতে বিশেষ অনুষ্ঠান, আলোচনা এবং স্মৃতিচারণমূলক অনুষ্ঠান সম্প্রচার করা হচ্ছে। দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতেও আলোচনা সভা, রচনা, আবৃত্তি ও চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছে।

বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসগুলোতেও দিবসটি উপলক্ষে আলোচনা ও স্মরণসভা অনুষ্ঠিত হবে। ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোতে বিশেষ দোয়া, মোনাজাত বা প্রার্থনার আয়োজন করা হয়েছে।

দিবসকে ঘিরে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন শহরের প্রধান সড়ক, সড়কদ্বীপ এবং গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা জাতীয় পতাকা, ব্যানার, ফেস্টুন ও রঙিন পতাকায় সজ্জিত করা হয়েছে। জুলাই স্মৃতিস্তম্ভগুলোও আলোকসজ্জায় সজ্জিত করা হয়েছে। এ উপলক্ষে একটি স্মারক ডাকটিকিট প্রকাশের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

জনসাধারণের অংশগ্রহণ বাড়াতে সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত জাদুঘরগুলো দিনব্যাপী বিনা টিকিটে দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত রাখা হয়েছে। একইভাবে শিশুদের জন্য সরকারি ও বেসরকারি বিনোদনকেন্দ্রেও বিশেষ সুবিধার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

এ ছাড়া সরকারি হাসপাতাল, কারাগার, সরকারি শিশু পরিবার, শিশু পুনর্বাসন কেন্দ্র, প্রতিবন্ধী কল্যাণ কেন্দ্র, ডে-কেয়ার, শিশু বিকাশ কেন্দ্র এবং ভবঘুরে আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে বিশেষ প্রীতিভোজের আয়োজন করা হয়েছে।

সরকারের মতে, এসব কর্মসূচির মাধ্যমে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের ইতিহাস সংরক্ষণ, শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে আন্দোলনের তাৎপর্য তুলে ধরাই এ বছরের আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন