অনুসরণ করুন:
বুধবার, ৫ আগস্ট ২০২৬

উত্তরাঞ্চলকে নতুন শিল্প ও বিনিয়োগ কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে সরকারের বহুমুখী উদ্যোগ

রাজশাহী: উত্তরাঞ্চলকে দেশের নতুন বিনিয়োগ ও শিল্পায়নের কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে সরকার নীতিগত সংস্কার, বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ, কর-সুবিধা, অর্থায়ন, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং কৃষিভিত্তিক শিল্প সম্প্রসারণে একাধিক উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর

রাজশাহীতে কৃষি প্রক্রিয়াজাতকরণ বিষয়ে আয়োজিত এক আঞ্চলিক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, সরকার ইতোমধ্যে বিনিয়োগের পথে থাকা অনেক কাঠামোগত প্রতিবন্ধকতা দূর করেছে। এখন স্থানীয় উদ্যোক্তাদের উৎপাদনমুখী বিনিয়োগে এগিয়ে আসার সময়।

তিনি বলেন, অন্তর্বর্তী অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলার পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদে দেশের অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী ও টেকসই ভিত্তির ওপর দাঁড় করানোই সরকারের লক্ষ্য। সেই উদ্দেশ্যে অঞ্চলভিত্তিক উন্নয়ন কৌশল গ্রহণ করা হয়েছে, যাতে দীর্ঘদিন পিছিয়ে থাকা এলাকাগুলোও শিল্পায়ন ও কর্মসংস্থানের মূলধারায় যুক্ত হতে পারে।

ড. তিতুমীর জানান, ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে উন্নীত করার লক্ষ্যে সরকার বিনিয়োগকারীদের জন্য স্থিতিশীল ও পূর্বানুমানযোগ্য নীতিগত পরিবেশ নিশ্চিত করার চেষ্টা করছে। দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা সহজ করতে কর কাঠামোয় ধারাবাহিকতা এবং রপ্তানিমুখী খাতে সমতাভিত্তিক সুবিধা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ব্যবসা শুরু ও পরিচালনার ক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রণ প্রক্রিয়া সহজ করা হচ্ছে। লাইসেন্স গ্রহণ থেকে শিল্পকারখানা চালু হওয়া পর্যন্ত বিভিন্ন ধাপ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সম্পন্ন এবং অনলাইনে পর্যবেক্ষণের ব্যবস্থা গড়ে তোলা হচ্ছে, যাতে বিনিয়োগকারীদের হয়রানি কমে।

অর্থায়নের বিষয়ে তিনি জানান, ব্যাংকিং খাত ও পুঁজিবাজারে চলমান সংস্কারের পাশাপাশি বিভিন্ন পুনঃঅর্থায়ন কর্মসূচির মাধ্যমে শিল্প উদ্যোক্তাদের সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে উত্তরাঞ্চলে কৃষিভিত্তিক শিল্প বিকাশে বাংলাদেশ ব্যাংকের মাধ্যমে পৃথক একটি বিশেষ তহবিল সংরক্ষণের কথাও তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, কর, ভ্যাট ও কাস্টমস ব্যবস্থাকে ধাপে ধাপে ডিজিটাল করা হচ্ছে, যাতে সেবা গ্রহণ সহজ হয় এবং প্রশাসনিক জটিলতা কমে।

জ্বালানি নিরাপত্তার প্রসঙ্গে তিনি সৌরবিদ্যুতের সম্ভাবনার ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, রাজশাহীতে সরকারি-বেসরকারি ভবনের ছাদে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে। একই সঙ্গে উত্তরাঞ্চলের পণ্য দ্রুত সমুদ্রবন্দরে পৌঁছাতে রেল যোগাযোগ আধুনিকায়ন এবং ডুয়াল গেজ রেললাইন নির্মাণের পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন।

কৃষিভিত্তিক শিল্প প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আলু, ভুট্টা, আম, লিচুসহ বিভিন্ন কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাত করে উচ্চমূল্যের শিল্পপণ্য উৎপাদনের বড় সম্ভাবনা রয়েছে। দুগ্ধশিল্প, খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, ফার্মাসিউটিক্যাল কাঁচামালসহ বিভিন্ন খাতে নতুন বিনিয়োগের সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে।

তিনি উদ্যোক্তাদের উদ্দেশে বলেন, সরকার নীতিগত সহায়তা ও বিনিয়োগের পরিবেশ তৈরির কাজ করছে। এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে নতুন শিল্প, কর্মসংস্থান এবং আঞ্চলিক অর্থনীতির বিকাশে বেসরকারি খাতকে আরও সক্রিয় ভূমিকা রাখতে হবে।

অনুষ্ঠানে রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনারের সভাপতিত্বে সরকারি কর্মকর্তা, বিনিয়োগ উন্নয়ন সংস্থার প্রতিনিধিসহ স্থানীয় উদ্যোক্তারা অংশ নেন। তারা কৃষি প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্প সম্প্রসারণ, বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং আঞ্চলিক অর্থনৈতিক উন্নয়নে সরকারি-বেসরকারি সমন্বয়ের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন