অনুসরণ করুন:
মঙ্গলবার, ৪ আগস্ট ২০২৬

বাতিল হচ্ছে ২০২৬ সালের অত্যাবশ্যকীয় ঔষধের তালিকা ও মূল্য নির্ধারণ পদ্ধতি

জাতীয় ঔষধ উপদেষ্টা পরিষদের মতামত ছাড়া প্রণয়নের অভিযোগ; আপাতত বহাল থাকবে ১৯৯৪ সালের তালিকা ও সরকারি মূল্য ব্যবস্থা

দেশের ওষুধ খাতের নীতিনির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। মন্ত্রিসভা ‘অত্যাবশ্যকীয় ঔষধের তালিকা, ২০২৬’ এবং ‘ঔষধের মূল্য নির্ধারণ পদ্ধতি, ২০২৬’ বাতিলের প্রস্তাব অনুমোদন করেছে। একই সঙ্গে নতুনভাবে তালিকা প্রণয়ন এবং ওষুধের মূল্য পুনর্নির্ধারণের উদ্যোগ নেওয়ার সিদ্ধান্তও হয়েছে।

সোমবার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

কেন বাতিল করা হলো?

সরকারের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, ঔষধ ও কসমেটিকস আইন, ২০২৩-এ অত্যাবশ্যকীয় ঔষধের তালিকা প্রণয়নের আগে জাতীয় ঔষধ উপদেষ্টা পরিষদের পরামর্শ গ্রহণ বাধ্যতামূলক। কিন্তু ২০২৬ সালের তালিকা এবং মূল্য নির্ধারণ পদ্ধতি প্রণয়নের সময় এই আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়নি।

এই প্রক্রিয়াগত ত্রুটির কারণে তালিকা ও মূল্য নির্ধারণের বৈধতা উচ্চ আদালতে চ্যালেঞ্জ করা হয় এবং বিষয়টি বর্তমানে বিচারাধীন। আইনি জটিলতা এড়াতে সরকার বিদ্যমান ২০২৬ সালের তালিকা ও মূল্য নির্ধারণ পদ্ধতি বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

কী থাকবে কার্যকর?

নতুন তালিকা চূড়ান্ত না হওয়া পর্যন্ত ১৯৯৪ সালে প্রণীত অত্যাবশ্যকীয় ঔষধের তালিকা এবং সেই তালিকার আওতাভুক্ত ওষুধের সরকারি মূল্য নির্ধারণ ব্যবস্থা বহাল থাকবে। ফলে আপাতত বাজারে মূল্য নিয়ন্ত্রণের বিদ্যমান কাঠামো কার্যকর থাকবে।

উপদেষ্টা পরিষদ পুনর্গঠন

সরকার ইতোমধ্যে জাতীয় ঔষধ উপদেষ্টা পরিষদ পুনর্গঠন করেছে। মন্ত্রিসভা বৈঠকে এই পরিষদে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাবও অনুমোদন করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নতুন পরিষদের মতামতের ভিত্তিতেই ভবিষ্যতে অত্যাবশ্যকীয় ঔষধের তালিকা হালনাগাদ এবং মূল্য নির্ধারণ করা হবে।

নতুন তালিকায় কী গুরুত্ব পাবে?

সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী, নতুন তালিকা প্রণয়নের সময় কয়েকটি বিষয়কে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে—

  • জনগণের জন্য নিরাপদ, কার্যকর ও মানসম্মত ওষুধ নিশ্চিত করা।
  • অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের সহজলভ্যতা বজায় রাখা।
  • ওষুধের মূল্য এমনভাবে নির্ধারণ করা, যাতে সাধারণ মানুষের ওপর অতিরিক্ত আর্থিক চাপ সৃষ্টি না হয়।
  • বাজারে সুস্থ প্রতিযোগিতা বজায় রেখে যৌক্তিক মূল্য নিশ্চিত করা।
  • আইন অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ ও উপদেষ্টা পরিষদের মতামতের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত গ্রহণ।

বিশেষজ্ঞদের দৃষ্টিতে

স্বাস্থ্যনীতি সংশ্লিষ্টদের মতে, অত্যাবশ্যকীয় ঔষধের তালিকা একটি দেশের জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত দলিল। এই তালিকার মাধ্যমে কোন কোন ওষুধকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে এবং সেগুলোর মূল্য নিয়ন্ত্রণ কীভাবে হবে, তা নির্ধারিত হয়।

তাদের মতে, আইন অনুযায়ী নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে তালিকা প্রণয়ন করা হলে সিদ্ধান্তের গ্রহণযোগ্যতা বাড়বে এবং ভবিষ্যতে আইনি জটিলতার সম্ভাবনাও কমবে।

এখন কী হবে?

মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নতুন করে অত্যাবশ্যকীয় ঔষধের তালিকা প্রণয়ন এবং মূল্য নির্ধারণের কাজ শুরু করবে। এ ক্ষেত্রে জাতীয় ঔষধ উপদেষ্টা পরিষদের সুপারিশকে গুরুত্ব দেওয়া হবে। নতুন তালিকা কার্যকর না হওয়া পর্যন্ত ১৯৯৪ সালের বিদ্যমান ব্যবস্থা বহাল থাকবে।

এক নজরে

  • বাতিল হচ্ছে: অত্যাবশ্যকীয় ঔষধের তালিকা, ২০২৬ এবং ঔষধের মূল্য নির্ধারণ পদ্ধতি, ২০২৬।
  • কারণ: আইন অনুযায়ী জাতীয় ঔষধ উপদেষ্টা পরিষদের মতামত নেওয়া হয়নি।
  • বর্তমান অবস্থা: বিষয়টি উচ্চ আদালতে বিচারাধীন।
  • অন্তর্বর্তী ব্যবস্থা: ১৯৯৪ সালের অত্যাবশ্যকীয় ঔষধের তালিকা ও সরকারি মূল্য নির্ধারণ ব্যবস্থা বহাল থাকবে।
  • পরবর্তী পদক্ষেপ: উপদেষ্টা পরিষদের পরামর্শে নতুন তালিকা ও মূল্য নির্ধারণ করা হবে।
  • সরকারের লক্ষ্য: নিরাপদ, মানসম্মত ও সাশ্রয়ী মূল্যের ওষুধ নিশ্চিত করা এবং বাজারে সুস্থ প্রতিযোগিতা বজায় রাখা।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন