অনুসরণ করুন:
শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬

অবৈধ ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীর গুলিতে ফিলিস্তিনি কর্মী নিহত, বিচারে গাফিলতির অভিযোগ

অধিকৃত পশ্চিম তীরের হেবরন অঞ্চলে ফিলিস্তিনি অধিকারকর্মী আওদাহ হাতালিনকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় অভিযুক্ত এক ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীকে যথাযথভাবে গ্রেপ্তার বা ফৌজদারি সন্দেহভাজন হিসেবে বিবেচনা করা হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে। ফিলিস্তিনি মানবাধিকার সংস্থা আল-হাক প্রকাশিত এক ফরেনসিক তদন্ত প্রতিবেদনে এ দাবি করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৫ সালের ২৮ জুলাই মাসাফের ইয়াত্তার উম্ম আল-খেইর গ্রামে ৩১ বছর বয়সী আওদাহ হাতালিনকে গুলি করেন ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারী ইয়িনোন লেভি। তদন্তকারীদের মতে, গুলির সময় লেভির জীবনের প্রতি কোনো তাৎক্ষণিক হুমকি ছিল না।

আল-হাকের তদন্তে উল্লেখ করা হয়েছে, ঘটনার সময় হাতালিন গ্রামের কমিউনিটি সেন্টারের বেড়ার আড়াল থেকে মোবাইল ফোনে পরিস্থিতি ধারণ করছিলেন। অভিযোগ অনুযায়ী, প্রায় ৩০ মিটার দূর থেকে লেভি তাকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়েন। গুলিটি হাতালিনের বুকে লাগে এবং পরে তিনি মারা যান।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রথম গুলির কয়েক সেকেন্ড পর লেভি আশপাশের আবাসিক এলাকার দিকেও আরেকটি গুলি ছোড়েন। এরপর স্থানীয় বাসিন্দারা আহত হাতালিনকে দ্রুত অ্যাম্বুলেন্সে তুলে হাসপাতালে নেওয়ার চেষ্টা করেন।

তদন্তে আরও বলা হয়েছে, ঘটনাস্থলে একটি খননযন্ত্র (এক্সকাভেটর) ব্যক্তিমালিকানাধীন ফিলিস্তিনি জমিতে প্রবেশ করে গাছপালা ও বেড়া ক্ষতিগ্রস্ত করে। ওই যন্ত্রের চালক রনি আব্রাহাম হাতালিনের এক আত্মীয়কে যন্ত্রের হাইড্রোলিক অংশ দিয়ে আঘাত করেন বলেও প্রতিবেদনে অভিযোগ করা হয়েছে।

আল-হাকের দাবি, ঘটনাস্থলে উপস্থিত ইসরায়েলি সেনা ও পুলিশ লেভি কিংবা এক্সকাভেটর চালককে সাধারণ অপরাধ সন্দেহভাজনের মতো আচরণ করেনি। প্রতিবেদনে বলা হয়, লেভিকে প্রচলিত গ্রেপ্তার প্রক্রিয়া অনুসরণ করে আটক করা হয়নি এবং অপর অভিযুক্তকেও গ্রেপ্তার করা হয়নি।

পরবর্তীতে একটি ইসরায়েলি আদালত আত্মরক্ষার দাবির আংশিক গ্রহণযোগ্যতা বিবেচনায় লেভিকে মাত্র তিন দিনের গৃহবন্দি রেখে মুক্তির নির্দেশ দেয়। এর ফলে হত্যাকাণ্ডের পরও তিনি মুক্ত অবস্থায় ছিলেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে এ বিষয়ে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি। এছাড়া আল-হাকের উত্থাপিত অভিযোগ ও তদন্তের তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন