অনুসরণ করুন:
শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬

মানবপাচার ও অনলাইন স্ক্যাম দমনে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অব্যাহত থাকবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

মানবপাচার, অনলাইন প্রতারণা এবং প্রযুক্তিনির্ভর অপরাধের বিরুদ্ধে সরকার কঠোর অবস্থানে রয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেছেন, ডিজিটাল প্রযুক্তির অপব্যবহার করে পরিচালিত আন্তর্জাতিক মানবপাচার ও অনলাইন স্ক্যাম চক্র মোকাবিলায় সরকার ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করছে এবং এ ধরনের অপরাধ দমনে সমন্বিত উদ্যোগ জোরদার করা হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে বিশ্ব মানবপাচার বিরোধী দিবস-২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত উচ্চপর্যায়ের জাতীয় সংলাপে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এবারের প্রতিপাদ্য ছিল— “Trapped Behind the Scam: Ending Human Trafficking for Forced Criminality”

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মানবপাচারের ধরন দিন দিন পরিবর্তিত হচ্ছে। অপরাধচক্র এখন ভুয়া অনলাইন নিয়োগ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং বিভিন্ন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে তরুণ-তরুণী ও চাকরিপ্রত্যাশীদের বিদেশে উচ্চ বেতনের চাকরির প্রলোভন দেখাচ্ছে। পরে তাদের বিভিন্ন দেশে নিয়ে গিয়ে সাইবার স্ক্যাম সেন্টারে আটকে রেখে ভয়ভীতি, নির্যাতন ও জোরপূর্বক অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে যুক্ত করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, এ ধরনের অপরাধ মোকাবিলায় শুধু আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উদ্যোগ যথেষ্ট নয়। প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান, আর্থিক খাত, বেসরকারি সংস্থা এবং সচেতন নাগরিকদের সমন্বিত অংশগ্রহণের মাধ্যমে শক্তিশালী প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে।

মানবপাচার প্রতিরোধে সরকারের সাম্প্রতিক পদক্ষেপ তুলে ধরে মন্ত্রী জানান, আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ‘মানবপাচার ও অভিবাসী চোরাচালান (প্রতিরোধ ও দমন) আইন, ২০২৬’ প্রণয়ন করা হয়েছে। নতুন আইনে অনলাইন স্ক্যাম, প্রযুক্তিনির্ভর প্রতারণা এবং জোরপূর্বক অপরাধে সম্পৃক্ত করার মতো আধুনিক অপরাধকে শাস্তিযোগ্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

তিনি আরও জানান, বিদ্যমান বিধিমালাকে যুগোপযোগী করার কাজ চলছে এবং ২০২৬-২০৩০ মেয়াদের জাতীয় কর্মপরিকল্পনা চূড়ান্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এতে প্রতিরোধ, ভুক্তভোগীর সুরক্ষা, বিচার নিশ্চিতকরণ এবং অংশীদারিত্বকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।

ভুক্তভোগীদের সহায়তা প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মানবপাচারের শিকার ব্যক্তিদের দ্রুত উদ্ধার, আইনি সহায়তা, চিকিৎসা, মানসিক সহায়তা ও পুনর্বাসন নিশ্চিত করতে ন্যাশনাল রেফারেল মেকানিজম (এনআরএম) আরও শক্তিশালী করা হচ্ছে। একই সঙ্গে তথ্যভিত্তিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও মামলার কার্যকর তদারকির জন্য একটি ডিজিটাল তথ্য ব্যবস্থাপনা প্ল্যাটফর্ম তৈরির কাজও চলছে।

তিনি নিরাপদ অভিবাসন বিষয়ে জনসচেতনতা বাড়াতে গণমাধ্যম, সুশীল সমাজ এবং সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সক্রিয় ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত জাতীয় সংলাপে আইন ও বিচার বিভাগের সচিব মো. লিয়াকত আলী মোল্লা, পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির, ইউরোপীয় ইউনিয়নের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স বাইবা জারিনা এবং আইওএম বাংলাদেশের চিফ অব মিশন ড. লরা টম বোন্ডে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন।

এ ছাড়া বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড, বিজিবি, বিভিন্ন সরকারি সংস্থা, আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগী প্রতিষ্ঠান, কূটনৈতিক কোর, আইন প্রয়োগকারী সংস্থা এবং গণমাধ্যমের প্রতিনিধিরা অনুষ্ঠানে অংশ নেন।

উদ্বোধনী অধিবেশনের পর অনুষ্ঠিত প্যানেল আলোচনায় অনলাইন স্ক্যাম, প্রতারণামূলক নিয়োগ, জোরপূর্বক অপরাধে সম্পৃক্তকরণ এবং মানবপাচার প্রতিরোধের বিভিন্ন দিক নিয়ে বিশেষজ্ঞরা মতবিনিময় করেন। পরে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে একটি তথ্যচিত্র এবং পুতুলনাচ প্রদর্শন করা হয়।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, জাতিসংঘের মাদক ও অপরাধবিষয়ক দপ্তর (ইউএনওডিসি) এবং জাতিসংঘ অভিবাসন নেটওয়ার্কের কাউন্টার ট্রাফিকিং টেকনিক্যাল ওয়ার্কিং গ্রুপ যৌথভাবে এ জাতীয় সংলাপের আয়োজন করে।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন