অনুসরণ করুন:
শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬

গাজায় ফের ইসরায়েলি হামলা, নিহত ৩, আহত অন্তত ২৭

গাজা উপত্যকায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকার পরও নতুন করে ইসরায়েলি হামলায় অন্তত তিন ফিলিস্তিনি নিহত এবং আরও ২৭ জন আহত হয়েছেন। স্থানীয় স্বাস্থ্যসেবা সূত্র ও চিকিৎসকদের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানা গেছে।

চিকিৎসা সূত্র জানায়, বুধবার সন্ধ্যার পর গাজা সিটির পশ্চিমাঞ্চলে অবস্থিত শাতি (আল-শাতি) শরণার্থী শিবিরে একটি বহুতল আবাসিক ভবনে ইসরায়েলি বিমান হামলা চালানো হয়। এতে অন্তত সাতজন আহত হন। আহতদের গাজা সিটির আল-শিফা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর বলে হাসপাতাল সূত্র জানিয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, হামলার আগে ভবনের বাসিন্দাদের কাছে ইসরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থার পক্ষ থেকে ফোন করে এলাকা খালি করার সতর্কবার্তা দেওয়া হয়। এরপর অল্প সময়ের ব্যবধানে যুদ্ধবিমান থেকে দুটি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হলে ভবনটি সম্পূর্ণ ধসে পড়ে।

হামলার ফলে আশপাশের বেশ কয়েকটি বাড়িঘরও ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং এলাকায় আগুন ছড়িয়ে পড়ে। পরে গাজার সিভিল ডিফেন্সের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন এবং ধ্বংসস্তূপে আটকে পড়াদের উদ্ধারে অভিযান চালান।

এদিকে গাজার বিভিন্ন এলাকায় দিনভর বিচ্ছিন্ন হামলায় আরও তিনজন ফিলিস্তিনি নিহত এবং মোট ২৭ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। স্থানীয় স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আহতদের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে এবং হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।

ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকার পরও ইসরায়েল নিয়মিত বিমান হামলা, গোলাবর্ষণ ও সামরিক অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে, যা যুদ্ধবিরতি চুক্তির লঙ্ঘন। অন্যদিকে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এসব অভিযানের বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

মানবিক সংস্থাগুলো সতর্ক করে বলেছে, টানা সংঘাতের কারণে গাজায় বেসামরিক মানুষের জীবনযাত্রা আরও সংকটাপন্ন হয়ে উঠেছে। আবাসন, চিকিৎসা, বিশুদ্ধ পানি ও খাদ্য সরবরাহের সংকট দিন দিন গভীর হচ্ছে। একই সঙ্গে ঘনবসতিপূর্ণ আবাসিক এলাকায় হামলার ঘটনায় আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলোও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।

যুদ্ধবিরতি স্থায়ী করার লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক মধ্যস্থতাকারীদের কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকলেও মাঠপর্যায়ে সহিংসতা পুরোপুরি থামেনি। বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের হামলা চলতে থাকলে গাজায় স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন