অনুসরণ করুন:
বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬

পশ্চিম তীরে বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতা রোধে নেতানিয়াহুর ওপর চাপ দিতে ট্রাম্পের প্রতি সাবেক ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের আহ্বান

অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইহুদি বসতি স্থাপনকারীদের ক্রমবর্ধমান সহিংসতা ইসরায়েলের নিরাপত্তা, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা এবং যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থের জন্য গুরুতর হুমকি হয়ে উঠছে—এমন সতর্কবার্তা দিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রতি সরাসরি হস্তক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছেন ইসরায়েলের শত শত অবসরপ্রাপ্ত সামরিক, গোয়েন্দা ও কূটনৈতিক কর্মকর্তা।

মঙ্গলবার প্রকাশিত এক খোলা চিঠিতে ৫৫০ জনেরও বেশি সাবেক কর্মকর্তা ট্রাম্পকে অনুরোধ করেন, তিনি যেন ওয়াশিংটনে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে বৈঠকে পশ্চিম তীরে বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতা নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য চাপ প্রয়োগ করেন।

‘কেবল ট্রাম্পই পরিস্থিতি বদলাতে পারেন’

চিঠিতে স্বাক্ষরকারীরা উল্লেখ করেন, পশ্চিম তীরে সহিংসতার মাত্রা দ্রুত বাড়ছে এবং তা সময়মতো নিয়ন্ত্রণে আনা না গেলে পুরো অঞ্চল নতুন করে অস্থিতিশীল হয়ে উঠতে পারে। তাদের মতে, এই পরিস্থিতি শুধু ইসরায়েলের নিরাপত্তাকেই নয়, মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত স্বার্থকেও ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।

সাবেক কর্মকর্তাদের ভাষ্য, বর্তমান বাস্তবতায় এমন রাজনৈতিক প্রভাব একমাত্র মার্কিন প্রেসিডেন্টেরই রয়েছে, যা ইসরায়েল সরকারকে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে বাধ্য করতে পারে।

কারা এই উদ্যোগের পেছনে?

চিঠিটি প্রকাশ করেছে কমান্ডার্স ফর ইসরায়েলস সিকিউরিটি (CIS) নামে একটি সংগঠন। এতে ইসরায়েলের অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্নেল ও জেনারেল, গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদ ও শিন বেতের সাবেক কর্মকর্তা, পুলিশ এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উচ্চপদস্থ অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা যুক্ত রয়েছেন।

সংগঠনটির ঘোষিত লক্ষ্য হলো গণতান্ত্রিক কাঠামোর মধ্যে ইহুদি রাষ্ট্র হিসেবে ইসরায়েলের দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।

সরকারের ভেতরের ভূমিকা নিয়ে অভিযোগ

চিঠিতে দাবি করা হয়েছে, ইসরায়েলি সরকারের কিছু সদস্যের ভূমিকার কারণেই পশ্চিম তীরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটছে। অভিযোগ করা হয়, কিছু রাজনৈতিক নেতা বসতি স্থাপনকারীদের কর্মকাণ্ডকে পরোক্ষভাবে উৎসাহিত করছেন এবং তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণে বাধা সৃষ্টি করছেন।

চিঠিতে আরও বলা হয়, বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতা যদি এভাবেই বাড়তে থাকে, তাহলে তার পরিণতি ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার পর যে নিরাপত্তা সংকট সৃষ্টি হয়েছিল, তার চেয়েও জটিল ও দীর্ঘমেয়াদি হতে পারে।

সাম্প্রতিক সহিংসতার প্রেক্ষাপট

সম্প্রতি পশ্চিম তীরের বিভিন্ন এলাকায় বসতি স্থাপনকারীদের হামলা, অগ্নিসংযোগ এবং সংঘর্ষের ঘটনা নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে।

এর আগে তাল (Tal) শহরে গোলাগুলির এক ঘটনায় দুই ইসরায়েলি ও চার ফিলিস্তিনি নিহত হওয়ার পর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। ওই ঘটনার পর বিভিন্ন এলাকায় বসতি স্থাপনকারীদের প্রতিশোধমূলক হামলার অভিযোগ ওঠে, যা আন্তর্জাতিক মহলেও উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।

নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের সতর্কবার্তা

ইসরায়েলের নিরাপত্তা মহলের একাংশ দীর্ঘদিন ধরেই সতর্ক করে আসছে যে, বসতি স্থাপনকারীদের একটি অংশ নিজ উদ্যোগে অভিযান পরিচালনা করছে এবং অনেক ক্ষেত্রে তারা কার্যত নিরাপত্তা বাহিনীর ভূমিকা নেওয়ার চেষ্টা করছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই প্রবণতা শুধু ফিলিস্তিনিদের জন্য নয়, ইসরায়েলি সেনাদের জন্যও ঝুঁকি তৈরি করছে। এতে নিরাপত্তা বাহিনীর কমান্ড কাঠামো দুর্বল হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

ট্রাম্প-নেতানিয়াহু বৈঠকের গুরুত্ব

চিঠি প্রকাশের দিনই ওয়াশিংটনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকে বসেন প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে এটি নেতানিয়াহুর সপ্তম হোয়াইট হাউস সফর।

বিশ্লেষকদের ধারণা, গাজা যুদ্ধ, পশ্চিম তীরের নিরাপত্তা পরিস্থিতি, ইরান-সংক্রান্ত উত্তেজনা এবং মধ্যপ্রাচ্যের সামগ্রিক কূটনৈতিক পরিস্থিতি এই বৈঠকের আলোচ্যসূচিতে গুরুত্বপূর্ণ স্থান পেয়েছে।

আঞ্চলিক প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ

সাবেক ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের মতে, পশ্চিম তীরে সহিংসতা নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হলে তা শুধু ফিলিস্তিন-ইসরায়েল সংঘাতকে আরও তীব্র করবে না, বরং প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে ইসরায়েলের সম্পর্ক এবং বৃহত্তর মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিবেশেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

তাদের বিশ্বাস, রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও দ্রুত আইন প্রয়োগের মাধ্যমে পরিস্থিতির আরও অবনতি ঠেকানো সম্ভব। আর সে কারণেই তারা যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের সক্রিয় কূটনৈতিক ভূমিকার ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেছেন।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন