তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, দেশে কে প্রকৃত সাংবাদিক এবং কে নন—এ বিষয়ে একটি নির্ভরযোগ্য ও যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে সিদ্ধান্ত হওয়া প্রয়োজন। একই সঙ্গে তিনি প্রেস অ্যাক্রিডিটেশন কমিটিকে সংবিধান, প্রচলিত আইন এবং বিধি-বিধানের আলোকে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (২৪ জুলাই) সচিবালয়ে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত প্রেস অ্যাক্রিডিটেশন কমিটির ৩৪তম সভা এবং নবগঠিত কমিটির প্রথম বৈঠকে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, কমিটির প্রতিটি সিদ্ধান্ত এমন হতে হবে যাতে দেশের আইনগত কাঠামো ও সাংবিধানিক মূল্যবোধের যথাযথ প্রতিফলন ঘটে। সিদ্ধান্ত গ্রহণে প্রজ্ঞা, দূরদর্শিতা এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক মনোভাব বজায় রাখার ওপরও তিনি গুরুত্বারোপ করেন।
তিনি আরও বলেন, সরকারের নেওয়া সিদ্ধান্তগুলো যাতে সমাজের বৃহত্তর অংশের কাছে গ্রহণযোগ্য হয়, সে বিষয়টি বিবেচনায় রাখা প্রয়োজন। নির্বাচিত সরকারের প্রতিনিধি হিসেবে রাজনৈতিক পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে সব নাগরিকের প্রতি সমান দায়িত্ববোধ নিয়ে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
গণমাধ্যমকে বহুমতের একটি ক্ষেত্র হিসেবে উল্লেখ করে জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, সংবাদমাধ্যমে ভিন্নমত, দৃষ্টিভঙ্গি ও চিন্তার মানুষের সহাবস্থান গণতান্ত্রিক পরিবেশের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তাই কোনো সংকীর্ণ বা পক্ষপাতমূলক দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তে এমন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা উচিত, যা সর্বাধিক মানুষের অংশগ্রহণ ও আস্থা নিশ্চিত করে।
তিনি বলেন, জটিল ও সংবেদনশীল পরিস্থিতিতেও গ্রহণযোগ্য সিদ্ধান্ত নেওয়ার মধ্য দিয়েই নেতৃত্বের দক্ষতা প্রকাশ পায়। তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়কে রাষ্ট্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল মন্ত্রণালয় হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এখানকার যেকোনো সিদ্ধান্তের দীর্ঘমেয়াদি রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রভাব থাকতে পারে। সে কারণে তাৎক্ষণিক বিবেচনার বাইরে গিয়ে ভবিষ্যৎ প্রভাবও মূল্যায়ন করা জরুরি।
সভায় প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমদের সভাপতিত্বে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সচিব (রুটিন দায়িত্ব) মো. শাহ আলম, মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এবং প্রেস অ্যাক্রিডিটেশন কমিটির নবনিযুক্ত সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

