অনুসরণ করুন:
শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধ মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে নতুন অধ্যায় তৈরি করতে পারে: চীনা বিশ্লেষক

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের চলমান সংঘাত মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতি ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা ব্যবস্থায় দীর্ঘমেয়াদি পরিবর্তন আনতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন এক চীনা আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষক। তেহরান টাইমস-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক সংঘাত শুধু দুই দেশের দীর্ঘদিনের উত্তেজনার ধারাবাহিকতা নয়; এটি নতুন এক কৌশলগত বাস্তবতার সূচনা হতে পারে।

সাক্ষাৎকারে তিনি দাবি করেন, সামরিক চাপ প্রয়োগের মাধ্যমে ইরানকে দুর্বল করার যুক্তরাষ্ট্রের কৌশল প্রত্যাশিত ফল দেয়নি। তার মতে, প্রশাসনিক সক্ষমতা, সামরিক সংগঠন এবং অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতার দিক থেকে ইরান উল্লেখযোগ্য সহনশীলতা প্রদর্শন করেছে।

তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান—উভয় পক্ষই পূর্ণমাত্রার যুদ্ধ চায় না। তবে পারস্পরিক গভীর অবিশ্বাসের কারণে আলোচনার পথ বারবার জটিল হয়ে উঠছে। তার ভাষ্য, দীর্ঘমেয়াদে সংঘাতের পরিবর্তে আলোচনার টেবিলে ফিরতেই হবে, কারণ অব্যাহত যুদ্ধ কোনো পক্ষেরই স্বার্থে নয়।

হরমুজ প্রণালিতে অস্থিতিশীলতার সম্ভাব্য প্রভাব সম্পর্কে তিনি বলেন, এ অঞ্চলে দীর্ঘস্থায়ী সংকট শুধু জ্বালানি নয়, সার ও বিভিন্ন শিল্পের কাঁচামাল পরিবহনেও বড় ধরনের বাধা সৃষ্টি করতে পারে। একই সঙ্গে বিকল্প স্থলভিত্তিক সরবরাহ ব্যবস্থার প্রতি বিভিন্ন দেশের আগ্রহ বাড়তে পারে এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কূটনৈতিক তৎপরতাও জোরদার হতে পারে।

উপসাগরীয় আরব দেশগুলোর অবস্থান প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এসব দেশ যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি থাকা সত্ত্বেও সরাসরি সংঘাতে জড়াতে চায় না। তবে সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে প্রতিটি দেশের অবস্থান তাদের জাতীয় স্বার্থ, সামরিক সক্ষমতা এবং যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্কের ওপর নির্ভর করে ভিন্ন হতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের কৌশলগত লক্ষ্য নিয়ে তিনি মন্তব্য করেন, মধ্যপ্রাচ্য প্রশ্নে দুই দেশের অগ্রাধিকার সব ক্ষেত্রে এক নয়। তার বিশ্লেষণে, যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘমেয়াদি সামরিক সম্পৃক্ততা কমাতে আগ্রহী হলেও ইসরায়ান নিরাপত্তা বিবেচনায় ইরানকে প্রধান হুমকি হিসেবে দেখে। ফলে বর্তমান পরিস্থিতিতে দুই মিত্রের কৌশলগত দৃষ্টিভঙ্গিতে পার্থক্য স্পষ্ট হয়ে উঠছে বলে তিনি মনে করেন।

তিনি সতর্ক করে বলেন, সংঘাত অব্যাহত থাকলে ইরানের অর্থনীতি, অবকাঠামো ও মানবিক পরিস্থিতির ওপর চাপ আরও বাড়তে পারে। একই সঙ্গে এর প্রভাব প্রতিবেশী দেশগুলোর অর্থনীতি, বিনিয়োগ পরিবেশ এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার ওপরও পড়তে পারে।

চীন-ইরান সম্পর্কের বিষয়ে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার কারণে দুই দেশের অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতা বর্তমানে নানা সীমাবদ্ধতার মুখে রয়েছে। প্রতিরক্ষা সহযোগিতাও সহজ নয়। তবে চীন ইরানের সার্বভৌম স্বার্থের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের পাশাপাশি সংকট সমাধানে আলোচনাকেই সবচেয়ে কার্যকর পথ হিসেবে দেখে এবং প্রয়োজন হলে সংলাপের পরিবেশ তৈরিতে সহায়তা দিতে প্রস্তুত রয়েছে।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন