অনুসরণ করুন:
বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬

দুই তিন মাসের মধ্যেই ব্যবসাবান্ধব পরিবেশের প্রতিফলন দেখা যাবে: বাণিজ্যমন্ত্রী

ঢাকা, ২১ জুলাই ২০২৬: বাংলাদেশের অর্থনীতিতে নতুন বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ তৈরিতে সরকার কার্যকর উদ্যোগ নিয়েছে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী ও রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তিনি বলেন, ব্যবসা শুরু ও পরিচালনার প্রক্রিয়া সহজ করতে সরকার কাজ করছে এবং আগামী ২ থেকে ৩ মাসের মধ্যেই এর বাস্তব প্রতিফলন দৃশ্যমান হবে।

মঙ্গলবার বিকেলে রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত ১৪৯তম পরিচালনা পর্ষদের সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার দেশের অর্থনীতির বিকাশ, নতুন বিনিয়োগ সৃষ্টি এবং ব্যবসার সম্প্রসারণে আন্তরিকভাবে কাজ করছে। শুধু ঘোষণা নয়, বিনিয়োগ বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় অনুকূল পরিবেশ নিশ্চিত করার উদ্যোগ ইতোমধ্যে নেওয়া হয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, বর্তমান নেতৃত্বের অধীনে দেশের ব্যবসা ও বিনিয়োগ পরিবেশে ইতিবাচক পরিবর্তন আরও স্পষ্ট হবে।

তিনি জানান, ব্যবসা শুরু ও পরিচালনার বিভিন্ন প্রক্রিয়া আরও সহজ, দ্রুত ও বিনিয়োগবান্ধব করতে প্রয়োজনীয় সংস্কার কার্যক্রম চলছে। এর মাধ্যমে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য বাংলাদেশকে আরও আকর্ষণীয় বিনিয়োগ গন্তব্য হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়ে সরকার এগিয়ে যাচ্ছে।

রপ্তানি খাতের সম্ভাবনার বিষয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, লেদার, এগ্রো প্রসেসিং ও লাইট ইঞ্জিনিয়ারিংসহ অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত রপ্তানি খাতগুলোতে ডাবল ডিজিট প্রবৃদ্ধি অর্জনের মাধ্যমে বড় রপ্তানি খাতে পরিণত হওয়ার যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, নতুন উদ্যোক্তা ও স্টার্টআপদের আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশের সুযোগ সৃষ্টি করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বর্তমানে দেশের বড় রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলোর অনেকেই ছোট পরিসর থেকে যাত্রা শুরু করেছিল উল্লেখ করে তিনি বলেন, তরুণ উদ্যোক্তাদের আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন, বিদেশি বাজারে অংশগ্রহণ এবং রপ্তানি সক্ষমতা বাড়াতে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হবে।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, নতুন উদ্যোক্তাদের অনেকেরই বিদেশে গিয়ে বাজার অনুসন্ধান বা সম্ভাব্য ক্রেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করার মতো আর্থিক সক্ষমতা থাকে না। তাই এ সময় তাদের প্রয়োজন সহযোগিতা ও পৃষ্ঠপোষকতা। এ ক্ষেত্রে রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) সক্রিয় ভূমিকা পালন করবে।

সভায় ইপিবির ব্যবস্থাপনায় ২০২৬-২৭ অর্থবছরের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা ক্যালেন্ডার অনুমোদন দেওয়া হয়। এ অনুযায়ী, ১২টি অগ্রাধিকার খাতকে গুরুত্ব দিয়ে ২৭টি দেশে মোট ৫০টি আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলায় বাংলাদেশের অংশগ্রহণের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

এছাড়া ৩১তম ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা (ডিআইটিএফ)-২০২৭ আয়োজনের জন্য স্টিয়ারিং কমিটি অনুমোদন করা হয়। মেলার সম্ভাব্য উদ্বোধনের তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে ১ জানুয়ারি ২০২৭।

সভায় বাংলাদেশ-চায়না ফ্রেন্ডশিপ এক্সিবিশন সেন্টার (বিসিএফইসি) ইজারা দেওয়ার বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্তও গৃহীত হয়।

এ সময় বাণিজ্য সচিব মো. আতাউর রহমান খান, ইপিবির ভাইস চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হাসান আরিফ, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (এফটিএ) আয়েশা আক্তারসহ পরিচালনা পর্ষদের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন