রাজধানীর মহাখালীতে ২০১২ সালে আলোচিত চিকিৎসক ডা. নারায়ণ চন্দ্র দত্ত নিতাই হত্যার ১৩ বছর পর রায় ঘোষণা হলো। ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-১০ রবিবার (১৭ আগস্ট) এ মামলার রায়ে পাঁচ আসামিকে মৃত্যুদণ্ড, চারজনকে আমৃত্যু কারাদণ্ড এবং একজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন।
রায়ের বিবরণ
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন— কামরুল হাসান অরুণ, মাসুম মিন্টু, সাইদ ব্যাপারী, বকুল মিয়া ও সাইদ মিজি।
আমৃত্যু কারাদণ্ড পেয়েছেন— আবুল কালাম, সাইদুল, ফয়সাল ও পেদা মাসুম।
যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হয়েছে রফিকুল ইসলামের।
রায় ঘোষণার সময় আসামিরা আদালতে উপস্থিত ছিলেন। পরে সাজা পরোয়ানা জারি করে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়।
হত্যার ঘটনা
২০১২ সালের ২৩ আগস্ট রাতে বক্ষব্যাধি হাসপাতালের আবাসিক কোয়ার্টারে নিজ বাসায় নৃশংসভাবে খুন হন সহকারী অধ্যাপক ডা. নিতাই। হত্যার সময় বাসায় ছিলেন তার বৃদ্ধা মা, আর স্ত্রী ছিলেন চট্টগ্রামে।
পুলিশ তদন্তে জানায়, আসামিরা চুরি করতে গিয়ে ডা. নিতাইয়ের হাতে ধরা পড়ে। এরপর তাকেই হত্যা করে তারা। পরে বাসা থেকে প্রায় পাঁচ লাখ টাকা ও দুটি স্বর্ণের বালা লুট করে।
তদন্ত ও বিচার
ঘটনার পরদিন নিহত চিকিৎসকের বাবা বনানী থানায় মামলা করেন। ছয় মাসের তদন্ত শেষে গোয়েন্দা পুলিশের পরিদর্শক গাজী আতাউর রহমান ২০১৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে ১০ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেন।
২০১৩ সালে অভিযোগ গঠন ও ২০১৪ সালে সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়। দীর্ঘ বিচারপ্রক্রিয়া শেষে অবশেষে আজ রায় ঘোষণা হলো।
আসামিদের পরিচয়
পুলিশ জানিয়েছে, আসামিরা সবাই পেশাদার চোর। তাদের মধ্যে নিহত চিকিৎসকের গাড়িচালক কামরুল হাসান অরুণও ছিলেন। এ মামলার কয়েকজন আসামিকে সাংবাদিক দম্পতি সাগর-রুনি হত্যা মামলাতেও গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছিল, যদিও সেই মামলার তদন্ত আজও শেষ হয়নি।

