বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ ২০২৬

বিএমইটির অসাধু কর্মকর্তা ও এজেন্সির বিরুদ্ধে মানবপাচার ও জালিয়াতির অভিযোগে দুদকের অভিযান, ৯ জনের বিরুদ্ধে মামলা

ঢাকা, ০৩ জুলাই ২০২৫ খ্রি.:

জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো (বিএমইটি), ঢাকার কিছু অসাধু কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন এজেন্সির বিরুদ্ধে ভুয়া কাগজপত্র তৈরি করে নারীদের বিদেশে পাচারের অভিযোগের ভিত্তিতে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক), প্রধান কার্যালয়, ঢাকা হতে ২৯ মে ২০২৫ তারিখে বিএমইটি কার্যালয়ে একটি এনফোর্সমেন্ট অভিযান পরিচালনা করা হয়।

অভিযানকালে দেখা যায়, বিভিন্ন এজেন্সি পরস্পর যোগসাজশে প্রতারণা ও জালিয়াতির মাধ্যমে গৃহকর্মী হিসেবে মধ্যপ্রাচ্যে গমনেচ্ছু নারীদের ‘প্রত্যাগত’ হিসেবে দেখানোর উদ্দেশ্যে ভুয়া পাসপোর্ট ব্যবহার করে। প্রকৃত আবেদনকারীর পরিবর্তে অন্য ব্যক্তির পাসপোর্ট নম্বর ব্যবহার করে বিএমইটির ডাটাবেজে (oldbmet) তথ্য আপলোড করা হয়।

অভিযোগ রয়েছে, বিএমইটির কিছু কর্মকর্তা ওইসব জাল পাসপোর্ট যাচাই না করেই আর্থিকভাবে লাভবান হওয়ার অসৎ উদ্দেশ্যে ৯ জন জাল পাসপোর্টধারী নারীকে ছাড়পত্র প্রদানের জন্য নোট উপস্থাপন করেন।

এছাড়া, সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যে গৃহকর্মী প্রেরণের ক্ষেত্রে মন্ত্রণালয়ের প্রযোজ্য পরিপত্র লঙ্ঘন করে ২৫ বছরের কম বয়সী ৪ জন অপ্রাপ্তবয়স্ক নারীকে ছাড়পত্র প্রদানের উদ্যোগ নেওয়া হয়। অভিযানে প্রাপ্ত প্রমাণাদি বিশ্লেষণে দণ্ডবিধির ৪২০/৪৬৭/৪৬৮/৪৭১/১০৯ ধারা এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭ এর ৫(২) ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধের প্রমাণ পাওয়া যায়।

এনফোর্সমেন্ট প্রতিবেদনের সুপারিশের ভিত্তিতে এবং কমিশনের অনুমোদনক্রমে, নিম্নোক্ত ৯ জনের বিরুদ্ধে দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয়, ঢাকা-১ এ একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে:

১. মোঃ সাজ্জাদ হোসেন সরকার – উপপরিচালক (বহির্গমন), বিএমইটি

২. মোহাম্মদ হোসেন উল্লাহ আকন্দ – সহকারী পরিচালক (বহির্গমন), বিএমইটি

৩. মোঃ নিজামউদ্দিন পাটোয়ারি – জনশক্তি জরিপ কর্মকর্তা, বিএমইটি

৪. মোঃ আজাদ হোসেন – অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর, বিএমইটি

৫. মোঃ আনোয়ার হোসেন – ম্যানেজিং পার্টনার, এইচ. এ. ইন্টারন্যাশনাল

৬. মোঃ সালাউদ্দিন – ম্যানেজিং পার্টনার, কে. এইচ. ওভারসিজ

৭. মোঃ জামাল হোসেন – স্বত্বাধিকারী, মক্কা ওভারসিজ

৮. মোঃ আনোয়ার হোসেন ভূইঞা – ম্যানেজিং পার্টনার, তাসনিম ওভারসিজ

৯. একরামুল হক – পার্টনার, এস. এম. ম্যানপাওয়ার

মামলাটি দুদকের পক্ষে দায়ের করেছেন জনাব স্বপন কুমার রায়, সহকারী পরিচালক।

দুর্নীতি দমন কমিশন দেশের মানুষের জানমাল, মানবিক মর্যাদা ও রাষ্ট্রের অর্থনৈতিক স্বার্থ সুরক্ষায় আইনানুগ পদক্ষেপ নিতে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন