রবিবার, ১০ মে ২০২৬

আবাসন ব্যবসার নামে ১২০ কোটি টাকা আত্মসাৎ, হলিস্টিক হোম বিল্ডার্সের ডিএমডি গ্রেপ্তার

আবাসন ব্যবসার নামে শতাধিক গ্রাহকের কাছ থেকে প্রায় ১২০ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) “হলিস্টিক হোম বিল্ডার্স লি.”–এর ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর (ডিএমডি) হায়দার কবির মিথুন–কে গ্রেপ্তার করেছে।

রোববার (১০ মে) সিআইডির পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

সিআইডি জানায়, উত্তরা পূর্ব থানার একটি প্রতারণা মামলার ভিত্তিতে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃত হায়দার কবির মিথুনের বয়স ৫৪ বছর। তিনি রাজধানীর দক্ষিণখান এলাকার উত্তর ফায়দাবাদের বাসিন্দা।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, “হলিস্টিক হোম বিল্ডার্স লি.” উত্তরখান থানার সন্নিকটে ১০ কাঠা জমির ওপর জি+৯ তলা বিশিষ্ট একটি ভবনের ৩৬টি শেয়ার বিক্রির প্রচারণা চালায়। প্রতিটি শেয়ারের মূল্য ধরা হয় ১৫ লাখ টাকা। এ প্রলোভনে পড়ে বাদীসহ বিভিন্ন গ্রাহক কোম্পানির উত্তরা সেক্টর-৪ কার্যালয়ে গিয়ে বিনিয়োগ করেন।

বাদী ২০২৩ সালের এপ্রিল মাসে প্রথমে ১ লাখ টাকা এবং পরে বিভিন্ন সময়ে মোট ১২ লাখ ৮০ হাজার টাকা জমা দেন। এছাড়া তার এক বন্ধু আরও ৯ লাখ টাকা বিনিয়োগ করেন। এ সময় কোম্পানির তৎকালীন এমডি মো. শিশির আহমেদ, ডিএমডি হায়দার কবির মিথুন, ফিন্যান্স ডিরেক্টর মোহাম্মদ হাবিবুল্লাহ বাহার এবং আইটি ও অ্যাকাউন্টস ইনচার্জ মো. জাহাঙ্গীর আলম (জাহিদ) উপস্থিত ছিলেন।

অভিযোগে বলা হয়, কোম্পানি গ্রাহকদের অর্থ গ্রহণের বিপরীতে মানি রিসিট ও চেক দিলেও পরে প্রতিশ্রুত জমি রেজিস্ট্রেশন করে দেয়নি। বরং নানা অজুহাতে সময়ক্ষেপণ করতে থাকে। পরে গ্রাহকেরা জানতে পারেন, রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় থ্রি-স্টার হোটেল ও বিভিন্ন মৌজার জমির শেয়ার বিক্রির নামে প্রায় ৪৭০ জন গ্রাহকের কাছ থেকে প্রায় ১২০ কোটি টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে।

সিআইডি জানায়, পাওনা টাকা ফেরত চাইলে গ্রাহকদের ভয়ভীতি ও হুমকি দিয়ে অফিস থেকে বের করে দেওয়া হতো। একপর্যায়ে কোম্পানির এমডি শিশির আহমেদ আত্মগোপনে চলে যান এবং নতুন পরিচালনা পর্ষদ গঠন করা হয়। নতুন বোর্ডের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ২০২২ সালের জুন থেকে ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সংঘটিত আর্থিক লেনদেনের দায় তারা নেবে না।

তদন্তে সিআইডি জানতে পারে, ডিএমডি পদে থেকে হায়দার কবির মিথুন প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ডে সরাসরি জড়িত ছিলেন এবং গ্রাহকদের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহ ও আত্মসাতে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন। মামলা দায়েরের পর তিনি আত্মগোপনে চলে যান এবং ব্যবহৃত মোবাইল নম্বর বন্ধ রেখে বিদেশে পালিয়ে যান।

পরে গত শুক্রবার দিবাগত রাতে বিদেশ থেকে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর–এ অবতরণ করলে ইমিগ্রেশন পুলিশের সহায়তায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

সিআইডি আরও জানিয়েছে, গ্রেপ্তারকৃতের বিরুদ্ধে এর আগেও একাধিক প্রতারণা মামলা রয়েছে। এর মধ্যে যাত্রাবাড়ী থানার একটি মামলাসহ উত্তরা পূর্ব ও পশ্চিম থানায় দায়ের করা কয়েকটি মামলায় তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা রয়েছে।

বর্তমানে তাকে রিমান্ড আবেদনসহ আদালতে সোপর্দের প্রক্রিয়া চলছে। মামলার তদন্ত করছে সিআইডির ঢাকা মেট্রো উত্তর ইউনিট। প্রতারণা চক্রের অন্য সদস্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলেও জানিয়েছে সংস্থাটি।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার (মিডিয়া) জসীম উদ্দিন খান স্বাক্ষর করেন।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন