রবিবার, ৭ জুন ২০২৬

হেমোরেজিক ডেঙ্গুর আশঙ্কা, তিন মাসের বিশেষ অভিযান শুরু; লার্ভা মিললে জরিমানার হুঁশিয়ারি

দেশে চলতি বছর ডেঙ্গুর প্রকোপ আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, এবার হেমোরেজিক ডেঙ্গুর সংক্রমণ বাড়তে পারে, যা রোগীদের জন্য অধিক ঝুঁকিপূর্ণ এবং রক্তক্ষরণের মতো জটিলতা সৃষ্টি করতে সক্ষম।

শনিবার (৬ জুন) সকালে রাজধানীর ধানমন্ডির রবীন্দ্র সরোবরে ডেঙ্গু প্রতিরোধে তিন মাসব্যাপী বিশেষ কর্মসূচির উদ্বোধনকালে তিনি এসব কথা বলেন।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, চিকিৎসকরা আশঙ্কা করছেন এ বছরের ডেঙ্গুর ধরন আগের বছরের তুলনায় আরও জটিল হতে পারে। বিশেষ করে হেমোরেজিক ডেঙ্গু আক্রান্তদের শরীরে রক্তক্ষরণ, প্লাটিলেট দ্রুত কমে যাওয়া এবং অভ্যন্তরীণ অঙ্গপ্রত্যঙ্গে জটিলতা দেখা দেওয়ার ঝুঁকি থাকে। তাই ডেঙ্গু আক্রান্ত হওয়ার আগেই জনগণকে সচেতন হতে হবে এবং মশার প্রজননস্থল ধ্বংসে সক্রিয় ভূমিকা রাখতে হবে।

তিনি জানান, ডেঙ্গু প্রতিরোধে সরকার মাঠপর্যায়ে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করছে। আগামী দুই থেকে তিন দিনের মধ্যে বিভিন্ন এলাকায় মোবাইল কোর্ট পরিচালনা শুরু হবে। কোনো বাসাবাড়ি, নির্মাণাধীন ভবন, প্রতিষ্ঠান বা বাণিজ্যিক স্থাপনায় এডিস মশার লার্ভা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে জরিমানা ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ বিষয়ে কোনো ধরনের গাফিলতি বা অসহযোগিতা সহ্য করা হবে না বলেও সতর্ক করেন তিনি।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানান, বর্ষা মৌসুম শুরু হওয়ায় রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে এডিস মশার বিস্তার বাড়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে জমে থাকা পরিষ্কার পানিতে এ মশা দ্রুত বংশবিস্তার করে। ছাদের টব, পরিত্যক্ত টায়ার, নির্মাণসামগ্রী, প্লাস্টিকের পাত্র, ফুলদানিসহ বিভিন্ন স্থানে জমে থাকা পানি নিয়মিত পরিষ্কার করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

অনুষ্ঠানে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুস সালাম বলেন, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে শুধু সিটি করপোরেশনের উদ্যোগ যথেষ্ট নয়; জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণও জরুরি। সাম্প্রতিক জরিপে ঢাকা দক্ষিণ সিটির ৬৩টি ওয়ার্ডকে ডেঙ্গু ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে ২৮টি ওয়ার্ডকে অধিক ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে।

তিনি বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে নাগরিক ও সিটি করপোরেশনের দায়িত্ব সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ। জনগণ যদি নিজেদের বাড়ি ও আশপাশ পরিষ্কার রাখে এবং সিটি করপোরেশন নিয়মিত মশকনিধন কার্যক্রম পরিচালনা করে, তাহলে ডেঙ্গুর বিস্তার উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনা সম্ভব হবে।

বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা বলছেন, ডেঙ্গুর উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন। উচ্চ জ্বর, তীব্র মাথাব্যথা, চোখের পেছনে ব্যথা, বমি, পেটব্যথা, শরীরে লালচে দাগ, মাড়ি বা নাক দিয়ে রক্তপাতের মতো লক্ষণ দেখা দিলে তা অবহেলা করা উচিত নয়। বিশেষ করে হেমোরেজিক ডেঙ্গুর ক্ষেত্রে রোগীর অবস্থা দ্রুত অবনতি হতে পারে।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, স্থানীয় সরকার বিভাগ এবং সিটি করপোরেশনসমূহ যৌথভাবে আগামী তিন মাসব্যাপী বিশেষ ডেঙ্গু প্রতিরোধ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করবে। এর আওতায় সচেতনতামূলক প্রচার, পরিচ্ছন্নতা অভিযান, মশার প্রজননস্থল ধ্বংস এবং আইন প্রয়োগ কার্যক্রম জোরদার করা হবে।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন