সোমবার, ১১ মে ২০২৬

আকুর আমদানি বিল পরিশোধের পর বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ আবারও ৩৪ বিলিয়নের নিচে

বাংলাদেশ ব্যাংক এশিয়ান ক্লিয়ারিং ইউনিয়নের (আকু) মার্চ ও এপ্রিল মাসের আমদানি বিল বাবদ ১৫১ কোটি মার্কিন ডলার পরিশোধ করেছে। বড় অঙ্কের এই আন্তর্জাতিক দায় পরিশোধের ফলে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার গ্রোস (মোট) রিজার্ভ আবারও ৩৪ বিলিয়ন ডলারের নিচে নেমে এসেছে।

বৃহস্পতিবার (৭ মে) আকুকে এই অর্থ পরিশোধের বিষয়টি নিশ্চিত করেন বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান।

সাধারণত সদস্য দেশগুলোর মধ্যে বাণিজ্যিক লেনদেনের দায় প্রতি দুই মাস অন্তর এশিয়ান ক্লিয়ারিং ইউনিয়ন (আকু) ব্যবস্থার মাধ্যমে নিষ্পত্তি করা হয়।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত বুধবার (৬ মে) পর্যন্ত দেশের গ্রোস রিজার্ভ ছিল ৩৫ দশমিক ৩৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। একই সময়ে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)–এর ‘বিপিএম-৬’ হিসাব পদ্ধতি অনুযায়ী রিজার্ভের পরিমাণ ছিল ৩০ দশমিক ৬৭ বিলিয়ন ডলার।

১৫১ কোটি ডলার পরিশোধের পর গ্রোস রিজার্ভ কমে দাঁড়িয়েছে ৩৩ দশমিক ৮০ বিলিয়ন ডলারে। আর বিপিএম-৬ পদ্ধতি অনুযায়ী রিজার্ভ নেমে এসেছে প্রায় ২৯ দশমিক ১২ বিলিয়ন ডলারে।

তবে বাংলাদেশ ব্যাংক–সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, রিজার্ভ কমলেও তা উদ্বেগজনক নয়। বর্তমানে দেশের ব্যয়যোগ্য নিট আন্তর্জাতিক রিজার্ভ (এনআইআর) প্রায় ২৭ বিলিয়ন ডলারের কাছাকাছি রয়েছে।

তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে প্রতি মাসে গড়ে প্রায় সাড়ে ৫ বিলিয়ন ডলারের আমদানি ব্যয় হয়। সে হিসাবে বর্তমান রিজার্ভ দিয়ে প্রায় পাঁচ মাসের আমদানি ব্যয় মেটানো সম্ভব। আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী, অন্তত তিন মাসের আমদানি ব্যয় মেটানোর সমপরিমাণ রিজার্ভ থাকাকে নিরাপদ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। সেই হিসেবে বাংলাদেশ এখনো তুলনামূলকভাবে স্বস্তিদায়ক অবস্থানে রয়েছে।

উল্লেখ্য, আকু একটি আন্তর্দেশীয় লেনদেন নিষ্পত্তি ব্যবস্থা, যার সদর দপ্তর তেহরান–এ অবস্থিত। বাংলাদেশ, ভারত, ভুটান, ইরান ও মিয়ানমারসহ মোট ৯টি দেশ এ ব্যবস্থার সদস্য। তবে অর্থনৈতিক সংকটের কারণে শর্ত পূরণে ব্যর্থ হওয়ায় শ্রীলঙ্কা–র সদস্যপদ বর্তমানে সাময়িকভাবে স্থগিত রয়েছে।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন