বুধবার, ৬ মে ২০২৬

আমানত ফেরতের দাবিতে চট্টগ্রামে বিক্ষোভ, বাংলাদেশ ব্যাংকের সামনে অবস্থান

একীভূত হওয়ার প্রক্রিয়ায় থাকা পাঁচটি ইসলামী ধারার ব্যাংকে আটকে থাকা আমানত ফেরতের দাবিতে চট্টগ্রামে বিক্ষোভ ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন গ্রাহকেরা। বুধবার সকালে সম্মিলিত ইসলামি ব্যাংক আমানতকারী অ্যাসোসিয়েশন-চট্টগ্রাম বিভাগ-এর ব্যানারে বাংলাদেশ ব্যাংক-এর চট্টগ্রাম আঞ্চলিক কার্যালয়ের সামনে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।

আন্দোলনকারীদের দাবি, একীভূত হওয়ার প্রক্রিয়ায় থাকা পাঁচ ব্যাংকে “হেয়ার কাট” বা মুনাফা কেটে রাখার সিদ্ধান্ত বাতিল করতে হবে এবং স্বাভাবিক লেনদেন নিশ্চিত করতে হবে। ব্যাংকগুলো হলো এক্সিম ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক এবং ইউনিয়ন ব্যাংক। আন্দোলনকারীদের ভাষ্য অনুযায়ী, এসব ব্যাংকে প্রায় ৭৫ লাখ গ্রাহকের ১ লাখ ৩১ হাজার কোটি টাকার আমানত রয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকাল ১০টার দিকে নগরের নিউমার্কেট এলাকায় জড়ো হন আমানতকারীরা। পরে তাঁরা মিছিল নিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের আঞ্চলিক কার্যালয়ের দিকে যেতে চাইলে পুলিশ বাধা দেয়। এরপর আন্দোলনকারীরা আলকরণ মোড় এলাকায় অবস্থান নেন।

কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে এক্সিম ব্যাংকের আমানতকারী সুমন অধিকারী বলেন, “আমরা আমাদের কষ্টার্জিত টাকা ফেরত চাইছি। কিন্তু বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আমাদের দুষ্কৃতকারী বলছেন। ঋণখেলাপিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিয়ে সাধারণ গ্রাহকদের হয়রানি করা হচ্ছে।”

সরেজমিনে দেখা যায়, বিভিন্ন ব্যাংকের চেক হাতে নিয়ে অবস্থান করছিলেন আমানতকারীরা। তাঁদের অভিযোগ, ব্যাংকে ঘুরেও টাকা উত্তোলন করতে পারছেন না। অথচ আন্দোলনকারীদের ‘মবকারী’ ও ‘দুষ্কৃতকারী’ হিসেবে আখ্যা দেওয়া হচ্ছে।

পরে আমানতকারীদের একটি প্রতিনিধি দল বাংলাদেশ ব্যাংকের আঞ্চলিক কার্যালয়ে গিয়ে স্মারকলিপি জমা দেয়। তাঁদের তিন দফা দাবির মধ্যে রয়েছে—আমানত ফেরতের সুনির্দিষ্ট রোডম্যাপ ঘোষণা, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মুখপাত্রের বক্তব্য প্রত্যাহার এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের মন্তব্য থেকে বিরত থাকা।

অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আবুল কালাম আজাদ বলেন, “আমাদের টাকায় ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন হয়। অথচ আমানতকারীদের নিয়ে মানহানিকর মন্তব্য করা হচ্ছে। আমরা এর প্রতিবাদ জানাচ্ছি।”

এর আগে গত রোববার ও সোমবার খাতুনগঞ্জ ও আগ্রাবাদ এলাকায় পাঁচ ব্যাংকের নয়টি শাখায় তালা দেন বিক্ষুব্ধ গ্রাহকেরা। এরপর কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পক্ষ থেকে বলা হয়, গ্রাহকদের দাবির আড়ালে কোনো বিশেষ গোষ্ঠী অরাজকতা সৃষ্টির চেষ্টা করছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

এ বিষয়ে কোতোয়ালি থানা-র ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আফতাব উদ্দিন বলেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংকসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা থাকায় নিরাপত্তার স্বার্থে আন্দোলনকারীদের নির্দিষ্ট স্থানে কর্মসূচি পালনের অনুরোধ করা হয়েছিল। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পর্যাপ্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে বলেও জানান তিনি।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন