রবিবার, ১০ মে ২০২৬

চলতি বছরেই চালু হতে পারে দেশের প্রথম কমোডিটি এক্সচেঞ্জ

দেশের প্রথম কমোডিটি এক্সচেঞ্জে ডেরিভেটিভস বা পণ্যভিত্তিক আগাম লেনদেন চলতি বছরের মধ্যেই চালু করা সম্ভব হবে বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই)–এর চেয়ারম্যান এ কে এম হাবিবুর রহমান।

রোববার রাজধানীর বিজয়নগর–এ ক্যাপিটাল মার্কেট জার্নালিস্টস ফোরাম (সিএমজেএফ) কার্যালয়ে আয়োজিত ‘কমোডিটি এক্সচেঞ্জ: বাংলাদেশ পরিপ্রেক্ষিত’ শীর্ষক কর্মশালায় তিনি এ তথ্য জানান। কর্মশালাটি যৌথভাবে আয়োজন করে সিএসই ও সিএমজেএফ।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)–এর কমিশনার ফারজানা লালারুখ। সিএমজেএফ সভাপতি মনির হোসেন–এর সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক আহসান হাবিব–এর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন সিএসইর ব্যবস্থাপনা পরিচালক সাইফুর রহমান মজুমদার।

সিএসই চেয়ারম্যান জানান, ডেরিভেটিভস সেগমেন্ট চালুর জন্য ইতোমধ্যে প্রায় ১০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করা হয়েছে। তবে কার্যক্রম পূর্ণাঙ্গভাবে শুরু করতে আরও কিছু বিনিয়োগ প্রয়োজন হবে। তিনি বলেন, ২০২৩ সাল থেকেই এ কার্যক্রমের প্রস্তুতি চলছে। যদিও লক্ষ্য ছিল গত বছরের মধ্যেই এটি চালু করা, কিন্তু বিভিন্ন কারণে তা সম্ভব হয়নি।

তিনি আরও বলেন, অনেকের মধ্যেই কমোডিটি এক্সচেঞ্জ সম্পর্কে ভুল ধারণা রয়েছে। এখানে সাধারণ পণ্য কেনাবেচা হবে না; বরং নিয়ন্ত্রক সংস্থা অনুমোদিত নির্দিষ্ট পণ্যের ‘ফিউচার কন্ট্রাক্ট’ বা আগাম চুক্তিভিত্তিক লেনদেন হবে।

হাবিবুর রহমান জানান, এসব কন্ট্রাক্টের নিষ্পত্তির জন্য দুটি পদ্ধতি রয়েছে—ক্যাশ সেটেলমেন্ট এবং স্পট বা ফিজিক্যাল সেটেলমেন্ট। ক্যাশ সেটেলমেন্টে নির্ধারিত অর্থ লেনদেনের মাধ্যমে চুক্তির সমাপ্তি ঘটে, আর ফিজিক্যাল সেটেলমেন্টে সরাসরি পণ্য সরবরাহ করা হয়। সাধারণত বিশ্ববাজারে ১০ থেকে ১৫ শতাংশ ক্ষেত্রে পণ্যের সরাসরি ডেলিভারি হয়, বাকিগুলো অর্থ লেনদেনের মাধ্যমে নিষ্পত্তি করা হয়।

তিনি বলেন, শুরুতে জটিলতা এড়াতে সিএসই শুধুমাত্র ক্যাশ সেটেলমেন্ট পদ্ধতিতে কার্যক্রম পরিচালনা করবে। কারণ ফিজিক্যাল ডেলিভারির জন্য গুদামজাতকরণ, মান নিয়ন্ত্রণ ও আন্তর্জাতিক মান নিশ্চিত করার মতো বড় ধরনের অবকাঠামোগত প্রস্তুতি প্রয়োজন হয়। তবে বর্তমান প্রযুক্তিগত অবকাঠামো এমনভাবে প্রস্তুত করা হয়েছে, যাতে ভবিষ্যতে অল্প পরিবর্তনের মাধ্যমেই ফিজিক্যাল ডেলিভারি সুবিধা যুক্ত করা সম্ভব হয়।

অনুষ্ঠানে বিএসইসি কমিশনার ফারজানা লালারুখ বলেন, ডেরিভেটিভস বাজারকে এগিয়ে নিতে কমিশন কাজ করছে। যেহেতু এটি দেশের জন্য নতুন ধারণা, তাই প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করতে সময় লাগছে। সম্ভাব্য ঝুঁকি ও চ্যালেঞ্জ বিবেচনায় নিয়ে স্থায়ী সমাধানের দিকেই গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, দেশের পুঁজিবাজারের তিনটি প্রধান ভিত্তির মধ্যে ইকুইটি মার্কেট বর্তমানে স্থবির অবস্থায় রয়েছে। গত দুই বছর ধরে নতুন আইপিও আসছে না। বন্ড মার্কেটে কিছু অগ্রগতি দেখা গেলেও এখন তৃতীয় পিলার হিসেবে কমোডিটি ডেরিভেটিভস মার্কেটকে শক্তিশালী করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

সিএসইর ব্যবস্থাপনা পরিচালক সাইফুর রহমান মজুমদার বলেন, প্রস্তুতির দিক থেকে বিবেচনা করলে দেড় থেকে দুই বছর আগেই কমোডিটি এক্সচেঞ্জ চালু করা সম্ভব ছিল। যদিও ২০২৩ সালে এটি চালুর পরিকল্পনা ছিল, কিন্তু পর্যাপ্ত প্রস্তুতির অভাবে তা বাস্তবায়ন করা যায়নি।

তিনি বলেন, কমোডিটি এক্সচেঞ্জ বা ডেরিভেটিভস বিশ্বব্যাপী বহুল পরিচিত ও প্রতিষ্ঠিত পুঁজিবাজার পণ্য। তবে বাংলাদেশে এটি নতুন হওয়ায় বিভিন্ন পর্যায়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও সক্ষমতা যাচাইয়ের প্রয়োজন হচ্ছে। এ কারণেই চালু করতে সময় লাগছে।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন