রবিবার, ১০ মে ২০২৬

পুলিশের যৌক্তিক দাবিসমূহ পূরণ করা হবে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, পুলিশ বাহিনীকে একটি জনকল্যাণমুখী ও আধুনিক বাহিনী হিসেবে গড়ে তুলতে সরকারের আর্থিক সক্ষমতা বিবেচনায় তাদের যৌক্তিক দাবিসমূহ ধাপে ধাপে পূরণ করা হবে।

রোববার (১০ মে) রাজধানীর রাজারবাগ পুলিশ মিলনায়তন–এ ‘পুলিশ সপ্তাহ-২০২৬’ উপলক্ষে আয়োজিত ‘প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ কল্যাণ সভা’য় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন তারেক রহমান। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী। স্বাগত বক্তব্য দেন আইজিপি মোঃ আলী হোসেন ফকির এবং ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন অতিরিক্ত আইজিপি (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) খন্দকার রফিকুল ইসলাম।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে অনেক পুলিশ কনস্টেবল ৪০ বছর চাকরি শেষে অবসরে গেলেও পরবর্তী পদোন্নতি পান না। এ বাস্তবতা বিবেচনায় বিশেষ নীতিমালা ও সন্তোষজনক চাকরির রেকর্ডের ভিত্তিতে অবসরকালীন সময়ে কিছুসংখ্যক সদস্যকে অনারারি পদোন্নতি দেওয়া হবে। এর আওতায় কনস্টেবল থেকে অনারারি এএসআই, এএসআই থেকে অনারারি এসআই এবং এসআই থেকে অনারারি ইন্সপেক্টর পদে পদোন্নতির ব্যবস্থা করা হবে।

তিনি আরও বলেন, অতিরিক্ত কর্মঘণ্টায় দায়িত্ব পালনকারী পুলিশ সদস্যদের জন্য বিশেষ নীতিমালার আওতায় ওভারটাইম ভাতা প্রদানের বিষয়টি সরকার বিবেচনা করছে। এক্ষেত্রে ইন্সপেক্টর থেকে কনস্টেবল পর্যন্ত সদস্যরা এই সুবিধার আওতায় আসতে পারেন। এতে পুলিশ সদস্যদের মনোবল বৃদ্ধি ও সেবার মান উন্নয়ন হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

পুলিশ সদস্যদের দীর্ঘ কর্মঘণ্টা ও অতিরিক্ত কর্মচাপের বিষয়টি তুলে ধরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, তাদের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষায় কেন্দ্রীয় ও বিভাগীয় পুলিশ হাসপাতালগুলোকে আরও আধুনিক ও যুগোপযোগী করা হবে। পাশাপাশি প্রয়োজনীয় যাচাই শেষে নতুন উন্নত হাসপাতাল নির্মাণের উদ্যোগও নেওয়া হবে।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটের ভবন ও কার্যালয় নির্মাণ এবং আবাসন সংকট নিরসনে সরকার আন্তরিক। ভূমি অধিগ্রহণসহ প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ সরকারের অগ্রাধিকার তালিকায় রয়েছে।

গত দুই মাসে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নতি হয়েছে দাবি করে তিনি বলেন, পরিস্থিতি আরও উন্নত করতে চিহ্নিত সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ ও মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে বিশেষ অভিযান পরিচালিত হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, তথ্যপ্রযুক্তির বিকাশের সঙ্গে অপরাধের ধরন ও মাত্রাও পরিবর্তিত হয়েছে। তাই পুলিশ সদস্যদের আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা অর্জনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। একই সঙ্গে জুয়া, অনলাইন জুয়া, সাইবার ক্রাইম ও মানি লন্ডারিং প্রতিরোধে যুগোপযোগী আইন প্রণয়নের জন্য একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মব কালচার পুরোপুরি বন্ধ করতে বিদ্যমান আইন সংশোধন ও সংযোজনের মাধ্যমে আরও কার্যকর ও সময়োপযোগী করা হবে। এ সময় তিনি পুলিশ বাহিনীকে জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেন।

বিজ্ঞপ্তিতে স্বাক্ষর করেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা (উপপ্রধান তথ্য অফিসার/পরিচালক) ফয়সল হাসান।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন