বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ ২০২৬

সহজ শর্তে লোন করিয়ে দেওয়ার নামে দুই কোটি টাকার প্রতারণা, পিবিআই অভিযানে গ্রেফতার ২

ঢাকা, ২৬ জুন ২০২৫:

সহজ শর্তে বিদেশি ব্যাংক থেকে লোন পাইয়ে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে ২ কোটি ৬ লাখ টাকা আত্মসাতের ঘটনায় প্রতারক চক্রের দুই সদস্যকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) ঢাকা মেট্রো (উত্তর)। অভিযুক্তরা হলেন:

১. মো. সফিকুল ইসলাম (৪২)

২. ড. সিপার আহমেদ

তাদেরকে গত ১৯ জুন পৃথক অভিযান চালিয়ে পল্লবী ও বনানী এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকালে তাদের হেফাজত থেকে প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত ৪টি মোবাইল ফোন, কালো রঙের একটি Toyota Kluger গাড়ি, ৮টি সিমকার্ড, ভিকটিমের সঙ্গে কথোপকথনের ভয়েস রেকর্ড, ৬টি ভুয়া চুক্তিপত্র এবং ১৩টি চেক উদ্ধার করে পিবিআই।

ভুক্তভোগী দিনাজপুর জেলার চিলিবন্দর থানার এম.এইচ. ব্রিক ফিল্ড এবং অটো রাইস মিলের মালিক মো. নুর আমিন শাহ। তিনি ৫% সুদে ৫০ কোটি টাকা লোন পাইয়ে দেওয়ার প্রলোভনে পড়ে প্রতারণার শিকার হন।

ব্যবসায়িক প্রয়োজনে পরিচিত এক ব্যবসায়ী খন্দকার শাহ আলম তাকে অভিযুক্ত সফিকুল ইসলামের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেন, যিনি নিজেকে বিদেশি ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা হিসেবে পরিচয় দেন। বনানীর শেরাটন হোটেলে এক বৈঠকে সফিকুল ভুক্তভোগীকে তার ‘বস’ ড. সিপার আহমেদের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেন, যিনি নিজেকে বেসিক ব্যাংকের সাবেক কর্মকর্তা এবং বর্তমানে প্রাইম এশিয়া ইউনিভার্সিটির পরিচালক বলে দাবি করেন।

পরবর্তীতে প্রতারকরা ধাপে ধাপে নগদ, ব্যাংক লেনদেন ও বিকাশের মাধ্যমে মোট ২ কোটি ৬ লাখ টাকা আদায় করে। তারা ভুক্তভোগীর বিশ্বাস অর্জনের জন্য ১ কোটি ৭৬ লাখ টাকার ১৩টি চেক এবং ভুয়া চুক্তিপত্র সরবরাহ করে। এমনকি জাইকা থেকে অনুদান এনে দেওয়ার কথা বলে ভুক্তভোগীর এতিমখানার নামে অগ্রণী ও পূবালী ব্যাংকের ৮টি চেকও জামানত হিসেবে নিয়ে নেয়।

এ ঘটনায় ভুক্তভোগী বাদী হয়ে ডিএমপি বনানী থানায় ১৮ জুন ২০২৫ তারিখে মামলা নং-১৪, ধারা ৪০৬/৪২০/৩৮৬/৫০৬/৩৪ পেনাল কোডে মামলা দায়ের করেন। পরবর্তীতে পিবিআই ঢাকা মেট্রো (উত্তর) মামলাটি নিজ উদ্যোগে গ্রহণ করে এবং এসআই (নিঃ) মো. সিরাজ উদ্দিন এর নেতৃত্বে তদন্ত শুরু করে।

অতিরিক্ত আইজিপি পিবিআই জনাব মো. মোস্তফা কামাল মহোদয়ের সার্বিক তত্ত্বাবধানে এবং অতিরিক্ত উপ-পুলিশ মহাপরিদর্শক মো. এনায়েত হোসেন মান্নান, পিপিএম-সেবা–এর দিকনির্দেশনায় তদন্তকারী কর্মকর্তা প্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্য বিশ্লেষণ করে অভিযুক্তদের গ্রেফতার করেন।

মামলার তদন্তে বেরিয়ে আসে যে, পুরো ঘটনাটি পূর্বপরিকল্পিত প্রতারণার ছক ছিল এবং প্রতারকরা বিভিন্ন সময় ভুয়া পরিচয়ে দেশি-বিদেশি ব্যাংকের নামে লোন পাইয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে অর্থ আদায় করতো।

২০ জুন ২০২৫ তারিখে গ্রেফতারকৃত আসামিদের বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হলে অভিযুক্ত মো. সফিকুল ইসলাম আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় দোষ স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেন। মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

এ বিষয়ে পিবিআই ঢাকা মেট্রো (উত্তর)–এর অতিরিক্ত উপ-পুলিশ মহাপরিদর্শক মো. এনায়েত হোসেন মান্নান, পিপিএম-সেবা বলেন,

“আমরা আসামিদের অভিনব প্রতারণার পদ্ধতির তথ্য পেয়েছি। আরও কেউ জড়িত কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।”


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন