অনুসরণ করুন:
শনিবার, ৭ নভেম্বর ২০২৬

রাশিয়া থেকে আসা ইউরেনিয়াম পৌঁছাল রূপপুরে, ব্যবহার হলো নতুন রুট

গাজীপুরে পোশাকশ্রমিকদের আন্দোলন ও সম্ভাব্য সংঘাত এড়াতে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের পরিবর্তে নতুন রুটে তিন লরিতে পারমাণবিক জ্বালানি পরিবহন

রাশিয়া থেকে আমদানি করা ইউরেনিয়ামের আরও একটি চালান প্রথমবারের মতো বিকল্প পথে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে পৌঁছেছে। ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক ও বঙ্গবন্ধু সেতুর প্রচলিত পথ এড়িয়ে ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ে, পদ্মা সেতু, ফরিদপুর, রাজবাড়ী ও কুষ্টিয়া হয়ে তিনটি বিশেষায়িত লরিতে করে এসব পারমাণবিক জ্বালানি প্রকল্প এলাকায় নেওয়া হয়।

শুক্রবার (৬ নভেম্বর) সকাল সাড়ে ৭টার দিকে সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে এবং অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে ইউরেনিয়ামবাহী গাড়িবহরটি রূপপুর প্রকল্প এলাকায় প্রবেশ করে।

প্রকল্পের সাইট ইনচার্জ কে. বি. এম. রুহুল কুদ্দুস বাসসকে ইউরেনিয়াম পৌঁছানোর বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, গাজীপুরে পোশাকশ্রমিকদের চলমান আন্দোলন এবং সম্ভাব্য সংঘাত এড়াতে নিরাপত্তার স্বার্থে এবারই প্রথম বিকল্প পথে পারমাণবিক জ্বালানি পরিবহন করা হয়েছে।

যে পথে পৌঁছাল ইউরেনিয়াম

রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে যাত্রা শুরু করে তিনটি বিশেষায়িত লরির বহর ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ে ও পদ্মা সেতু অতিক্রম করে। এরপর ফরিদপুরের ভাঙ্গা, রাজবাড়ী ও কুষ্টিয়া হয়ে পাকশীর লালন শাহ সেতু দিয়ে রূপপুর প্রকল্প এলাকায় পৌঁছায় গাড়িবহরটি।

এর আগে রূপপুরে ইউরেনিয়াম পরিবহনে এ রুট ব্যবহার করা হয়নি। প্রচলিত পথে বিমানবন্দর থেকে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক, বঙ্গবন্ধু সেতু, নাটোরের বনপাড়া ও পাবনার ঈশ্বরদীর দাশুড়িয়া হয়ে পারমাণবিক জ্বালানি প্রকল্প এলাকায় নেওয়া হতো।

পাঁচটি চালান পৌঁছেছে প্রকল্প এলাকায়

সর্বশেষ চালান পৌঁছানোর মধ্য দিয়ে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে এ পর্যন্ত মোট পাঁচটি ইউরেনিয়াম চালান এসেছে। রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পরমাণু সংস্থা রোসাটমের পরিকল্পনা অনুযায়ী, দ্বিতীয় ইউনিটের জন্য সাতটি কার্গো বিমানে ১৬৩টি ইউরেনিয়াম ফুয়েল অ্যাসেম্বলি এবং প্রথম ইউনিটে পুনরায় জ্বালানি সরবরাহের জন্য আরও দুটি কার্গোতে ৪৮টি অ্যাসেম্বলি আনার কথা রয়েছে। সব মিলিয়ে নয়টি চালানে এসব পারমাণবিক জ্বালানি বাংলাদেশে পৌঁছানোর পরিকল্পনা রয়েছে।

প্রথম ইউনিটে চলছে বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রস্তুতি

রাশিয়ার প্রযুক্তিতে নির্মিত রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে ভিভিইআর-১২০০ মডেলের দুটি ইউনিট রয়েছে। প্রতিটি ইউনিটের উৎপাদনক্ষমতা ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট; দুটি ইউনিট চালু হলে কেন্দ্রটির মোট উৎপাদনক্ষমতা হবে ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট।

কেন্দ্রটির প্রথম ইউনিটে ইতোমধ্যে ‘পাওয়ার স্টার্টআপ স্টেজ-সি’ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। গত ২৯ অক্টোবর বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের (বায়েরা) চেয়ারম্যান এ পর্যায়ের কার্যক্রম শুরুর অনুমোদন দেন।

স্টেজ-সি পর্যায়ে ধাপে ধাপে রিঅ্যাক্টরের ক্ষমতা বাড়িয়ে কেন্দ্রের বিভিন্ন যন্ত্রপাতি, টারবাইন-জেনারেটর, বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম এবং পরিচালন ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার কার্যকারিতা পরীক্ষা করা হচ্ছে। এসব পরীক্ষা সন্তোষজনকভাবে সম্পন্ন হলে প্রথম ইউনিটের জেনারেটর জাতীয় বিদ্যুৎ সঞ্চালন গ্রিডের সঙ্গে যুক্ত করা হবে। এ প্রক্রিয়াকে বলা হয় ‘সিনক্রোনাইজেশন’।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী ডিসেম্বরে প্রথম ইউনিট থেকে পরীক্ষামূলকভাবে প্রায় ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে এ কার্যক্রম নিয়ন্ত্রক সংস্থার শর্ত পূরণ এবং প্রয়োজনীয় অনুমোদন পাওয়ার ওপর নির্ভর করবে।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন