অনুসরণ করুন:
শুক্রবার, ৬ নভেম্বর ২০২৬

রমজানের আগাম প্রভাব ছোলার বাজারে, বাড়তি দামে উদ্বিগ্ন ক্রেতারা

এক সপ্তাহে কেজিতে ১০ থেকে ১৫ টাকা বেড়েছে ছোলা; কমেছে আমদানি করা আলু, পেঁয়াজ ও আদার দাম, অপরিবর্তিত মাছ-মাংসের বাজার

রমজান শুরু হতে এখনো কয়েক মাস বাকি। তবে এরই মধ্যে রাজধানীর বাজারে বাড়তে শুরু করেছে রমজানে বেশি চাহিদা থাকা ছোলার দাম। মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে প্রতি কেজি ছোলার দাম বেড়েছে ১০ থেকে ১৫ টাকা। বাজারে এখন প্রতি কেজি ছোলা বিক্রি হচ্ছে ১১০ থেকে ১১৫ টাকায়। পাইকারি বাজারে দাম বাড়ার প্রভাব খুচরা বাজারেও পড়েছে বলে জানিয়েছেন বিক্রেতারা।

অন্যদিকে, ভারত থেকে নতুন আলু আমদানি বাড়ায় কমেছে আমদানি করা আলুর দাম। পাশাপাশি পেঁয়াজ ও আদার দামও কিছুটা কমেছে। শীতকালীন সবজির সরবরাহ বাড়তে শুরু করায় বেশ কয়েক ধরনের সবজির দামেও নিম্নমুখী প্রবণতা দেখা গেছে। তবে মাছ, মুরগি ও মাংসের বাজারে তেমন পরিবর্তন নেই।

শুক্রবার (৬ নভেম্বর) রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে ক্রেতা-বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।

রমজানের আগেই বাড়ছে ছোলার দাম

বাজার ঘুরে দেখা যায়, বর্তমানে প্রতি কেজি ছোলা বিক্রি হচ্ছে ১১০ থেকে ১১৫ টাকায়। এক সপ্তাহ আগেও একই ছোলা ১০০ টাকার মধ্যে পাওয়া যেত। অর্থাৎ কয়েক দিনের ব্যবধানে কেজিতে ১০ থেকে ১৫ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে।

লালবাগের মিরাজ স্টোরের স্বত্বাধিকারী মিরাজ বলেন, পাইকারি আড়তদারেরা ছোলার দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন। গত সপ্তাহে যে ছোলা ৯২ থেকে ৯৫ টাকা কেজি দরে কিনেছেন, এখন সেটি কিনতে হচ্ছে ১০২ থেকে ১০৫ টাকায়। পাইকারিতে দাম বাড়ায় খুচরা বাজারেও দাম সমন্বয় করতে হচ্ছে।

লালবাগে বাজার করতে আসা বেসরকারি চাকরিজীবী মাইনুল ইসলাম বলেন, রমজান আসতে এখনো কয়েক মাস বাকি। এর মধ্যেই ছোলার দাম বেড়ে যাওয়ার কোনো যৌক্তিকতা দেখছেন না তিনি। তাঁর অভিযোগ, প্রতিবছর রমজান সামনে রেখে ব্যবসায়ীরা আগেভাগেই নিত্যপণ্যের দাম বাড়িয়ে দেন। শেষ পর্যন্ত এর চাপ পড়ে সাধারণ ক্রেতাদের ওপর।

আলু, পেঁয়াজ ও আদার দামে কমতি

ছোলার দাম বাড়লেও বাজারে কিছু পণ্যের দাম কমেছে। ভারত থেকে আমদানি করা নতুন আলুর সরবরাহ বাড়ায় কেজিতে উল্লেখযোগ্য দরপতন হয়েছে। আগে আমদানি করা আলু প্রতি কেজি ২৫০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হলেও বর্তমানে তা পাওয়া যাচ্ছে ১৩০ থেকে ১৪০ টাকায়।

পেঁয়াজের দামও কেজিতে ৫ থেকে ১০ টাকা কমেছে। বর্তমানে প্রতি কেজি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৪৫ থেকে ৫০ টাকায়, যা আগের সপ্তাহে ছিল ৫০ থেকে ৬০ টাকা। আদার দাম কেজিতে ১০ টাকা কমে দাঁড়িয়েছে ১৩০ টাকায়। তবে রসুনের দাম এখনো চড়া। বাজারে প্রতি কেজি রসুন বিক্রি হচ্ছে ১৫০ থেকে ১৮০ টাকায়।

শীতের সবজিতে কিছুটা স্বস্তি

শীতকালীন সবজির সরবরাহ বাড়তে শুরু করায় রাজধানীর বাজারে বেশ কিছু সবজির দাম কমেছে। বর্তমানে প্রতি কেজি শিম বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ৬০ টাকায়। আকারভেদে ফুলকপি ও বাঁধাকপি প্রতি পিস ৩০ থেকে ৪০ টাকা। মুলা বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি ৩০ থেকে ৪০ টাকায়। ধুন্দল, ঝিঙা ও মেটে আলুর দাম কেজিতে প্রায় ৫০ টাকা।

তবে সবজির বাজারে এখনো কিছু পণ্যের দাম তুলনামূলক বেশি। প্রতি কেজি টমেটো বিক্রি হচ্ছে ১০০ টাকায়। কাঁচামরিচ ৬০ থেকে ৮০ টাকা এবং গাজর ১২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। গোল বেগুনের দাম কেজিতে ৮০ টাকা। অন্যান্য জাতের বেগুন পাওয়া যাচ্ছে ৪০ থেকে ৫০ টাকায়।

এ ছাড়া দেশি শসা প্রতি কেজি ৪০ টাকা এবং হাইব্রিড শসা ৩০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। ঢ্যাঁড়শ ও কচুমুখি ৩০ থেকে ৪০ টাকা, বরবটি, করলা ও কাঁকরোল ৪০ থেকে ৬০ টাকা কেজি। প্রতি পিস লাউ বিক্রি হচ্ছে ২০ থেকে ৩০ টাকায়। পেঁপে ২০ টাকা, মিষ্টিকুমড়া ৩০ টাকা এবং দেশি আলু ২৫ থেকে ৩০ টাকা কেজি দরে পাওয়া যাচ্ছে।

নিউমার্কেটের সবজি বিক্রেতা তারেক বলেন, বাজারে শীতকালীন সবজির সরবরাহ অনেক বেড়েছে। এ কারণে বেশ কিছু সবজির দাম কমেছে। আগামী দিনগুলোতে সরবরাহ আরও বাড়লে দাম আরও কমতে পারে।

মাছের বাজারে দামের বড় পরিবর্তন নেই

সবজির বাজারে কিছুটা স্বস্তি ফিরলেও মাছের বাজারে তেমন পরিবর্তন দেখা যায়নি। আগের সপ্তাহের কাছাকাছি দামেই বিক্রি হচ্ছে অধিকাংশ মাছ।

বর্তমানে প্রতি কেজি রুই মাছ আকারভেদে ২৮০ থেকে ৩৮০ টাকা, বড় তেলাপিয়া ১৮০ থেকে ২০০ টাকা, সিলভার কার্প ও গ্রাস কার্প ১৮০ থেকে ২০০ টাকা এবং পাঙাশ ১৬০ থেকে ২৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

এ ছাড়া প্রতি কেজি কাতলা ৩৫০ থেকে ৩৮০ টাকা, চাষের কই ২০০ থেকে ২২০ টাকা এবং পাবদা ৩৮০ থেকে ৪২০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। তবে ইলিশের দাম এখনো ক্রেতাদের নাগালের বাইরে। আকার ও মানভেদে প্রতি কেজি ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ৮০০ থেকে ২ হাজার ৩০০ টাকায়। কোনো কোনো বাজারে বড় আকারের ইলিশের দাম ২ হাজার ৬০০ টাকা পর্যন্ত উঠেছে।

মুরগি ও মাংসের বাজারও প্রায় স্থিতিশীল

মাছের পাশাপাশি মুরগি, ডিম ও মাংসের বাজারেও উল্লেখযোগ্য কোনো পরিবর্তন দেখা যায়নি। প্রতি হালি ফার্মের মুরগির ডিম বিক্রি হচ্ছে ৫০ টাকায়। প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি ১৭০ থেকে ১৯০ টাকা এবং সোনালি মুরগি ২৪০ থেকে ৩৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

গরুর মাংস প্রতি কেজি ৮০০ থেকে ৮৫০ টাকা এবং খাসির মাংস ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ২৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বিক্রেতাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, আগের সপ্তাহের তুলনায় এসব পণ্যের দাম প্রায় অপরিবর্তিত রয়েছে।

সব মিলিয়ে রাজধানীর বাজারে একদিকে ছোলার মতো নিত্যপণ্যের দাম বাড়ছে, অন্যদিকে শীতকালীন সবজির সরবরাহ বৃদ্ধিতে কিছুটা স্বস্তি পাচ্ছেন ক্রেতারা। তবে রমজানের কয়েক মাস আগেই ছোলার দাম বাড়তে শুরু করায় সাধারণ ক্রেতাদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন