গত ২৪ ঘণ্টায় উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে এসেছে ১ হাজার ৩২৭ জন; ৬৯ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে।
দেশে গত এক দিনে হামের উপসর্গ নিয়ে আরও তিনজনের মৃত্যুর তথ্য দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হাম ও রোগটির উপসর্গ নিয়ে মোট ১ হাজার ২৭২ জনের মৃত্যু হয়েছে।
বৃহস্পতিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রকাশিত বুলেটিনে এ তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়েছে, বুধবার সকাল ৮টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে চট্টগ্রাম বিভাগে দুজন এবং ঢাকা বিভাগে একজন মারা গেছেন।
মৃত্যুর সংখ্যা সবচেয়ে বেশি ঢাকা বিভাগে
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাব অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছেন ১ হাজার ১৬৭ জন। আর নিশ্চিতভাবে হাম শনাক্ত হওয়ার পর মারা গেছেন ১০৫ জন।
হামের উপসর্গ নিয়ে সবচেয়ে বেশি ৫২২ জনের মৃত্যু হয়েছে ঢাকা বিভাগে। এ ছাড়া সিলেটে ২০৪, চট্টগ্রামে ১১৪, রাজশাহীতে ৯৩, ময়মনসিংহে ৮৯, বরিশালে ৭০, খুলনায় ৫৭ এবং রংপুর বিভাগে ১৮ জন মারা গেছেন।
২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালে ভর্তি ১ হাজার ২২০ জন
বুলেটিনে বলা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে এসেছেন ১ হাজার ৩২৭ জন। এ সময়ে ৬৯ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে।
একই সময়ে হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ হাজার ২২০ জন। বিভাগভিত্তিক হিসাবে ঢাকা বিভাগে ৪৩২, চট্টগ্রামে ২৪৯, সিলেটে ১৬৪, বরিশালে ১২৮, ময়মনসিংহে ৯২, খুলনায় ৯১, রাজশাহীতে ৪৪ এবং রংপুরে ২০ জন ভর্তি হয়েছেন।
আড়াই লাখের কাছাকাছি রোগী হাসপাতালে এসেছেন
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ২ লাখ ৯ হাজার ৮৫৪ জন। তাঁদের মধ্যে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ২ লাখ ১ হাজার ১৫৩ জন।
চলতি বছর হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে আসা রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৩৫ হাজার ৪৭৫ জনে। তাঁদের মধ্যে ২৪ হাজার ২১৯ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে।
হাম শনাক্তের প্রকৃত সংখ্যা জানা কঠিন
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর গত ১৫ মার্চ থেকে হাম ও এর উপসর্গে আক্রান্ত রোগী এবং মৃত্যুর হিসাব রাখছে। তবে হাসপাতালে আসা সব রোগী কিংবা হাসপাতালের বাইরে থাকা সব রোগীর হাম পরীক্ষা করা হয় না। ফলে আক্রান্তের প্রকৃত সংখ্যা নির্ধারণ করা কঠিন।
অধিদপ্তরের হিসাবে শুধু হাসপাতালে আসা ও ভর্তি হওয়া রোগীদের তথ্যই নথিভুক্ত করা হয়।

