অনুসরণ করুন:
বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬

রামপুরা থেকে বিমানবন্দর পর্যন্ত পাতালপথ নির্মাণে চুক্তি করল সরকার

ঢাকার প্রথম পাতাল মেট্রোরেলের টানেল, স্টেশন, রেললাইন ও প্রযুক্তিগত অবকাঠামো নির্মাণে বড় অগ্রগতি

দেশের প্রথম পাতাল মেট্রোরেল প্রকল্প এমআরটি লাইন-১-এর চারটি গুরুত্বপূর্ণ প্যাকেজের নির্মাণকাজের চুক্তি সই করেছে সরকার। এর মাধ্যমে ঢাকার গণপরিবহন নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণে প্রকল্পটির বাস্তবায়ন আরও এক ধাপ এগিয়েছে। চুক্তির আওতায় ভূগর্ভস্থ টানেল ও স্টেশন নির্মাণের পাশাপাশি রেললাইন, বিদ্যুৎ, সিগন্যালিং ও টেলিযোগাযোগ অবকাঠামো স্থাপন করা হবে।

বুধবার (৪ নভেম্বর) রাজধানীর উত্তরার দিয়াবাড়িতে এমআরটি লাইন-৬-এর ডিপো এলাকায় অবস্থিত মেট্রোরেল ভবনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এসব চুক্তি সই হয়।

বাংলাদেশ সরকার ও জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থার (জাইকা) যৌথ অর্থায়নে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড (ডিএমটিসিএল)।

চার প্যাকেজে ৯.৬৩ কিলোমিটার পাতালপথ

এমআরটি লাইন-১-এর সিপি-০৪ ও সিপি-০৬ প্যাকেজের আওতায় মোট ৯ দশমিক ৬২৯ কিলোমিটার ভূগর্ভস্থ পথ নির্মাণ করা হবে।

সিপি-০৪ প্যাকেজে রামপুরা পাতাল স্টেশনের উত্তর প্রান্ত থেকে নতুন বাজার স্টেশন পর্যন্ত ৪ দশমিক ৪৪৭ কিলোমিটার ভূগর্ভস্থ পথ নির্মাণের কাজ রয়েছে।

অন্যদিকে সিপি-০৬ প্যাকেজের আওতায় নদ্দা পাতাল স্টেশনের উত্তর প্রান্ত থেকে বিমানবন্দর স্টেশন পর্যন্ত ৫ দশমিক ১৮২ কিলোমিটার পাতালপথ নির্মাণ করা হবে।

সিপি-০৯ প্যাকেজে রেললাইন স্থাপনের কাজ করা হবে। এর মধ্যে রেলপাত, টার্নআউট, পয়েন্ট ও ক্রসিং স্থাপনের পাশাপাশি বৈদ্যুতিক অবকাঠামো নির্মাণ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

সিপি-১০ প্যাকেজের আওতায় স্থাপন করা হবে সিগন্যালিং ও টেলিযোগাযোগব্যবস্থা, প্ল্যাটফর্ম স্ক্রিন ডোর এবং এন্টারপ্রাইজ রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (ইআরএমএস)।

সিগন্যালিং ব্যবস্থায় যোগাযোগভিত্তিক স্বয়ংক্রিয় ট্রেন নিয়ন্ত্রণ প্রযুক্তি ব্যবহার করা হবে। টেলিযোগাযোগব্যবস্থায় থাকবে অপটিক্যাল ফাইবারভিত্তিক ট্রান্সমিশন নেটওয়ার্ক এবং এলটিইভিত্তিক রেডিও যোগাযোগব্যবস্থা।

নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ করার তাগিদ সরকারের

চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব ড. মোহাম্মদ জিয়াউল হক বলেন, মেট্রোরেল নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ এবং নিরাপদ, আধুনিক ও পরিবেশবান্ধব নগর পরিবহনব্যবস্থা গড়ে তোলা সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার।

তিনি বলেন, “দেশের প্রথম পাতাল মেট্রোরেল প্রকল্প এমআরটি লাইন-১ ঢাকার গণপরিবহনব্যবস্থায় নতুন অধ্যায়ের সূচনা করবে।”

প্রকল্পে অব্যাহত সহযোগিতা ও অবদানের জন্য জাপান সরকার এবং জাইকাকে ধন্যবাদ জানান তিনি।

চারটি প্যাকেজের চুক্তি স্বাক্ষরকে গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক উল্লেখ করে সচিব সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারদের নির্মাণকাজে সর্বোচ্চ মান ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান। পাশাপাশি শ্রম আইনসহ প্রযোজ্য সব বিধিবিধান মেনে চলার নির্দেশনা দেন।

নির্মাণকাজের কারণে জনদুর্ভোগ যাতে দীর্ঘায়িত না হয়, সে জন্য নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। নির্মাণকালে পরিবেশ সুরক্ষা এবং প্রকল্প এলাকার আশপাশে বসবাসকারী মানুষের কল্যাণকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথাও বলেন সচিব।

প্রকল্পের সুষ্ঠু বাস্তবায়নে বাস্তবায়নকারী কর্তৃপক্ষ, প্রকৌশলী ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে স্বচ্ছ ও কার্যকর সমন্বয়ের ওপরও জোর দেন তিনি।

অবকাঠামো উন্নয়নে সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে জাপান

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশে নিযুক্ত জাপানের রাষ্ট্রদূত সাইদা শিনইচি দুই দেশের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক, পারস্পরিক আস্থা ও উন্নয়ন অংশীদারত্বের প্রশংসা করেন।

স্থবিরতার পর মেট্রোরেল প্রকল্পের বাস্তবায়নকাজ পুনরায় শুরু ও ত্বরান্বিত করার উদ্যোগ নেওয়ায় বাংলাদেশ সরকারকে ধন্যবাদ জানান তিনি।

রাষ্ট্রদূত বলেন, অব্যাহত সহযোগিতা ও অংশীদারত্বের মাধ্যমে বাংলাদেশের অবকাঠামো উন্নয়নে সহায়তা দিতে জাপান প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন ডিএমটিসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শফিকুল আলম। এ ছাড়া জাইকার বাংলাদেশ কার্যালয়ের প্রধান প্রতিনিধি তাকাহাশি জুনকো, প্রকল্পসংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, পরামর্শক প্রতিষ্ঠান এবং ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন